ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শোকসভা ও দোয়া মাহফিলে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। শোকসভায় বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রার্থী মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব প্রকাশ্যে নিজের প্রতীক খেজুর গাছে ভোট চেয়েছেন।
রোববার (৪ জানুয়ারি) সকালে আশুগঞ্জ উপজেলার সরকারি হাজী আব্দুল জলিল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে এ শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সভাপতি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব বলেন, “আমি এমপি হব, যদি আপনারা খেজুর গাছকে ধানের শীষ বানান।” তিনি ধানের শীষের প্রার্থীর মতোই খেজুর গাছ প্রতীকের পক্ষে মাঠে কাজ করার আহ্বান জানান। একইসঙ্গে তিনি ইসলাম, জাতীয়তাবাদ ও দেশের স্বাধীনতা রক্ষায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বকে শক্তিশালী করতে আলেম-উলামাদের একযোগে কাজ করার ঘোষণা দেন।
এসময় জুনায়েদ আল হাবীব ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামলকে তারেক রহমানের ডবলিকেট বলে উল্লেখ করেন।
শোকসভা শেষে ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল ও জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. জহিরুল ইসলাম ভিপি জহির দুই হাত ধরে জুনায়েদ আল হাবীবকে পরিচয় করিয়ে দেন। এ সময় খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল বলেন, “এ আসনে খেজুর গাছই ধানের শীষ। তাই খেজুর গাছ প্রতীককে ভোট দিয়ে বিজয়ী করতে হবে।”
এদিকে তফসিল ঘোষণার পর প্রকাশ্যে দলীয় প্রতীকে ভোট চাওয়াকে নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘন হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
এ বিষয়ে জেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও আশুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাফে মোহাম্মদ ছড়া বলেন, “তফসিল ঘোষণার পর নির্ধারিত সময়ের আগে কোনো প্রার্থী সভা-সমাবেশে ভোট চাওয়াসহ নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে পারবেন না।” তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে আচরণবিধি ভঙ্গের দায়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।