আসন্ন জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের পদত্যাগ দাবি করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। মেয়র পদে বহাল থেকে তিনি যদি কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেন, তবে তা নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারেÑএমন আশঙ্কা প্রকাশ করে দলটি অবিলম্বে তাঁর পদত্যাগের দাবি জানিয়েছে।

গতকাল সোমবার চট্টগ্রাম নগরের দুই নম্বর গেট এলাকায় বিপ্লব উদ্যানে এনসিপি চট্টগ্রাম মহানগরের উদ্যোগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মহানগর এনসিপির যুগ্ম সমন্বয়কারী মোহাম্মদ এরফানুল হক। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র একটি গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী সাংবিধানিক পদ। বর্তমানে সিটি কর্পোরেশন এলাকার চারটি সংসদীয় আসনেই বিএনপির প্রার্থী রয়েছেন। এ অবস্থায় বিএনপি মনোনীত একজন ব্যক্তি মেয়র পদে বহাল থাকলে নির্বাচনে সমান সুযোগ বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়।

এনসিপির নেতারা বলেন, আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে এবং ২৭ জানুয়ারি মেয়রের মেয়াদ শেষ হবে। এই সময়ে মেয়র পদে বহাল থেকে কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে সক্রিয়ভাবে প্রচারণায় অংশ নেওয়া নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধির পরিপন্থী। তাই অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে ডা. শাহাদাত হোসেনকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এনসিপি চট্টগ্রাম মহানগরের যুগ্ম সমন্বয়কারী আরিফ মঈনুদ্দিন বলেন, ‘নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতার স্বার্থে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের দুই ছাত্র উপদেষ্টা পদত্যাগ করেছেন, যদিও তাঁরা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না। একই মানদ- মেয়রের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হওয়া উচিত।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ডা. শাহাদাত হোসেনকে সম্মান করি। তিনি দীর্ঘদিন ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন। আমরা চাই তিনি জনগণের রায়ে মেয়র নির্বাচিত হোন। তবে নির্বাচনের স্বার্থে তাঁকে অবশ্যই ২৭ জানুয়ারির মধ্যে পদত্যাগ করতে হবে। অন্যথায় এনসিপি কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবে।’ এনসিপির অভিযোগ, মেয়র পদে বহাল থেকেই ডা. শাহাদাত হোসেন বিএনপির প্রার্থীদের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন এবং বিভিন্ন সমাবেশের সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করছেন।