বৃষ্টির কারণে দীর্ঘ চার বন্ধ থাকার পর আবারও শুরু হয়েছে খুলনা ওয়াসার পয়ঃনিস্কাশন পাইপ স্থাপন এবং ম্যানহোল নির্মাণের কাজ। গত অক্টোবর মাসের শেষ সপ্তাহে নগরীর মজিদ স্মরণীতে স্থগিত হওয়া ম্যানহোল নির্মাণের কাজ পুনরায় শুরু হয়। পর্যায়ক্রমে নগরীর এম এ বারী সড়ক ও কেডিএ এভিনিউতে পাইপ স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডের গলিতে পাইপ ও ম্যানহোল স্থাপনের কাজও চলছে।

ওয়াসা থেকে জানা গেছে, খুলনা নগরীতে পয়ঃবর্জ্য নিষ্কাশন শোধনের কোনো ব্যবস্থা অতীতে ছিল না। মানুষের বাসাবাড়ির সেপটিক ট্যাংক থেকে মানুষের মল সরাসরি ড্রেনে, ড্রেন থেকে খাল ও নদীতে গিয়ে পড়তে। অনেকে সেপটিক ট্যাংকের সংযোগ ড্রেনেও দিয়ে রাখেন। এতে করে নদী ও খালের পানি ভয়াবহ মাত্রায় দূষণের শিকার হচ্ছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য এশিয়ান উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে পয়ঃনিস্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়।

সূত্রটি জানায়, ২০২০ সালের ২৮ জুলাই ‘খুলনা পয়ঃনিস্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন’ প্রকল্পটি একনেক অনুমোদন দেয়। প্রকল্পের মোট ব্যয় জন্য দুই হাজার ৩৩৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে এডিবির ঋণ এক হাজার ৪০৪ কোটি ৭১ লাখ ও সরকারের নিজস্ব তহবিলের ৯২৯ কোটি ৪২ লাখ টাকা দিচ্ছে। ২০২০ সালের অক্টোবর মাসে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। এর মধ্যে করোনার কারণে দেড় বছর কাজ বন্ধ ছিল। ২০২৩ সালের কেসিসির নির্বাচনের আগে তৎকালীন মেয়রের নির্দেশে কাজ বন্ধ ছিল ৬ মাস। অতি বৃষ্টির কারণে চলতি বছর জুলাই মাস থেকে পুনরায় কাজ বন্ধ হয়ে যায়। জুলাই, আগস্ট, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরের শেষ পর্যন্ত পাইপ স্থাপনের কাজ বন্ধ রাখতে হয়েছে।

সূত্র জানায়, প্রকল্পের আওতায় নগরীর ১৬টি ওয়ার্ডে ২৫৫ কিলোমিটার পয়ঃনিষ্কাশন পাইপ স্থাপন করা হবে। ইতোমধ্যে ১৭২ কিলোমিটার পাইপ বসানো হয়েছে। পাইপের মাঝে মাঝে ১১ হাজার ১৩৮টি পিট বা ম্যানহোল স্থাপনের কথা ছিল। সড়ক খুঁড়ে ৭ হাজার ৪১৯টি ম্যানহোল স্থাপন করা হয়েছে।

কর্মকর্তারা জানান, প্রতিটি বাড়ির সামনেই পয়ঃনিষ্কাশনের পাইপ বসানো হচ্ছে। ওই পাইপের মধ্য দিয়ে পানি ও সেপটিক ট্যাঙ্কের পানি নগরীর ভেতরের আটটি পাম্প স্টেশনে যাবে। সেখান থেকে পাম্প করে বর্জ্য শহরের বাইরে মাথাভাঙ্গা ও ঠিকারা বাঁধে পরিশোধন কেন্দ্র দুটিতে পাঠানো হবে। পরিশোধন কেন্দ্রের কাজও দ্রুত গতিতে চলছে। বৃষ্টিতে এই কাজ বন্ধ হয়নি।

এ ব্যাপারে খুলনা ওয়াসার তত্ত্ববধায়ক প্রকৌশলী ও খুলনা পয়ঃনিস্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক খান সেলিম আহমেদ বলেন, সড়ক খুঁড়ে পাইপ বসানোর পর সড়কটি সংস্কারের জন্য কেসিসিকে আগেই টাকা দেওয়া হয়। ইতোমধ্যে সড়ক সংস্কারের জন্য কেসিসিকে ১১২ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। তারপরও অনেক স্থানে সড়ক সংস্কার হচ্ছে না। এ জন্য কাজ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ওয়াসা নিজেই ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক মেরামতের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আশা করছি এতে ভোগান্তি কমে যাবে।