চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত কলেজের শিক্ষার্থীদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে বিস্তৃত উদ্যোগ নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। স্নাতক (সম্মান) পর্যায়ে ইংরেজি ও আইসিটি বাধ্যতামূলক করা, গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং দেশ-বিদেশের খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সাথে অংশীদারিত্ব বৃদ্ধির মাধ্যমে উচ্চশিক্ষাকে যুগোপযোগী ও মানসম্মত করার প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ মনে করেন, এসব উদ্যোগ তখনই সফল হবে যখন শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় মনোযোগী হবেন এবং শিক্ষকরা অতীতের দলাদলি ভুলে শিক্ষা প্রদানে আত্মনিয়োগ করবেন। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দলাদলি চলতে দেওয়া হবে না, কারণ তা শিক্ষার পরিবেশকে নষ্ট করে এবং উন্নয়নের পথে বাধা তৈরি করে।
বুধবার রাজধানীর মতিঝিলে টিএন্ডটি কলেজের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর দেশে শিক্ষাখাতে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ হয়নি, নেওয়া হয়নি দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষানীতি। শিক্ষক ও পরিচালনা পর্ষদের দলীয় রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ার কারণে শিক্ষাব্যবস্থা প্রায় ধ্বংসের মুখে পৌঁছেছিল। এ বাস্তবতা বদলাতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বিস্তৃত সংস্কার উদ্যোগ নিয়েছে-যা সফল করতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
তরুণ প্রজন্মের ডেমোগ্রাফিক সুবিধা কাজে লাগাতে কারিগরি দক্ষতা অর্জনের গুরুত্বও তুলে ধরেন ভিসি। তিনি টিএন্ডটি কলেজে বিভিন্ন প্রফেশনাল কোর্স চালুর পরামর্শ দেন এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দেন।
নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি প্রযুক্তি দক্ষতা অর্জন করতে হবে, শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে এবং ভালো ফলাফলের মাধ্যমে কলেজের সুনাম বৃদ্ধি করতে হবে-এভাবেই জুলাই আন্দোলনের শহীদদের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা জানানো যাবে।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, টিএন্ডটি কলেজের উন্নয়নে তিনি সবসময় পাশে থাকবেন। বিএনপি ক্ষমতায় এলে কলেজটিকে সরকারি করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
টিএন্ডটি কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ব্যারিস্টার মো. বেলায়েত হোছাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন পরিচালনা পর্ষদের সদস্য জাহিদুল হক, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জহুরুল ইসলাম, নবীনবরণ আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক মিজানুর রহমান খান এবং কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. নুর হোসেন।
এর আগে ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ টিএন্ডটি কলেজের নবনির্মিত আটতলা আইসিটি ভবন উদ্বোধন করেন।