মোঃ আল আমিন, মাধবদী (নরসিংদী) সংবাদদাতা
পবিত্র রমজান মাসের শুরুতেই নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্যের দাম ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে নরসিংদীর মাধবদীর বাজারগুলোতো। এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী চক্ররা পণ্যসামগ্রী গুদামজাত করে বাজারে অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রয় করছে। মাধবদী বাজারে সুষ্ঠু মনিটরিং না থাকার দরুণ অসাধু ব্যবসায়ী বেপোরোয়া হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে মুরগি, ফল, খাসি, গরুর মাংস, লেবু ও খেজুরের দাম উল্লেখ্যযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বাজারে সুষ্ঠু মনিটরিং না থাকায় সব পণ্যের দাম হাঁকিয়ে নিচ্ছে ব্যবসায়ীরা। গতকাল বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সিলেটি লেবু ১০০ থেকে ১২০ টাকা হালি, আর ২০০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি লেবু, গরুর মাংস ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা কেজি, খাসির মাংস ১১০০ টাকা থেকে ১২০০ টাকা, মুরগি ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা কেজি, শসা ৯০ থেকে থেকে ১০০ টাকা কেজি, বেগুন ৮০ টাকা থেকে ৯০ টাকা কেজি, কাঁচা মরিচ ১৬০থেকে ২০০ টাকা কেজি, কলা ৪০ থেকে ৬০ টাকা হালি, খেজুর ৩০০ টাকা থেকে ৮০০ টাকা কেজি, বিক্রি করা হচ্ছে। মাছ, মুরগি খাসি ও গরুর মাংস বাজারের কিছু অসাধু ব্যবসায়ীরা অস্থির করতে বাজারে সিন্ডিকেট তৈরি করে রেখেছে। পবিত্র রমজান মাসে বাজার মনিটরিং জোরদার এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রনে রাখার জন্য স্থানীয় প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেছেন এলাকার সাধারণ ক্রেতারা। গত শুক্রবার বাজার ঘুরে দেখা গেছে, হঠাৎ করেই গরুর মাংসের দাম প্রতি কেজি ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা, খাসি ১১০০ থেকে ১২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। মুরগি ১৭০ টাকা থেকে ১৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। মাধবদী বাজারের একজন মাংস ব্যবসায়ী বলেন বাজারে খাসি এবং গরুর দাম অনেক বেশি। তাই দাম বাড়িয়ে বিক্রি করতে হচ্ছে।
মাধবদী বাজারের মুরগি ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম বলেন, আমাদের আশেপাশের বিভিন্ন স্থানে খামারে মুরগি না থাকায় বাইরে থেকে বেশি দামে মুরগি কিনে আনতে হচ্ছে। এজন্য আমরা বেশি দামে মুরগি বিক্রি করছি। বর্তমানে মাধবদী বাজারে পোল্টি মুরগি ২০০ টাকা, সোনালী মুরগি প্রতি কেজি ৩৭০ টাকা দেশি মুরগি ৬০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। তবে সবজির বাজার তুলনামূলোকভাবে স্থিতিশীল থাকলেও কিছু পণ্যের দাম চড়া রয়েছে। মাধবদী বাজারের ফল ব্যবসায়ী হানিফ মিয়া বলেন, রমজান মাসে ফলের চাহিদা অনেক বেড়েছে। দাম নাগালের বাইরে থাকায় ইফতারের জন্য একটি দুটি করে ফল কিনছেন ক্রেতারা। গত কয়েক দিন ধরে ঊর্ধ্বগতিতে ফলের দাম বাড়ছে। খজুরের দাম অনেক বেশি। তবে অন্যান্য ফলের দামও বেশি। ক্রেতারা ক্ষোভে বলেন, প্রতি বছরই রমজান মাসে সকল প্রকার নৃত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যায়। এবার তার ব্যতিক্রম হয়নি। মাছ, মাংস ও মুরগির দাম অনেক বেশি। তবে সবজীর দাম আমাদের সাধ্যের মধ্যে আছে। সব চেয়ে আশ্চার্যের বিষয় হচ্ছে এক মাস আগে প্রতি কেজি লেবু ১৫-২০ টাকা দরে বিক্রি হতে কিন্তু বর্তমানে প্রতি কেজি লেবু ২০০ টাকা থেকে ২৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বিক্রেতাদের ভাষ্য, পাইকারি বাজারে লেবুর তীব্র সংকট। প্রতি কেজি লেবু কিনতে হচ্ছে ১৫০ টাকা থেকে ১৬০ টাকা কেজি দরে। এলাকার অভিজ্ঞ মহল ও সুশিল সমাজের প্রতিনিধিরা বলেন, বাজারের ব্যবসায়ীদের একাধিক গোডাউন আছে। গোডাউনগুলোতে চাল, ডাল, তেলসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের মজুত করে রাখে। প্রতি বছর রমজান মাসের শুরুতেই এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ীরা কৌশলে বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়িয়ে বিক্রি করে। এলাকার লোকজন ভয়ে মুখ ফুটে কেউ কোনো ধরনের প্রতিবাদ করতে সাহস পায় না। এদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার। গত শুক্রবার জুম্মা নামাজ শেষে নরসিংদী সদর ১আসনের নব নির্বাচিত এমপি খায়রুল কবির খোকন মাধবদী বাজার পরিদর্শনে আসেন তিনি মাধবদী বাজারের নিত্যপণ্য ও সবজি বাজার পরিদর্শন করে কঠিন হুশিয়ারি দিয়ে যান, এসময় তিনি বলেন ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত মূল্য নিলেই আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি আরো জানান, দুর্নিতী ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আমি একটি ওয়েব সাইট খুলেছি সেখানে অনেক অভিযোগ পড়েছে। যার কারণে আমি আজ মনিটরিং করতে নেমেছি। আজ আমি কাউকে জরিমানা বা আইনের আওতায় আনলাম না।