গাজীপুর মহানগরীর বাসন থানায় স্ত্রীকে যৌতুকের জন্য শ্বাসরোধ করে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় ঘাতক স্বামী মোঃ জালাল হোসেন ওরফে দুলু (৩০)-কে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-১ ও র‍্যাব-১৩-এর যৌথ অভিযানিক দল। কুড়িগ্রাম জেলার রাজরাহাট এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ ও র‍্যাব সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ ডিসেম্বর রাত আনুমানিক ২টা ৫০ মিনিটে বাসন থানাধীন চান্দনা এলাকার বনরূপা রোডে রমিজ উদ্দিন দেওয়ানের মালিকানাধীন পাঁচতলা ভবনের তৃতীয় তলার পশ্চিম পাশের ভাড়াকৃত কক্ষে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।

নিহত গৃহবধূ মাসদারা আক্তার সুমা (২৮) ছিলেন আসামি জালাল হোসেনের স্ত্রী। তিনি ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট থানার পূর্ব নড়াইল খালপাড়া এলাকার বাসিন্দা মোঃ মিরাজুল ইসলামের মেয়ে।

প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, যৌতুকের দাবিকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে দাম্পত্য কলহ চলছিল। ঘটনার রাতে সেই বিরোধের জের ধরে জালাল হোসেন তার স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। হত্যার পর লাশ ঘরের ভেতরে তালাবদ্ধ করে রেখে তিনি তার শ্বশুরকে ফোন করে ঘটনার কথা জানান এবং পালিয়ে যান।

খবর পেয়ে বাসন থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয় নারীদের সহায়তায় লাশের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। এ ঘটনায় নিহতের পিতা মোঃ মিরাজুল ইসলাম বাদী হয়ে বাসন থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

ঘটনাটি বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রচারিত হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে আসামিকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে র‍্যাব-১-এর পোড়াবাড়ি ক্যাম্প এবং র‍্যাব-১৩-এর সদর কোম্পানি ছায়া তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, আসামি কুড়িগ্রামের রাজরাহাট থানাধীন নাজিম খান ইউনিয়নের রামকৃষ্ণ মণ্ডলপাড়া এলাকায় আত্মগোপনে রয়েছে।

এরপর ২৬ ডিসেম্বর রাত আনুমানিক ১টা ১০ মিনিটে র‍্যাব-১ ও র‍্যাব-১৩-এর যৌথ অভিযানে ওই এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।

গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের বাসন থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।