দুর্নীতির মামলায় কারাগারে থাকা নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারের স্ত্রী এক্সিম ব্যাংকের সাবেক পরিচালক নাসরিন ইসলামের নামে কুমিল্লায় থাকা ৬০৪ দশমিক ৩৯ শতাংশ জমি জব্দের আদেশ দিয়েছে আদালত। দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ সাব্বির ফয়েজ গতকাল সোমবার এ আদেশ দেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন জানান, ওই জমির দাম দেখানো হয়েছে ৫ কোটি ২৯ লাখ ৪২ হাজার ১০৪ টাকা।
দুদকের পক্ষে সংস্থার সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ শিহাব সালাম জমি জব্দের আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, নাসরিন ইসলাম ক্ষমতার অপব্যবহার করে ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে জ্ঞাত আয়ের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ ২০ কোটি ২৬ লাখ ৫৯ হাজার ৮৫০ টাকার সম্পদ ভোগ দখলে রেখেছেন, সে কারণে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তদন্তকালে বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য মতে জানা যায়, নাসরিন ইসলামের তার নামে থাকা স্থাবর, অস্থাবর সম্পদ বিক্রি, স্থানান্তর করার চেষ্টা করছেন। মামলা নিষ্পত্তির আগে সম্পত্তিসমূহ হস্তান্তর, স্থানান্তর, রূপান্তর/বিক্রি হয়ে গেলে রাষ্ট্রের সমূহ ক্ষতির কারণ রয়েছে।
মুহাম্মদ শিহাব সালাম গতবছর ১৩ এপ্রিল নাসরিন ইসলামের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদের এ মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে বলা হয়, তিনি নিজের নামে ৩৩ কোটি ১৬ লাখ ৩৪ হাজার ৯৫০ টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পদ অর্জন করেন। অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৯০ কোটি ৩২ লাখ ৪৭ হাজার ৭৩৭ টাকা। সে হিসাবে তার মোট সম্পদ প্রায় ১২৩ কোটি টাকা। ২০২৩-২৪ করবর্ষের আয়কর রিটার্ন অনুযায়ী, তার দেনা রয়েছে ২ কোটি ৬১ লাখ ৫৬ হাজার ৬৬৯ টাকা। দেনা বাদ দিলে সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ১২০ কোটি ৮৭ লাখ ২৬ হাজার ১৮ টাকা।
দুদকের দাবি, আয়কর নথি বিশ্লেষণে পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৪২ কোটি ৫৭ লাখ ৩৫ হাজার ৯৯২ টাকা। ২০১০-২০১১ করবর্ষ থেকে ২০২৩-২৪ করবর্ষ পর্যন্ত নাসরিন ইসলামের বৈধ ও গ্রহণযোগ্য আয় পাওয়া গেছে ১৪৩ কোটি ১৮ লাখ ২ হাজার ১৬০ টাকা। সে হিসাবে বৈধ উৎস থেকে সঞ্চিত অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ১০০ কোটি ৬০ লাখ ৬৬ হাজার ১৬৮ টাকা। ফলে বৈধ আয়ের তুলনায় তার নিট সম্পদ ২০ কোটি ২৬ লাখ ৫৯ হাজার ৮৫০ টাকা বেশি পাওয়া গেছে, যা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত বলে দুদকের ভাষ্য। এর আগে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারের বিরুদ্ধেও ৭৮১ কোটি ৩১ লাখ ২২ হাজার ৪৫৪ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের অভিযোগে মামলা করে দুদক।