নড়াইল সংবাদদাতা
পূর্ব শত্রুতার জেরে নড়াইল সদর উপজেলার শিঙ্গাশোল ইউনিয়নের বড়কুলা গ্রামে চারজনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। নিহতরা হলেন-বড়কুলা গ্রামের খলিল শেখ (৬৮), তার ছেলে তাহাজ্জত শেখ (৪০) এবং একই দলের ফেরদাউস হোসেন (৪২) ও প্রতিপক্ষের ওসিকুর ফকির (৩৬)। সোমবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব শত্রুতার জের ধরে শিঙ্গাশোল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যার মো: খায়রুজ্জামান ওরফে খয়ের মোল্যার অনুসারী বড়কুলার বাসিন্দা ওসিকুর ফকিরের লোকজনের সঙ্গে খলিল শেখের দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব সংঘাত চলে আসছিল। পূর্বশত্রুতার জের ধরে এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে।
নিহত খলিল খলিল শেখের স্ত্রী মঞ্জুরা বেগম (৬৫) জানান,সোমবার ভোর রাতে সেহেরী খেয়ে ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম।তারাপুর গ্রাম থেকে সাবেক চেয়ারম্যার মো: খায়রুজ্জামান ওরফে খায়ের মোল্যার ৫০-৫৫ জন লোক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আমাদের বাড়িতে প্রবেশ করে আমার স্বামী ও ছেলেকে কথা আছে বলে ঘর থেকে বের করে নিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে উপুর্যপুরিভাবে শরীরের একাধিক স্থানে কুপিয়ে নৃশংশভাবে হত্যা করে। এছাড়া আমাদের পক্ষের ফেরদাউসকেও একইভাবে কুপিয়ে হত্যা করে বীরদর্পে চলে যায়।
এ ঘটনায় প্রতিপক্ষ গ্রুপের আহত ওসিকুর ফকিরকে নড়াইল সদর হাসপাতালে ভর্তির পর তিনি মারা যান।ঘটনার পর ৫-৬টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আল মামুন শিকদার বলেন, হত্যাকান্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারপূর্বক আইনের আওতায় আনা হবে।পুলিশ এ ব্যাপারে কাজ করছে।এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
নড়াইল-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি বিশ^াস জাহাঙ্গীর আলম ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সান্তনা দেন।এ ঘটনায় জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতারপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।