পরিকল্পিত ও আধুনিক সিলেট নগর গড়ার লক্ষ্যে বিগত ২০২৩ সালের ২৬ অক্টোবর জাতীয় সংসদে পাস হয় সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন ২০২৩। তবে এতোদিন আইনেই সীমাবদ্ধ ছিলো সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম। আইন পাশের দুই বছরের অধিক সময় পর এবার সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সে লক্ষ্য উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। নির্বাহী পরিচালক হয়েছেন মাঠ প্রশাসনের আলোচিত কর্মকর্তা মো. সাদি উর রহিম জাদিদ। পদায়নের পর গত বুধবার নতুন দায়িত্বে যোগ দিয়েছেন জাদিদ। সিলেট জেলার বিশ্বনাথ উপজেলার বাসিন্দা মো. সাদি উর রহিম জাদিদ সবশেষ চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তবে তিনি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসেন সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে। ইউএনও’র দায়িত্বগ্রহণের পর জাদিদের কিছু উদ্যোগের ফলে পিছিয়ে থাকা বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা পর্যটন আকর্ষণীয় স্থানে পরিণত হয়।তারও আগে তিনি মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০১৯ সালে তিনি মৌলভীবাজার জেলার শ্রেষ্ঠ সহকারী কমিশনার (ভূমি) নির্বাচিত হন।
সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক হিসেবে যোগ দেয়ার তথ্য নিশ্চিত করে মো. সাদি উর রহিম জাদিদ বলেন, সিলেট নগরকে পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই কর্তৃপক্ষ গঠন করা হয়েছে। কিছুদিন আগে এর প্রজ্ঞাপন হয়েছে। এখন বিধিমালা তৈরির কাজ চলছে।
তিনি আরও বলেন, এতোদিন এই কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম ছিলো না। এখন কার্যক্রম শুরুর লক্ষ্যেই আমাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক অবস্থায় গণপূর্ত অধিদপ্তরের সিলেট কার্যালয়েই সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম চলবে জানিয়ে তিনি বলেন, পরবর্তী আলাদা অফিস নেয়া হবে ও লোকবল নিয়োগ দেওয়া হবে। ইতিমধ্যে এ প্রতিষ্ঠানের জন্য একজন অতিরিক্ত সচিবকে চেয়ারম্যান হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। অফিসের নিজস্ব ভূমি চেয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে একটি আবেদন দেয়া হবে এবং ধারাবাহিক ভাবে পুরোপুরি কার্যক্রম শুরু হবে বলে তিনি জানান।
নগরবাসী বলছেন, অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠছে সিলেট নগর ও আশপাশ এলাকা। এই নগরকে বাসযোগ্য করতে পরিকল্পিত নগর গড়ার বিকল্প নেই। অপরিকল্পিত ভবন নির্মাণ রোধ ও বাসযোগ্য নগরী গড়ে তুলতে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম দ্রুত চালু করা খুবই প্রয়োজন।
সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম শুরু হলে পরিকল্পিতভাবে সিলেট নগর ও আশাপাশ এলাকা গড়ে উঠবে। ফলে ভবিষ্যত প্রজন্ম একটি আধুনিক ও বাসযোগ্য নগর পাবে বলে করেন নগর বিশেষজ্ঞরা।