বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও ১১ দলীয় জোট প্রধান ডা. শফিকুর রহমান টাংগাইল বাসীকে পরিবর্তনের ডাক দিয়ে ঐক্যের আহবান জানিয়েছেন।তিনি বলেন, আমরা জাতিকে নিয়ে পেছনে যেতে চাই না; আমরা জাতিকে নিয়ে সামনে যেতে চাই। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই যে বাংলাদেশে শিশুটি উপযুক্ত শিক্ষা পাবে, উপযুক্ত নাগরিক হিসেবে সুস্থ হয়ে বড় হওয়ার জন্যস্বাস্থ্যসেবা পাবে। নিরাপদ রাস্তা পাবে, নিরাপদ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পাবে। এরপর যখন বড় হবে হাতে কাজ পাবে। যখন আরো বড় হবে দেশটাকে গড়ে তুলতে পারবে। আমরা সেই বাংলাদেশ চাই যে বাংলাদেশে আমার মা- আমার বোনের নিরাপত্তা ও সম্মান নিশ্চিত হবে। যে বাংলাদেশে প্রত্যেকের অবস্থান মূল্যায়ন হবে।
বুধবার(৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে টাঙ্গাইল শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যজোট টাঙ্গাইল জেলা শাখা এ নির্বাচনী জনসভার আয়োজন করে।
তিনি বলেন সবাইকে সমান দেয়ার নাম ন্যায় বিচার নয়। যার যেটা ন্যায্য পাওনা তাকে সেটাই দিতে হবে-এর নাম ন্যায়বিচার। আমরা সেই বাংলাদেশ চাই যে বাংলাদেশে আইন হবে সবার জন্য সমান। একজন সাধারণ মানুষ অপরাধ করলে তার যে নির্দিষ্ট শাস্তি হবে দেশের প্রেসিডেন্ট প্রধানমন্ত্রী একই অপরাধ করলে তাদেরকেও ছাড় দিয়ে কথা বলা হবে না। তাদেরকেও একই বিচারের মুখোমুখী হতে হবে। বিচারের নামে কোন দায়মুক্তি নাই। এই ন্যায়বিচার যখন কায়েম হবে তখন বাংলাদেশ রকেট গতিতে এগিয়ে যাবে। জুলাইয়ে ন্যায়বিচার ও কর্মের দাবিতে আন্দোলন হয়েছিল। আমাদের তরুণ যুবকেরা বেকার ভাতা নয় কাজ চায়।আল্লাহর ইচ্ছায় ১১ দলীয় জোট সরকার গঠন করলে যুবকদেরকে কাজ দিয়ে সবাইকে নিয়ে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। আমরা আর পেছনে যেতে চাই না। দীর্ঘ সাড়ে ১৫ টি বছর ফ্যাসিবাদ কর্তৃক সবচেয়ে বেশি জুলুমের শিকার হয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। ৫ আগষ্টে ফ্যাসিবাদের পতনের পর ১ টিও প্রতিহিংসা মূলক মামলা ও প্রতিশোধের ঘটনা আমাদের দ্বারা হয়নি।
তিনি বলেন, আমরা সিজনাল পলিটিশিয়ান না। আমরা বসন্তের কোকিল না। যখন নির্বাচন আসবে, নতুন রঙ ধারণ করে সুন্দর সুন্দর কথা নিয়ে আমরা হাজির হবো না। আপনারা সাক্ষী, সাড়ে ১৫ বছর আমাদের উপর এতো জুলুম হওয়ার পরও আমরা একদিনের জন্যও জনগণকে ছেড়ে যাইনি। এই মাটি কামড় দিয়েই আমরা ছিলাম। আল্লাহ আমাদের এখানে রেখেছিলেন। দফায় দফায় জেলে গিয়েছি, ঘর-বাড়ি ছাড়া হয়েছি, অফিসে ঢুকতে পারি নাই। কিন্তু বাংলাদেশে ছিলাম। ভবিষ্যতে দুর্দিন, সুদিন আসবে কিনা -আল্লাহ জানেন, কথা দিচ্ছি আপনাদের ছেড়ে কোথাও যাবো না ইনশা আল্লাহ। আছি, থাকবো। আপনাদের সুখেও থাকবো, দুখেও থাকবো। আমরা এখন একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখছি।
জনসভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, ভাইস চেয়ারম্যান এডভোকেট জোহরা খাতুন জুই, জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ড. খলিলুর রহমান মাদানি, ঢাকা উত্তরাঞ্চলের টিম সদস্য মাওলানা দেলোয়ার হোসাইন, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর ও টাংগাইল ৪ কালিহাতী আসনের এমপি প্রার্থী অধ্যাপক খন্দকার আব্দুর রাজ্জাক, সেক্রেটারি ও টাংগাইল ২ আসনের এমপি প্রার্থী মাওলানা হুমায়ুন কবির, সহকারী সেক্রেটারি ও টাংগাইল ৮ আসনের এমপি প্রার্থী অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম খান, টাংগাইল ৭ আসনের প্রার্থী অধ্যক্ষ আব্দুল্লাহ তালুকদার, টাংগাইল ১ মধুপুর ধনবাড়ি আসনের প্রার্থী ডা. আব্দুল্লাহ হেল কাফি, টাংগাইল ৬ আসনের প্রার্থী ডা. একেএম আব্দুল হামিদ, টাংগাইল ৩ আসনের প্রার্থী জাতীয় নাগরিক পার্টির সাইফুল্লাহ হায়দার, এনসিপির কেন্দ্রীয় সদস্য সাইফুল ইসলাম, ইত্তিহাদুল উম্মার আমীর মুফতি আব্দুর রহমান মাদানি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিনিয়র সহসভাপতি মুফতি আব্দুল মালেক, জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক মাও. যায়েদ হাবিব, এবি পার্টির আহবায়ক এডভোকেট আলাউদ্দিন খালিদ, ইসলামি ছাত্রশিবিরের জেলা সভাপতি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের প্রমুখ। জনসভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা জামায়াতের আমীর ও টাংগাইল ৫ সদর আসনের প্রার্থী আহসান হাবীব মাসুদ, সঞ্চালনায় ছিলেন জেলা সেক্রেটারি মাওলানা হুমায়ুন কবির ও সহকারী সেক্রেটারি হোসনে মোবারক বাবুল।