দেশকে খুন, ধর্ষণ, চাঁদাবাজী ও দুর্নীতিমুক্ত করে ন্যায়-ইনসাফের সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে হলে কুরআনের শাসন প্রতিষ্ঠার কোন বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম।

তিনি গতকাল বুধবার রাজধানীর একটি মিলনায়তনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তরের হাতিরঝিল পশ্চিম থানা আয়োজিত মাহে রমজান শীর্ষক আলোচনা ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। ঢাকা মহানগরী উত্তরের মজলিশে শূরা সদস্য ও ভারপ্রাপ্ত থানা আমীর নূরুল ইসলাম আকন্দের সভাপতিত্বে এবং ঢাকা মহানগরী উত্তরের মজলিসে শূরা সদস্য ও থানা সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাশেদের সঞ্চালনায় ইফতার মাহফিলে প্রধান আলোচক হিসেবে আলোচনা পেশ করেন মধ্য পেয়ারাবাগ জামে মসজিদের খতিব মুফতি মাওলানা আ ন ম মাঈনউদ্দিন সিরাজী। উপস্থিত ছিলেন থানা কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা গোলাম মাওলা, আকতার হোসাইন, হাবিবুর রহমান মজুমদার, শামীম হোসাইন, আব্দুস সাত্তার, মহানগরী উত্তর ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি আব্দুল্লাহ আল মায়াজ, শ্রমিক কল্যাণ হাতিরঝিল থানা পশ্চিম সভাপতি আব্দুল ওয়াদুদ সরদার ও হাতিরঝিল থানা ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাজজাদ হোসাইন শিহাব প্রমুখ।

ড. রেজাউল করিম বলেন, পবিত্র মাহে রমযানেই মহাগ্রন্থ আল কুরআন আমাদের ওপর নাযিল করা হয়েছে। একই সাথে কালামে হাকীমে আমাদের ওপর দ্বীন কায়েমের অত্যাবশ্যকীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সকল নবী-রাসূলগণকে একই দ্বীন প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব দিয়ে দুনিয়াতে প্রেরণ করছেন। এক্ষেত্রে কোন মতবিরোধ করার সুযোগ নেই। মূলত, ইসলাম আল্লাহ তা’য়ালার পক্ষ থেকে দেওয়া একটি শ^াসত ও পরিপূর্ণ জীবন বিধান। এ বিধান খুবই শক্তিশালী ও কালোত্তীর্ণ। আর এ বিধান পালনের মাধ্যমেই ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে পরিপূর্ণ শান্তি ও ইসনাফ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। কিন্তু রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে দ্বীন প্রতিষ্ঠিত না থাকায় আমরা সে নিয়ামত থেকে বঞ্চিত। তিনি দুনিয়ায় শান্তি ও আখেরাতে মুক্তির জন্য সকলকে কুরআনের ছায়াতলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান।

তিনি বলেন, মালের পবিত্রতা, দারিদ্রবিমোচন ও অর্থনৈতিক ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার জন্য প্রত্যেক সাহেবে নেসাবের ওপর যাকাত ফরজ করা হয়েছে। এ যাকাত আদায় করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের এবং আল্লাহর নির্ধারিত খাত অনুযায়ী তা বিতরণ করার দায়িত্বও রাষ্ট্রের। কিন্তু দেশে ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত না থাকায় এবং দেশে সুদভিত্তিক অর্থনীতি চালু থাকায় দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী যাকাতের ইনসাফপূর্ণ অর্থনীতির কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। কুরআনের শাসন প্রতিষ্ঠিত না থাকায় আমরা সামষ্টিকভাবে ইসলামও পালন করতে পারছি না। তাই দেশে সার্বিক শান্তি ও অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করতে হলে সুদের বিপরীতে যাকাতভিত্তিক অর্থনীতি চালু করতে হবে। তিনি সে স্বপ্নের সমাজ প্রতিষ্ঠায় সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহবান জানান। প্রেসবিজ্ঞপ্তি।