কিশোরগঞ্জ সংবাদদাতা :
মেজর আক্তারুজ্জামান রঞ্জন বলেছেন, ৭১ সনে জামায়াত বলে রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করার মত কোন দল ছিল না। কিশোরগঞ্জেও উল্লেখযোগ্য কোন নেতা কর্মী ছিল না। কিশোরগঞ্জে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী ছিলেন মুসলিম লীগ, মাওলানা আতাহার আলী, মাওলানা মুসলেহ উদ্দিন, হেলিম মৌলানা। এখন মনে হচ্ছে তাদেরকে কেউ মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী হিসেবে চিনে না। সব দোষ জামায়াতের।
তিনি বলেন তারেক রহমান বক্তব্য দিয়েছেন, জামায়াত ৭১ সনে লাখ লাখ মানুষকে নির্যাতন করেছে। সে কার বিরুদ্ধে বক্তব্য দিল। ১৫ বছর আগে তাদের সরকারে জামায়াতের দুইজন মন্ত্রী ছিল। তারা সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে নিজেদেরকে পরিচয় দিয়েছেন। একসাথে আন্দোলন করতে গিয়ে জামায়াতের নেতাদের ফাঁসি হলো। তখন তাদেরকে রাজাকার বলেননি। এখন কেন বলেন। আমি এ কথার প্রতিবাদ করেছি। বর্তমানে জামায়াতের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ একাত্তরে কোন যুদ্ধ অপরাধের সাথে জড়িত নয়।
স্বনামধন্য রাজনীতিবিদ, কলামিস্ট, বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর আক্তারুজ্জামান রঞ্জনকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও সম্মাননা প্রদান করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কিশোরগঞ্জ জেলা শাখা। শনিবার রাতে কিশোরগঞ্জ শহরের জামায়াতে ইসলামীর হলরুমে এ সম্মাননা অনুষ্ঠানে তিনি উপরোক্ত কথা বলেন। কিশোরগঞ্জ জেলা আমীর অধ্যাপক রমজান আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মেজর আক্তারুজ্জামান রঞ্জনের সাহসিকতা, আত্মত্যাগ ও মহান মুক্তিযুদ্ধে তাঁর অসামান্য অবদানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয়। জামায়াত নেতৃবৃন্দ বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগ ও অবদান জাতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। মেজর রঞ্জনের মতো বীরদের জীবনাদর্শ নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেম, সততা ও নৈতিকতার পথে অনুপ্রাণিত করবে।
অনুষ্ঠানটি সৌহার্দ্যপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে সম্পন্ন হয়। সম্মাননা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ জেলা জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমীর মাওলানা মুহাম্মদ তৈয়বুজ্জামান, জেলা নায়েবে আমীর অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আজিজুল হক, জেলা সেক্রেটারি মাওলানা নাজমুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি শামছুল আলম সেলিম, মাওলানা আজহারুল ইসলাম, অধ্যাপক কাজী সাইফুল্লাহ, কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক আজিজুল হক, মাওলানা এম এইচ লোকমান, মাওলানা সানাউল্লাহ, মাওলানা এস এম ইউসুফ, এডভোকেট মোসলেহ উদ্দিন সুমন, খালেদ হাসান জুম্মন, মাওলানা আব্দুল হক, কারী মাওলানা নজরুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। এতে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
শনিবার (২০ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার গচিহাটা কলেজ মাঠে আয়োজিত এক কৈফিয়ত সভায় তিনি বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী আমাকে আশ্রয় দিয়েছে। যদি তারা আমাকে আশ্রয় না দিত, তাহলে হয়তো আমাকে রাস্তায় পড়ে থাকতে হতো। এই বয়সে নতুন করে ঘর বা দল গড়ার সামর্থ্য আমার নেই। আমার ঘরে চাল নেই, চুলা নেই, আমি কীভাবে নতুন ঘর বানাব। এই বয়সে কেউ আমাকে আশ্রয় দেবে না। কিন্তু জামায়াতে ইসলামী আমাকে আশ্রয় দিয়েছে। এজন্য আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। এই কৃতজ্ঞতা আজীবন থাকবে।’
নিজের রাজনৈতিক অবস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আজ হঠাৎ করে দেখছি আমার দাম বেড়ে গেছে। বিএনপির অনেক বন্ধু ফেসবুকে আমাকে নিয়ে লেখালেখি করছে। এতে আমি শুকরিয়া জানাই। তারা এখন বুঝতে পারছে আমি তাদের ঘরের একটি মোটা খুঁটি ছিলাম। আমি নিজে দল ছেড়ে আসিনি, আপনারাই আমাকে বের করে দিয়েছেন। গত তিন বছর আমার সঙ্গে কোনো সম্পর্ক রাখেননি, এমনকি বিয়ের দাওয়াতও দেননি। আজ আমাকে গালাগালি করছেন, এতেও ভালো লাগে, কারণ বুঝি আপনারা আমাকে নিয়ে ভাবছেন।’
সভায় তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই যেখানে মুসলমান, হিন্দু, খ্রিস্টান ও বৌদ্ধ সবাই মিলেমিশে বসবাস করবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি কোনো নির্বাচনে অংশ নেবো না। জামায়াত যদি ক্ষমতায় আসে, তাহলে নিশ্চয়ই তারা আমাকে কোনো ভালো জায়গায় রাখবে।’
জামায়াতের কাছে তিনটি আবদার তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমি চাই দুর্নীতিমুক্ত, চাঁদাবাজিমুক্ত, সন্ত্রাস ও দখলদারমুক্ত বাংলাদেশ। আমরা আর চাঁদা দিতে চাই না, রাস্তাঘাটে নিরাপদে চলতে চাই। দ্বিতীয়ত, সত্য প্রকাশ ও শান্তি প্রতিষ্ঠা চাই, বিশৃঙ্খলা নয়। শান্তির মাধ্যমেই ইসলাম প্রতিষ্ঠা হোক। তৃতীয়ত, সামাজিক ন্যায়বিচার ও মর্যাদা চাই, মানুষ মানুষকে সম্মান করবে।’
এসময় তিনি ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদীর হত্যার বিচার চেয়ে বলেন, ‘আমরা একজন ত্যাগী হাদিকে হারিয়েছি। আমরা এই হত্যার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। যারা এই হত্যার সাথে জড়িত প্রয়োজনে পাতাল থেকে তুলে নেতাদের বিচার করতে হবে। আমরা শুধু বিচারই চাই না শরিফ ওসমান হাদীর রেখে যাওয়া কাজ বাস্তবায়ন করতে চাই।
সভায় মেজর রঞ্জনের ভক্ত-সমর্থকসহ স্থানীয় হাজারো মানুষ অংশ নেন। সভা শেষে শরিফ ওসমান হাদীর রুহের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।
উল্লেখ্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর আক্তারুজ্জামান রঞ্জন মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে দেশের স্বাধীনতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। গত ১৩ ডিসেম্বর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমানের হাতে ফুল দিয়ে বিএনপির সাবেক এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রঞ্জন আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেন।