বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য আ ন ম শামসুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের পেছনে কৃষক ও শ্রমিক শ্রেণীর অবদান ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও গৌরবময়। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকরা সক্রিয়ভাবে স্বাধিনতা সংগ্রামে অংশগ্রহণ করেছিলো। অনেক শ্রমিক অস্ত্র হাতে নিয়ে যুদ্ধে অংশ নেন, আবার কেউ কেউ গোপনে মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতা করেন খাদ্য, আশ্রয় ও তথ্য সরবরাহের মাধ্যমে।

গতকাল বৃহস্পতিবার স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি আ ন ম শামসুল ইসলাম-এর সভাপতিত্বে এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আলমগীর হোসাইন-এর সঞ্চালনায় এতে আরও উপস্থিত ছিলেন ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি অধ্যাপক হারুনুর রশিদ খান, লস্কর মোহাম্মাদ তসলিম,কবির আহমদ, মজিবুর রহমান ভূইয়া, সহ-সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম, মাওলানা মহিব্বুল্লাহ প্রমুখ।

তিনি আরও বলেন, ২৬ মার্চ স্বাধিনতা ঘোষণার পরে বিশেষ করে রেল, জুট মিল, বন্দর ও কারখানার শ্রমিকরা পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে নানাভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। তারা সাপ্লাই লাইন ব্যাহত করে শত্রুদের দুর্বল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। স্বাধীনতার সংগ্রামে এই শ্রমজীবী মানুষের আত্মত্যাগ জাতি আজও গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে। কিন্তু স্বাধীনতার ৫৪ বছরেরও বেশি সময় পরেও দেশের অনেক শ্রমজীবী মানুষ এখনও ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত। নিম্ন মজুরি, অনিরাপদ কর্মপরিবেশ, অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা এবং সামাজিক নিরাপত্তার অভাব তাদের দৈনন্দিন জীবনের বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে গার্মেন্টস, নির্মাণ ও অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকরা নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।

শামসুল ইসলাম বলেন, শ্রম আইন বাস্তবায়নের ঘাটতি এবং যথাযথ তদারকির অভাবে শ্রমিকদের অধিকার ও সম্মান উপক্ষিত হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য মজুরি ও সুবিধা দাবি করলেও তা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয় না। অন্যদিকে সরকার শ্রমিকদের কল্যাণে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে দাবি করা হয়। ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি, শ্রমিক কল্যাণ তহবিল এবং কর্মপরিবেশ উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে বাস্তব প্রয়োগে এখনও অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। নতুন সরকারের প্রতি তিনি আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশের উন্নয়নের ধারাকে টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে শ্রমজীবী মানুষের অধিকারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। শ্রম আইন বাস্তবায়নে তদারকি, শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিতকরণ, নিরাপদ ও মানবিক কর্মপরিবেশ গড়ে তোলা এবং তাদের সামাজিক নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করা জরুরি। পাশাপাশি শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি ও মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে একটি জবাবদিহিমূলক ও শ্রমবান্ধব নীতিমালা প্রণয়নের মাধ্যমে দেশকে সত্যিকার অর্থে ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান।