গোমস্তাপুর (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) সংবাদদাতা: চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার বিভিন্ন সড়কে বছরের পর বছর ধরে দাঁড়িয়ে থাকা মরা গাছগুলো এখন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে গোমস্তাপুর, ভোলাহাট, নাচোল ও শিবগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন আঞ্চলিক সড়কে এসব গাছের শাখা-প্রশাখা শুকিয়ে গিয়ে যেকোনো মুহূর্তে ভেঙে পড়তে পারে। ইতিপূর্বে বেশ কয়েকটি গাছ রাস্তার উপর ভেঙে পড়েছিল। তবে অল্পের জন্য অনেকেই প্রাণে বেঁচে গেছে। ফলে সাধারণ পথচারী থেকে শুরু করে যানবাহনের চালকরা রয়েছেন চরম ঝুঁকিতে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব গাছ দীর্ঘদিন ধরে মরা অবস্থায় রয়েছে। বৃষ্টির দিনে বা প্রবল বাতাসে প্রায়ই ডালপালা ভেঙে পড়ে গিয়ে ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটে। অনেক ক্ষেত্রে গাছ উপড়ে পড়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুর- ভোলাহাট, রাধানগর- বংপুর, পার্বতীপুর- রহনপুর-কানসাট-সোনামসজিদ

সড়কের পাশে এমন বহু শুকনো ও মরা গাছ দেখা যায়। বিশেষ করে পুরনো শিরিষ, কড়ই, মেহগনি ও বটগাছের কাণ্ডগুলো এখন ফাঁপা ও ভঙ্গুর হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. আমিনুল ইসলাম বলেন,

“আমরা প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করি। বাতাস বা ঝড়ের দিনে মনে হয় মাথার উপর থেকেই গাছ পড়বে। অনেকবার এলজিইডি বা বন বিভাগের কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে, কিন্তু এখনো কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি।”

রহনপুর পৌর এলাকার বাসচালক রবিউল হক বলেন, “দিনে দিনে গাছগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে। কিছু গাছ তো হেলে পড়েছে রাস্তার দিকে। দুর্ঘটনা ঘটলে দায় নেবে কে?”

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, গাছ অপসারণে প্রশাসনিক অনুমোদনের প্রয়োজন হওয়ায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয় না। তবে জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় শিগগিরই এসব বিপজ্জনক গাছ অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার একজন বন কর্মকর্তা (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) জানান, পূর্ববর্তী সরকার আমলে অনেক স্থানে গাছ চিহ্নিত করে টেন্ডারের প্রসেস হচ্ছিল; কিন্তু তা অদৃশ্য কারণে ভেস্তে গেছে। আবারো

“বিপজ্জনক গাছ চিহ্নিত করে তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসনের অনুমোদন পাওয়ার পর ধাপে ধাপে সেগুলো অপসারণ করা হবে।”

প্রতিনিয়তই বাড়ছে যানবাহনের সংখ্যা, আর তার সঙ্গে ঝুঁকিও। সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের।