চুয়াডাঙ্গা সংবাদদাতা : চুয়াডাঙ্গার দর্শনার ঐতিহ্যবাহী রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প প্রতিষ্ঠান কেরুজ চিনিকলে ১০৪ জন মৌসুমি শ্রমিককে স্থায়ী করার ঘটনাটি শেষ পর্যন্ত বড় ধরনের অনিয়ম ও ঘুষ-বাণিজ্যের ঘটনায় রূপ নিয়েছে। দীর্ঘ অনুসন্ধান, আদালতের হস্তক্ষেপ এবং শিল্প মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের একাধিক তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মোশারফ হোসেনসহ ৫ মহাব্যবস্থাপক ও মোট ১০ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে শিল্প মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশন পৃথকভাবে তদন্ত কমিটি গঠন করে। দুটি কমিটি পাচ দফায় কেরুজ চিনিকলে সরেজমিন তদন্ত চালায়। সব প্রতিবেদন পর্যালোচনা শেষে করপোরেশন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

গত ১০ ডিসেম্বর শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও করপোরেশনের চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) রশিদুল হাসানের স্বাক্ষরিত চিঠিতে জানানো হয়, অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে অবহেলা ও অসদাচরণের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে।

সে হিসেবে বিভাগীয় শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে যাদেরকে তারা হলেন সাবেক এমডি মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন, সাবেক এডিএম ইউসুফ আলী, সদর দপ্তরের তৎকালীন প্রতিনিধি ও বর্তমানে কুচ্ছিা চিনিকলের এডিএম সাইফুল আলম, কেরুজ চিনিকলের মহাব্যবস্থাপক (অর্থ) আব্দুছ ছাত্তার, মহাব্যবস্থাপক (কারখানা) সুমন সাহা, মহাব্যবস্থাপক (কৃষি) আশরাফুল আলম ভূঁইয়া, মহাব্যবস্থাপক (ডিস্টিলারি) রাজিবুল হাসান, পরিবহন বিভাগের প্রকৌশলী আবু সাঈদ, খামার ব্যবস্থাপক সুমন কুমার সাহা এবং প্রশাসন বিভাগের আলআমিন।

তাদের প্রত্যেকের ২০২৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বেতন বর্ধন স্থগিত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি মোশারফ হোসেন, সাইফুল আলম, ইউসুফ আলী ও আলআমিনকে নিয়োগকালীন মূল বেতনে অবনমিত করা হয়েছে।

রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প প্রতিষ্ঠানে এই সিদ্ধান্তকে অনিয়ম ও ঘুষ-বাণিজ্যের বিরুদ্ধে একটি শক্ত বার্তা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে শ্রমিক ও সচেতন মহলের দাবি-বিভাগীয় শাস্তির পাশাপাশি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের বিষয়েও ফৌজদারি তদন্ত ও দুর্নীতির অর্থ উদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

এ বিষয়ে কেরু এন্ড কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ রাব্বিক হাসান জানান, সদর দপ্তরের চিঠির আলোকে অভিযুক্ত ওই দশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।