সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার আটুলিয়া ইউনিয়নে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে বিশাল নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২৬ নভেম্বর) বিকাল ৩টায় নওয়াবেঁকী বিড়ালাক্ষী কাদেরিয়া ফাজিল মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ আয়োজনকে ঘিরে সকাল থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ মাদ্রাসা মাঠে ভিড় করতে থাকেন। দুপুরের পর জনসমাগম আরও বাড়তে থাকে, যা দীর্ঘদিন পর এ ইউনিয়নে বিরল চিত্র।

ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর মাওলানা মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম।

বক্তৃতায় তিনি বলেন, “উপকূলের মানুষের বঞ্চনা কোনো নতুন বিষয় নয়—দশকের পর দশক ধরে পানি–সংকট, কর্মসংস্থানহীনতা, ন্যায্যমূল্যের অভাব আর দুর্বল যোগাযোগব্যবস্থা তাদের জীবন কঠিন করে তুলেছে। আমরা চাই মানুষের আস্থা নিয়ে এসব সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে। ভয় নয়—জনগণের ভালোবাসাই আমাদের শক্তি। সুষ্ঠু ভোট নিশ্চিত হলে জনগণের সিদ্ধান্তই উন্নয়নের নতুন ভবিষ্যৎ রচনা করবে।”

সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা আব্দুর রহমান, সাবেক উপজেলা আমীর মাওলানা আব্দুল মজিদ, সহকারী অধ্যাপক আব্দুল জলিল, উপজেলা শুরা সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা অহিদুজ্জামান ও উপজেলা সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল হামিদ। তারা বলেন, যোগ্য ও সৎ নেতৃত্ব ছাড়া মানুষের কল্যাণ সম্ভব নয়। মাঠ পর্যায়ে গণসংযোগ জোরদার করে ভোটারদের কাছে দলের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান নেতারা।

বক্তারা উপকূলীয় অঞ্চলের সুপেয় পানির সংকট, কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য, কর্মসংস্থান সৃষ্টির অভাব, সড়ক–যোগাযোগের দুরবস্থা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নসহ স্থানীয় গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার কথা তুলে ধরে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির গুরুত্ব তুলে ধরেন।

এর আগে সকাল থেকে গাজী নজরুল ইসলাম আটুলিয়া আব্দুল কাদের স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সোহরাবিয়া দাখিল মাদ্রাসা, রাবেয়া খাতুন মহিলা দাখিল মাদ্রাসা, নওয়াবেঁকী হাইস্কুল ও কলেজসহ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক–শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। পাশাপাশি বিভিন্ন গ্রাম এলাকায় সাধারণ মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। সন্ধ্যায় তিনি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গেও অনির্ধারিত বৈঠক করেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন পর এত বড় সমাবেশ হওয়ায় আটুলিয়ার রাজনীতিতে নতুন উচ্ছ্বাস তৈরি হয়েছে। জনসভা থেকে নেতাকর্মীদের নির্বাচনী মাঠে আরও সক্রিয় থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয় এবং সাংগঠনিক প্রচারণা জোরদারের ঘোষণা আসে।