সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা : সীতাকুণ্ড বাঁশবাড়িয়া এলাকায় বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে বসুন্ধরা গ্রুপ সমুদ্র উপকুল থেকে স্থানীয়া আওয়ামী নেতাদের মাধ্যমে সমুদ্রে ড্রেজার বসিয়ে শত শত একর কৃষি জমি ভরাট করেছে। জুলাই বিপ্লবের পর সমুদ্র থেকে বালু উত্তোলন প্রতিযোগিতা হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। কেউ কেউ বন্দর থেকে অনুমতি নিয়ে আসলেও নামে বেনামে প্রায় অর্ধশত ড্রেজার এখন নিয়মিত সমুদ্র থেকে বালু উত্তোলন করছে। রাত হলেই সীতাকুণ্ড সমুদ্র উপকুলে চলছে বালু উত্তোলনের মহোৎসব। বালু উত্তোলনের ঘটনায় ইতিমধ্যে প্রাণ হারিয়েছে কয়েকজনের। বালু বিক্রি কে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে চাঁদাবাজির সিন্ডিকেট। বধৈ বালু উত্তোলন কারীরা অভিযোগ করছে প্রতিটি এলাকায় তাদের বালুর গাড়ি গেলেই চাঁদা দিতে হচ্ছে। তাছাড়া অনুমতি না নিয়েও কুমিরা, বাঁশবাড়িয়া, বাড়বকুণ্ড,সৈয়দপুর এলাকার সমুদ্র থেকে বালু উত্তোলন করছে বিভিন্ন নেতার নাম ভাঙ্গিয়ে।
‘‘বালু খেকোর দল আমাদের শত শত জাল কেটে ছিন্নভিন্ন করেছে। নদীতে জাল ফেললেই তারা কেটে টুকরো টুকরো করে দেয়। গত কয়েক মাসে বালু খেকোদের এমন আচরণে কয়েকশ জেলে পরিবার আজ নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। এখনই যদি এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তাহলে আমরা জেলেরা একেবারে সর্বস্বান্ত হয়ে যাব।’’
সম্প্রতি সীতাকুণ্ড উপজেলা পরিষদ চত্বরে বালু উত্তোলন বন্ধ এবং জালের ক্ষতিপূরণের দাবিতে বিক্ষোভ করতে এসে এসব কথা বলেন জেলেরা।
মুরাদপুর ইউনিয়নের গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকত এলাকা থেকে আসা জেলেরা এ সময় অভিযোগ করেন, সাগর উপকূলে বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত ড্রেজার ও বাল্কহেডের মাধ্যমে তাদের মাছ ধরার জাল কেটে ফেলা হচ্ছে। নদীতে জাল ফেললেই তা কেটে নষ্ট করে দেওয়া হয়। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করতে গেলে জেলেদের মারধর ও হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা।
জেলেরা আরও বলেন, গত বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি জাল কাটার প্রতিবাদ করতে গিয়ে রাম জলদাস নামের এক জেলেকে মারধর করে নদীতে ফেলে হত্যা করা হয়। তার ছোট ভাই লিটন জলদাসকে অপহরণ করা হয়। চার দিন পর গুলিয়াখালী সমুদ্রতীরে রাম জলদাসের লাশ ভেসে ওঠে। সেই ঘটনার কথা মনে হলে এখনও আমরা আঁতকে উঠি। এমন পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়ে জেলের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিতে এসেছেন বলে জানান তারা। তাছাড়া সম্প্রতি বাড়বকুণ্ড এলাকায় সমুদ্র উপকুলে বালু উত্তোলনে তেল বানিজ্য নিয়ে এক দারোয়ানকে খুণ করা হয়েছে আহত হয়েছে আরও একজন।
বিক্ষোভ শেষে জেলেরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফখরুল ইসলামের বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত কয়েক মাসে ২ শতাধিক জেলের অন্তত ৮০০টি মাছ ধরার জাল কেটে ফেলা হয়েছে। এতে প্রায় ২ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। বিভিন্ন এনজিও সং¯’া থেকে ঋণ নিয়ে জাল ক্রয় করলেও বর্তমানে কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে না পেরে জেলেরা চরম বিপাকে পড়েছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোতাছিম বিল্লাহ জানান, শুধুমাত্র জাল কেটে জেলেদের ক্ষতি করা হচ্ছে তা নয়, উপকূলে অব্যাহত বালু উত্তোলনের ফলে মাছের আবাস¯’ল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ড্রেজারের মাধ্যমে নদী ও সাগরের তলদেশ পরিবর্তিত হওয়ায় মাছের প্রজনন ক্ষেত্র ধ্বংস হচ্ছে। এছাড়া পানির ঘোলা ভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় মাছের খাদ্য ও বংশবিস্তার ব্যাহত হচ্ছে।
জেলেদের বিক্ষোভ ও লিখিত অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফখরুল ইসলাম বলেন, জেলেদের অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।