বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেছেন, চিকিৎসকরা সমাজের প্রভাবশালী শ্রেণি ফলে সমাজ পরিবর্তনে তাদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। জুলাই গণঅভ্যুত্থানসহ বাংলাদেশের সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে চিকিৎসকদের অংশগ্রহণ ও ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রশংসনীয়। আহত জুলাই যোদ্ধাদের সু-চিকিৎসা না দিয়ে হাত-পা কেটে পঙ্গু করে দিতে শেখ হাসিনা নিটোর হাসপাতালসহ বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসকদের নির্দেশ দিলেও দেশপ্রেমিক চিকিৎসকগণ সেই নির্দেশে কাজ করেনি। বরং তারা আহত জুলাই যোদ্ধাদের সু-চিকিৎসা দেয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করেছে। এমন বহু চিকিৎসক আছেন যারা আহত জুলাই যোদ্ধাদের বিনামূল্যে চিকিৎসা দিয়েছেন এমনকি আর্থিক সহযোগিতাও করেছেন। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী দোসর কয়েকজন চিকিৎসকের অনৈতিক ও অপকর্মের দায় পুরো চিকিৎসক সমাজের উপর চাপিয়ে দেয়া হলে সেটিও হবে একটি জুলুম।
গত সোমবার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের মেডিকেল বিভাগের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত ষান্মাসিক শিক্ষা বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এসময় তিনি আরো বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী জাতি নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখছে। এই স্বপ্ন বাস্তবায়নে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও জবাবদিহিতা মূলক নির্বাচন এখন সময়ের দাবি। সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে নির্বাচনের আগে রাষ্ট্রের সংস্কার, সকল গণহত্যার বিচার নিশ্চিত এবং সকল দলের সমান অধিকার তথা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে। নতুবা যেনতেন একটি নির্বাচন দিলে নতুন করে আরেক ফ্যাসিবাদের আবির্ভাব ঘটবে। হাজারো ছাত্র-জনতার এতো রক্ত, এতো জীবনের বিনিময়ে অর্জিত নতুন বাংলাদেশে আর কোন ফ্যাসিবাদের উত্থান ঘটতে দেয়া হবে না। কেউ যদি আওয়ামী লীগের মতোই নিজেদেরকে এদেশের মালিক ভাবতে শুরু করে তবে তাদের উচিত হবে আওয়ামী লীগ থেকে শিক্ষা নেয়া। নয়তো আওয়ামী লীগের মতোই তাদেরকেও পালিয়ে যাওয়া ছাড়া উপায় থাকবে না। সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি, লুটপাট, দখলদারিত্ব, দুর্নীতি, পাথর দিয়ে থেঁতলে-থেঁতলে মানুষ হত্যা করে কখনো জনগণের হৃদয় স্থান করে নেয়া যায় না, যাবে না। তাই যারা এসব অপকর্ম করে তাদেরকে এগুলো পরিহার করে জামায়াতে ইসলামীর সুশৃঙ্খল রাজনীতি অনুসরণ করে জামায়াতে ইসলামীর মতো জনগণের হৃদয়ে স্থান করে নিতে তিনি আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি দেলওয়ার হোসেন চিকিৎসকদের নীতি-নৈতিকতার প্রশ্নে দৃঢ় থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ডাক্তার শুধু রোগীর চিকিৎসক নন, তিনি সমাজের পথপ্রদর্শকও। তাই মানবসেবাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালনে আপোষহীন থাকতে হবে।
মহানগরী মজলিসে শূরা সদস্য ও মেডিকেল বিভাগ দক্ষিণের সভাপতি ডা. এমজি ফারুকের সভাপতিত্বে এবং মহানগরী মজলিসে শূরা সদস্য ও মেডিকেল বিভাগ দক্ষিণের সেক্রেটারি ডা. মোহাম্মদ মারুফ শাহরিয়ারের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত শিক্ষা বৈঠকে মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য ও পেশাজীবি জোন-১ এর সহকারি পরিচালক এডভোকেট এসএম কামাল উদ্দিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামসহ বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।