স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে সারাদেশের সরকারি, বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত বিভিন্ন স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টরা দীর্ঘদিন ধরে চরম বৈষম্যের শিকার হয়ে মানবিক সেবা দিয়ে আসছেন। অন্যান্য ডিপ্লোমাধারী পেশাজীবীরা ইতোমধ্যে ১১তম গ্রেড থেকে ১০ম গ্রেডে উন্নীত হলেও মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের ন্যায্য দাবি আজও বাস্তবায়িত হয়নি।

বর্তমানে তাদের ১০ম গ্রেডে উন্নীতকরণের ফাইলটি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়াধীন থাকলেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও সময়ক্ষেপণের কারণে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি।

দীর্ঘদিনের আন্দোলন, দাপ্তরিক যোগাযোগ, স্মারকলিপি প্রদান এবং নিয়মতান্ত্রিক সকল প্রক্রিয়া অনুসরণের পরও প্রত্যাশিত সিদ্ধান্ত না আসায় দাবির প্রতি সরকারের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে দাবি আদায়ের লক্ষ্যে দেশব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে রবিবার (৩০ নভেম্বর) সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত যশোরের আড়াইশো বেড হসপিটালসহ সকল সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্ট সদস্যরা দুই ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন করেন।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা, স্বাস্থ্য উপদেষ্টা, স্বাস্থ্য সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসক, সিভিল সার্জনসহ সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তর বরাবর স্মারকলিপি প্রদান এবং গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। সংগঠনের নেতারা জানান উল্লেখিত সময়সীমার মধ্যে দাবি বাস্তবায়িত না হলে ধাপে ধাপে কর্মসূচি কঠোর হবে। প্রথমে চার দিনের কর্মবিরতি, তারপর দুই ঘণ্টার প্রতিদিনের কর্মস্থল অবস্থান কর্মসূচি, অর্ধদিবস ও পূর্ণদিবস কর্মবিরতির পর শেষ পর্যায়ে লাগাতার কমপ্লিট শাট-ডাউন পালন করা হবে। তবে কর্মসূচির সময় অতীব জরুরি স্বাস্থ্যসেবা সীমিত আকারে চালু থাকবে।

আজকের কর্মবিরতি চলাকালে বক্তব্য দেন এমটিএফ সভাপতি হাসানুজ্জামান, ফার্মাসিস্ট ঐক্য পরিষদের সেক্রেটারি জহুরুল ইসলাম, হাসপাতালের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ইনচার্জ মৃত্যুঞ্জয় রায়, মোহাম্মদ নুরুজ্জামান, ফার্মাসিস্ট রাজু আহম্মেদ, প্যাথলজি ল্যাব ইনচার্জ পারভেজ হোসেন, ব্লাড ব্যাংক ইনচার্জ চঞ্চলসহ সংগঠনের নেতারা।

তারা বলেন, “আমরা বৈষম্যের অবসান চাই, ন্যায্য অধিকার চাই। সরকারের কাছে আমাদের একটাই দাবি ডিপ্লোমা মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের ১০ম গ্রেড দ্রুত বাস্তবায়ন করা হোক।

কর্মসূচির কারণে সাময়িক স্বাস্থ্যসেবা বিঘ্নিত হওয়ায় তারা দুঃখ প্রকাশ করেন এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত একতাবদ্ধ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।