মো. রফিকুল ইসলাম, কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) : এক সময় সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী ঘোড় দৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হত। প্রায় দুই যুগ পূর্বে কালিগঞ্জ উপজেলার বসন্তপুর বিলে, গুল্লার বিলে, ঘোড়া দৌড় প্রতিযোগিতা হত। এই ঘোড়া দৌড় দেখার জন্য জেলার বিভিন্ন গ্রাম-গঞ্জ থেকে দর্শকরা আসতো আনন্দ উপভোগ করতে। এমনকি জেলার বাহিরে থেকেও দর্শকরা আসতো। ঘোড়া দৌড় আরম্ভ শুরু হওয়ার পূর্বে একজন ঘণ্টা বাজায় সাথে সাথে ঘোড়ার দল দৌড়াতে শুরু করে। ৮/১০ টা ঘোড়া এক সাথে দৌড়ায় ঘোড়া দৌড়ের কমিটি ৫ থেকে ৭ বার করে নিশানা পাশ ঘোরে তারপর নির্ধারন হয় ১ম, ২য় ও ৩য় স্থান অধিকারী ঘোড়া। ঘোড়া দৌড় একটি আনন্দ দায়ক খেলা। বর্তমানে এ ঘোড়া দৌড় বিলুপ্তি হতে চলেছে।

সূত্রে জানা যায়, গত ২০২৩ সালের ১০ জুন কালিগঞ্জ উপজেলার ধলবাড়িয়া ইউনিয়নের উকশা বিলে হয়েছিল ঐতিহ্যবাহী ঘোড়া দৌড়। প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলো গোপালগঞ্জ, খুলনা, যশোর, নড়াইল, সাতক্ষীরা, মনিরামপুর, কেশবপুর, কয়রা, শ্যামনগরসহ বিভিন্ন এলাকার ৩২টি ঘোড়া অংশ নেয়। এর মধ্য থেকে প্রথম স্থান অধিকার করে টাইগার, দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে বাহাদুর ও তৃতীয় স্থান অধিকার করে সোনার হরিণ। ঘোড়া দৌড় আরম্ভ হওয়ার পূর্বে কোন কোন জায়গা দিয়ে ঘুরে আসতে হবে তার নিশানা দেখিয়ে দেওয়া হতো। বিলের ধারে দাঁড়িয়ে অসংখ্য দর্শক ঐতিহ্যবাহী ঘোড়া দৌড় প্রতিযোগিতা উপভোগ করতেন। এতে সেখানে উৎসবের আমেজ তৈরি হত। আবার একজন আরেক জনের ঘোড়ার উপরে বান মরতো, যে ঘোড়ার বান মারতো সে ঘোড়া আর ছুটতে পারতো না। এই খেলায় শুধু সাধারণ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকত। তাদের হাত দিয়ে ১ম,২য় এবং ৩য় স্থান অধিকারী ঘোড়ার মালিককে পুরস্কার দেওয়া হতো। এখন আর ঘোড় দৌড় প্রতিযোগিতা না হওয়ার কারণ জানতে চেয়ে ছিলাম, এলাকার কয়েকজন ঘোড়া দৌড় খেলা অনুরাগী মানুষের কাছে তারা দৈনিক সংগ্রামকে জানান, যে সব বিলে ঘোড়া দৌড় খেলা হতো সে সমস্ত বিলে হয়েছে মৎস্য ঘের। ঘোড়া ছুট দেওয়ার মতো জায়গা নেই।