শিবালয় (মানিকগঞ্জ) সংবাদদাতা : মানিকগঞ্জের ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ভ্যান, অটোরিকশার ২৫ থেকে ৩০টি অবৈধ স্ট্যান্ড গড়ে উঠেছে। যানজট সৃষ্টির পাশাপাশি এসব স্ট্যান্ড থেকে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মহাসড়ক দাপিয়ে বেড়াচ্ছে তিন চাকার যানগুলো। অহরহ ঘটছে দুর্ঘটনা। স্ট্যান্ডকেন্দ্রিক সিরিয়ালের নামে চাঁদাবাজি ছাড়াও হাইওয়ে থানার পুলিশকে মাসোহারা দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের শিবালয়ের উথলী, টেপড়া, বরংগাইল, ফলষাটিয়া, মহাদেবপুর, ঘিওরের পুখুরিয়া, বানিয়াজুরিসহ বিভিন্ন স্থানে যানজট নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। ওইসব স্থানে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মহাসড়কে চলাচল নিষিদ্ধ যানবাহন সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, ভ্যান, হ্যালোবাইক, নছিমন-করিমনসহ বিভিন্ন পদের থ্রি-হুইলার দাঁড়িয়ে থাকায় দূরপাল্লার বাস চলাচল বিঘিœত হচ্ছে। যানজটের পাশাপাশি বাসে স্বাভাবিকভাবে যাত্রীদের ওঠানামা করতেও ভোগান্তিতে পড়তে হয়। ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বিভিন্ন সংযোগ সড়ককে কেন্দ্র গড়ে উঠেছে এসব বাহনের ২৫-৩০টি অবৈধ স্ট্যান্ড। যাত্রীর আশায় মূল সড়কে উঠে দাঁড়িয়ে থাকে বাহনগুলো। এর বাইরে মানিকগঞ্জ শহর থেকে আরিচা ঘাট পর্যন্ত ৩৬ কিলোমিটার সড়কে নির্ধারিত বাসস্ট্যান্ড রয়েছে সাতটি।মহাসড়কে নিষিদ্ধ এসব যানবাহনের ছড়াছড়ি হলেও প্রশাসনের ভূমিকা রহস্যজনক বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয়রা। তারা বলছেন, হাইওয়ে পুলিশের সামনেই অবাধে চলাচল করছে এসব বাহন। মহাসড়কে প্রতিদিন হাজার হাজার বড় বাস ট্রাক ও কোচের সঙ্গে পাল্লা দিয়েই চলাচল করছে এগুলো। প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক আসলাম শেখ ও সুমীর শেখ এবং হ্যালোবাইক চালক আফজাল হোসেন ও মজিদ হোসেন বলেন, এসব যানবাহন মহাসড়কে চালানো অবৈধ, এটি তারা জানেন। বরংগাইল হাইওয়ে পুলিশের থানাকে ম্যানেজ করেই এসব চালাতে হয়।

আরেক চালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমরা হাইওয়ে পুলিশকে ম্যানেজ করে যানবাহন চালাচ্ছি।

ট্রাকচালক ফজলু শেখ, সাবদুল শেখ ও মতিয়ার হোসেন বলেন, আমাদের বড় গাড়ির কাগজপত্র দেখার নামে রাস্তায় দাঁড় করিয়ে রেখে হয়রানি করা হয়। তাদের চাহিদা অনুযায়ী ম্যানেজ করতে হয়। তাদের ম্যানেজ না করলে বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে মামলা দিয়ে দিচ্ছে। কিন্তু তিন চাকার যানবাহনগুলো ইচ্ছেমতো চললেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। দিগন্ত পরিবহনের একটি বাসের চালক জুলহাস হোসেন বলেন, মহাসড়কে সিএনজিচালিত অটো, হ্যালোবাইক আমাদের দ্রুতগামী বাসকে সাইড দিতে চায় না। মহাসড়ক দখল করেই চলাচল করে তারা। এ কারণে প্রায়ই বড় গাড়ির সঙ্গে এসব অবৈধ যানবাহনের দুর্ঘটনা হচ্ছে। হাইওয়ে থানার পুলিশ কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় মহাসড়কে অবৈধ যানবাহনের চলাচল দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এদিকে,আরিচা, উথলী, বরংগাইল থেকে সিরিয়ালের নামে অবৈধভাবে ২০ থেকে শুরু করে ৫০ টাকা করে তিন চাকার যান থেকে চাঁদা নেয়া হচ্ছে বলে এসব বাহনের চালকরা জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে বরংগাইল-নাগরপুর সড়কে চলাচলরত সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে চাঁদা উত্তোলকারী সেলিম শেখ বলেন, ৫ আগস্টের (২০২৪ সালের) পর থেকে কোনো সংগঠনের নামে চাঁদা নেয়া হয় না। তবে সিরিয়ালের নামে ২০ থেকে ৫০ টাকা করে নেয়া হচ্ছে। বরংগাইল হাইওয়ে থানার ওসি মো. হারুন অর রশিদ বলেন, আমি এ থানায় নতুন এসেছি। আমাদের কেউ ম্যানেজ করে অটোরিকশা চালায় না। আমরা কোনো যানবাহনের চালককে হয়রানিও করিনি।