ভাঙাচোরা রাস্তা, জলাবদ্ধতা, বেকার যুবসমাজ, নিরাপত্তাহীন নারী ও খেলাধুলার জায়গাহীন শিশু এই বাস্তবতা নিয়েই দিনের পর দিন কাটছে খুলনা-৩ আসনের খালিশপুর থানাধীন ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মানুষের জীবন। দীর্ঘদিনের জমে থাকা এ সব নাগরিক সমস্যার কথা সরাসরি মানুষের মুখ থেকে শুনতে এবং সমাধানের দিকনির্দেশনা দিতে দিনব্যাপী গণসংযোগ ও জনসংলাপে অংশ নেন খুলনা-৩ আসনের জামায়াত মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও খুলনা মহানগরী আমীর বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান। তিনি খালিশপুর সিটি কর্পোরেশনের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মুজগুন্নী আবাসিক এলাকা, গোয়ালখালী, উত্তর রায়ের মহল ও বাস্তহারা এলাকা ঘুরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন। কোথাও রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে, কোথাও দোকানের সামনে আবার কোথাও বাসাবাড়িতে বসে তিনি স্থানীয়দের কাছ থেকে বছরের পর বছর ধরে জমে থাকা দুর্ভোগের কথা শোনেন।
অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান বলেন, খালিশপুরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সমস্যাগুলো কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং এটি দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও জবাবদিহির অভাবের ফল। তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে প্রথম অগ্রাধিকার দেওয়া হবে জলাবদ্ধতা নিরসনে আধুনিক ড্রেনেজ ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং টেকসই পরিকল্পনার মাধ্যমে সড়ক সংস্কারে। পাশাপাশি শিশুদের জন্য খেলার মাঠ ও কমিউনিটি স্পেস, যুবকদের জন্য কারিগরি ও আইটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত আলোকিত ও নিরাপদ চলাচল ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। তিনি আরও বলেন, “উন্নয়ন তখনই টেকসই হয়, যখন জনগণ সেই উন্নয়নের অংশীদার হয়। তাই পরিকল্পনা প্রণয়ন থেকে বাস্তবায়ন পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে স্থানীয় জনগণের মতামত ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে।”
গণসংযোগ ও জনসংলাপে উপস্থিত ছিলেন খুলনা মহানগরী ছাত্রশিবিরের সভাপতি আরাফাত হোসেন মিলন, সাবেক সভাপতি আব্দুল আওয়াল, সরকারি বিএল কলেজের সাবেক ভিপি জাহাঙ্গীর আলম, ভিপি এডভোকেট শেখ জাকিরুল ইসলাম, ৯ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের আমীর বায়েজিদ হোসেন, সেক্রেটারি শহিদুল্লাহ, মাওলানা ইমরান হোসেন, শ্রমিকনেতা মাওলানা আসাদুল্লাহিল গালিব, কাজী নুরুল আলম, কাজী ওহিদুল ইসলাম, কাজী জিয়াউল ইসলাম, মনিরুল ইসলাম মানিক, ইলিয়াছুর রহমান, জাহিদুর রহমান, যুব নেতা বাদশা মোল্লা, আজিজুর রহমান, হাফেজ আনোয়ার হোসেন, তোরাব আলী, নুর আলী, আহাদ আহমেদ, ইয়াছির আরাফাত, হোসেন আলী, আব্দুল হান্নান, জিয়াউর ইসলাম, মেহেদী হাসান, তোরাফ আলী, মো. মানিক হোসেন, সেক্রেটারি ইলিয়াস হোসেন, জাহিদ হাসান, আরমান হোসেন, ব্যাংকার ইলিয়াছুর রহমান, ইঞ্জিনিয়ার একরামুল হাসান, সেক্রেটারি নুর আলী, হাফেজ ইউনুস আলী, সেক্রেটারি সাইফুল ইসলাম, মাওলানা মহসিন আলম, হান্নান মুন্সি, মাওলানা ওমর ফারুক, আবু হানিফ, মাওলানা আসলাম উদ্দিন, কাজী আরাফাত হোসেন, কাজী ওহিদুল ইসলাম, বাদশা মোল্লা, আশরাফজ্জামান খোকন, খান মাসুদ, হোসেন আলী, ব্যাংকার হায়দার আলী, তাহাজ্জুদ হোসেন খোকন, কাজী শরিফুল ইসলাম, সোহাইব হোসেন, সৌরভ হোসেন, ছাত্রশিবির খালিশপুর পশ্চিম থানার সেক্রেটারি আব্দুল রহিম, ৯ নং ওয়ার্ড উত্তর সভাপতি মুজাহিদ, দক্ষিণ সভাপতি জুবায়ের, পূর্ব সভাপতি আলামিন, পশ্চিম মাহির লাবিব, মেহেদী, মাহিম, ইমাম, শিহাব, আব্দুল্লাহ, নায়িম, সরোয়ার, জাকারিয়া, কেপিআই সভাপতি আব্দুল রহমান, মহিবুল্লাহ, অর্থ সম্পাদক রহমাতুল্লাহ, সাইফুল্লাহ, রনি, কাফি, সাইফুল্লাহসহ স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক ও ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। গণসংযোগ শেষে পুরো এলাকায় উন্নয়ন, নাগরিক অধিকার ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা ছড়িয়ে পড়ে।
এলাকাবাসী জানান, জনবহুল ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হওয়া সত্ত্বেও পরিকল্পিত উন্নয়নের অভাবে ৯ নম্বর ওয়ার্ডে নাগরিক সমস্যাগুলো ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। বর্ষা মওসুম এলেই দুর্বল ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। অনেক এলাকায় পানি নামতে কয়েক দিন লেগে যায়, ফলে স্কুলগামী শিশু, কর্মজীবী মানুষ ও বয়স্করা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। অস্থায়ী সংস্কার হলেও স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় একই সমস্যা বারবার ফিরে আসে।
শিশুদের বিষয়ে অভিভাবকরা বলেন, নিরাপদ খেলার মাঠ ও বিনোদনের জায়গা না থাকায় শিশুরা বাধ্য হয়ে রাস্তা কিংবা ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে খেলছে। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ার পাশাপাশি তাদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশও ব্যাহত হচ্ছে। অন্যদিকে যুবসমাজের প্রতিনিধিরা অভিযোগ করেন, দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগের অভাবে অনেক তরুণ হতাশায় ভুগছেন। আধুনিক কারিগরি ও আইটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র না থাকায় তারা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে, যা মাদক ও সামাজিক অবক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
নারীরা তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে জানান, পর্যাপ্ত স্ট্রিট লাইটের অভাবে সন্ধ্যার পর অনেক গলিপথে চলাচল অনিরাপদ হয়ে ওঠে। বাজার ও জনসমাগমপূর্ণ এলাকাতেও নারীবান্ধব সুযোগ-সুবিধার ঘাটতি রয়েছে, যা তাদের স্বাভাবিক চলাচল ও জীবনযাত্রাকে সীমাবদ্ধ করে দিচ্ছে।
স্থানীয়দের মতে, এই জনসংলাপ নির্বাচনী প্রচারণাকে প্রতীককেন্দ্রিকতার বাইরে এনে বাস্তব সমস্যা ও সমাধানকেন্দ্রিক আলোচনায় রূপ দিয়েছে। এতে খালিশপুরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নির্বাচনী রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে বলে মনে করছেন তারা।