বগুড়া অফিস

সরকারি আজিজুল হক কলেজের নবীন শিক্ষার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করে নিলো ইসলামী ছাত্রশিবির। বুধবার ক্যাম্পাসে বর্ণাঢ্য আয়োজনে তাদেরকে বরণ করা হয়। সেই সাথে নবীন শিক্ষার্থীদের উজ্জল ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে সুন্দর ক্যারিয়ার গঠনের দিকনির্দেশনা প্রদান করে ছাত্রশিবির। এ উপলক্ষে কলেজের শহীদ মিনার চত্বরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল নুরুল ইসলাম সাদ্দাম। ইসলামী ছাত্রশিবির সরকারি আজিজুল হক কলেজ শাখার সভাপতি আব্দুল্লাহ আল-মামুনের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি সাকিব হাসান তামিমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ফেডারেশন অব স্টুডেন্ট অর্গানাইজেশন (ইফসু) এর সেক্রেটারি জেনারেল ও বগুড়া-৪ আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ। বক্তব্য রাখেন শিবিরের কেন্দ্রিয় প্ল্যানিং এন্ড ডেভেলপমেন্ট সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বগুড়া শহর শাখার আমির ও বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী অধ্যক্ষ আবিদুর রহমান সোহেল, সরকারি আজিজুল হক কলেজ ছাত্রসংসদের সাবেক জিএস অধ্যাপক আ.স.ম আব্দুল মালেক, ইসলামী ছাত্রশিবির বগুড়া শহর শাখার সভাপতি হাবিবুল্লাহ খন্দকার, সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম। ইসলামী ছাত্রশিবির বগুড়া শহর ও জেলা শাখা এবং সরকারি আজিজুল হক কলেজ শাখার সাবেক ও বর্তমান নেতৃবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথি বলেন, বিশ^ যখন প্রযুক্তির ছোঁয়ায় উন্নতির চরম শিখরে পৌঁছে যাচ্ছে তখনো আমরা দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনার কারনে যেকোন প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছি। দেশে লক্ষ লক্ষ উচ্চশিক্ষিত বেকার সমাজের বোঝায় পরিনত হচ্ছে। অথচ রাস্ট্র তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারছেনা। বেকার সমস্যার সমাধান এবং কাক্সিক্ষত সমৃদ্ধশালী কল্যাণ রাস্ট্র গড়ার দায়িত্ব তরুণ সমাজকেই নিতে হবে। এ লক্ষ্যে দুর্নীতিমুক্ত সৎ ও দক্ষ নেতৃত্ব তৈরির মাধ্যমে ইসলামী ছাত্রশিবির সেই কাক্সিক্ষত কল্যাণ রাস্ট্র গঠনে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে আগামীর নেতৃত্ব তৈরি হয়। অথচ শিক্ষার্থীদের সৎ, চরিত্রবান হিসেবে গড়ে তোলার জন্য অধিকাংশ ছাত্রসংগঠনের কোন কর্মসূচি নেই। তারা শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার গঠনের পরিবর্তে তাদেরকে আগুন জ¦ালানোর স্লোগান শেখায়। বিপরীতে ইসলামী ছাত্রশিবির একজন শিক্ষার্থীকে তার সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার লক্ষ্যে ক্যারিয়ার গঠনে সহায়তা করে। আধুনিক দুনিয়ায় তথ্য-প্রযুক্তির সাথে নিজেকে আপডেট করার প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেয় ছাত্রশিবির। তিনি বলেন, ছাত্রশিবির একজন শিক্ষার্থীকে সত্যিকারের মানুষ হতে শেখায়। দেশপ্রেমে উজ্জীত হয়ে দেশের কল্যাণে নিজেকে বিলিয়ে দিতে শেখায়।

দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বের শত্রুদের বিরুদ্ধে জীবনবাজী রেখে লড়াই করতে শেখায় শিবির। তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লবের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারে দু’জন ছাত্র উপদেষ্টা যুক্ত হয়েছিলেন। আশা ছিল তারা শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করবেন। কিন্তু তারা সেটা না করে অবৈধ কামাইয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। শিবির সেক্রেটারি বলেন, ইসলামীপন্থীরা ক্ষমতায় আসলেই কেবল দেশ সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে। সমাজ থেকে সকল প্রকার অন্যায়, অবিচার দূর হবে। দেশের মানুষ তার কাক্সিক্ষত স্বাধীনতা লাভ করবে। কিন্তু রাস্ট্রের বিভিন্ন জায়গায় বসে থাকা অসৎ, দুর্নীতিবাজরা কোনভাবেই ইসলামপন্থীদের ক্ষমতায় বসতে দিতে চায় না।

তবে, দেশের মানুষ এবার জেগে উঠেছে। বিশ^বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীরা যেভাবে সৎ ও যোগ্যদের ভোট দিয়ে বিজয়ী করেছে একই ভাবে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও সৎ, যোগ্য, দেশপ্রেমিক নেতাদেরকে বিজয়ী করতে হবে। তিনি কল্যাণ রাস্ট্র প্রতিষ্ঠায় ছাত্রসমাজকে অগ্রণী ভূমিকা রাখার উদাত্ব আহ্বান জানান। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ বলেন, আমাদের দেশে সম্পদের অভাব নেই। অভাব কেবল সৎ ও যোগ্য নেতৃত্বের। আমরা দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়তে পারলেই দেশ অল্প সময়ের ব্যবধানে উন্নত রাস্ট্রে পরিনত হবে। তিনি আসন্ন নির্বাচনে দুর্নীতিমুক্ত, সৎ ও যোগ্য প্রার্থীদের বিজয়ী করতে ছাত্রসমাজকে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে বিপুল সংখ্যক নবীন শিক্ষার্থী অংশগ্রহন করেন। বিশেষ করে ছাত্রীদের উপস্থিতি ছিল পুলকিত হওয়ার মত। প্যান্ডেলের প্রায় তিন চতুর্থাংশ জুড়ে ছিল ছাত্রীদের উপস্থিতি। নবীন বরণ উপলক্ষে সরকারি আজিজুল হক কলেজ ক্যাম্পাসকে বর্ণিল সাজে সাজানো হয়। আগের রাতে শিবিরের আলোক সজ্জা সবাইকে বিমোহিত করে। ইসলামী ছাত্রশিবির শিক্ষার্থীদের কল্যাণে তাদের ক্রিয়েটিভ কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে এমন প্রত্যাশা করলেন নবীন বরণে অংশগ্রহনকারী শিক্ষার্থীরা।