যশোরে পাঁচটি বিদেশি পিস্তল, দশটি ম্যাগজিন, ৫০ রাউন্ড গুলি এবং সাড়ে চার কেজি গাঁজাসহ লিটন গাজী (৪০) নামে এক যুবককে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

আটক লিটন গাজী যশোর সদর উপজেলার সুজলপুর গ্রামের নুর ইসলাম গাজীর ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি নওয়াপাড়া ইউনিয়নের মধুগ্রামে বসবাস করছিলেন।

ডিবি পুলিশের ওসি মঞ্জুরুল হক ভুঁঞা জানান, গোপন সূত্রে খবর পাওয়ার পর শনিবার গভীর রাতে ডিবির একটি টিম মধুগ্রামে লিটনের বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে।

এসআই কামাল হোসেনের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে তার ঘরের বক্সখাটের ভেতর লুকিয়ে রাখা পাঁচটি ৭.৬৫ মডেলের বিদেশি পিস্তল, দশটি ম্যাগজিন, ৫০ রাউন্ড গুলি এবং সাড়ে চার কেজি গাঁজা উদ্ধার হয়।

তিনি আরও জানান, লিটন গাজী পেশাদার অস্ত্র ও মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে লিটন স্বীকার করেছে যে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রগুলো কক্সবাজারে পাঠানোর জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। এর আগেও তিনি একাধিকবার কক্সবাজারে অস্ত্রের চালান পাঠিয়েছেন বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্য সহযোগীদের শনাক্ত করতে জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশের একাধিক সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, লিটন গাজী দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার আড়ালে অস্ত্র সরবরাহের একটি নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছিলেন। স্থানীয়ভাবে তাকে নিরীহ ব্যক্তি হিসেবে দেখালেও গোপনে তিনি বিভিন্ন অপরাধী গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করতেন। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকায় সক্রিয় অস্ত্র চোরাকারবারিদের সঙ্গে তার যোগসূত্র ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ডিবি পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, এ ধরনের অস্ত্র সাধারণত সীমান্ত এলাকা হয়ে বাংলাদেশে ঢোকে এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন সন্ত্রাসী গ্রুপ বা অপরাধী চক্রের হাতে পৌঁছে যায়। লিটনের কাছে মিলিত অস্ত্রের পরিমাণ দেখে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি শুধু মধ্যস্বত্বভোগী নন, বরং নিয়মিতভাবে বড় আকারের চালান গ্রহণ ও বিতরণ করতেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, লিটন বেশ কিছুদিন ধরে এলাকায় থাকলেও তেমন মেলামেশা করতেন না। সামাজিকভাবে খুব সক্রিয় ছিলেন না। তবে হঠাৎ করে তার আর্থিক অবস্থার উন্নতি দেখে অনেকেই সন্দেহ করলেও কেউ বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলেননি।

ঘটনার পর ডিবি পুলিশ লিটনের বাড়ির আশপাশের এলাকা ঘিরে আরও অনুসন্ধান চালায়। তবে আর কোনো অস্ত্র বা মাদক পাওয়া যায়নি। আটক লিটনের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে দুটি পৃথক মামলা হয়েছে ।

ডিবি পুলিশ জানিয়েছে, তার জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শিগগিরই তার সহযোগীদের ধরতে অভিযান চালানো হবে। পুরো নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আরও কয়েকটি লক্ষ্যমুখী অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা করছে।