বিশেষ প্রতিনিধি, রাজশাহী : রাজশাহী অঞ্চলে শুরু হতে যাচ্ছে আমের মওসুম। ইতোমধ্যে অগ্রিম জাতের গাছগুলোতে মুকুল এসে গেছে। এই অঞ্চলে এবার আমের বাম্পার ফলনের আশা করা হচ্ছে। এবার আড়াই লাখ মেট্রিক টন আম উৎপাদিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

রাজশাহী অঞ্চলের আম গাছগুলোতে পৌষের শুরু থেকেই দেখা মিলছে মুকুলের। নানা ফুলের সঙ্গে সৌরভ ছড়াচ্ছে আমের মুকুলও। রাজশাহী ও এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের আম চাষিরা গত বছরের তুলনায় চলতি বছর ভালো ফলনের আশা করছেন। বাম্পার ফলনের আশা করছে কৃষি বিভাগও। তারা বলছেন, এখন পর্যন্ত আবহাওয়া আম চাষের অনুকূলে রয়েছে। কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এ বছর আমের বাম্পার ফলন হবে।

উৎপাদন কমছে

এবার গত বছরের চেয়ে ৪১৮ হেক্টর জমিতে আমের বাগান কমেছে। পাশাপাশি আমের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা কমেছে ৩ হাজার ৯৫২ মেট্রিক টন। কৃষি সম্প্রসারণের তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহীতে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আমের আবাদ হয়েছিল ১৯ হাজার ৬০৩ হেক্টর জমিতে পাশাপাশি আমের উৎপাদন হয়েছিল ২ লাখ ৪৯ হাজার ৯৫২ মেট্রিক টন। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আম চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৯ হাজার ৬০৩ হেক্টর এবং উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪৬ হাজার মেট্রিক টন। আমচাষিরা বলছেন, গতবছরের তুলনায় অনেক বাগান উজাড় হয়েছে, পাশাপাশি আম গাছের সংখ্যাও কমেছে। গত বছর শিলাবৃষ্টি এবং প্রাকৃতিক দূর্যোগের কারণে রাজশাহীতে আমের ফলন কম হয়েছিল। কিন্তু এই বছর আমের ভালো ফলনের আশায় আছেন তারা।

গাছের পরিচর্যা চলছে

বাগানে ইতোমধ্যে গাছে মুকুল চলে এসেছে। ঘন কুয়াশা থাকলেও শীতের তীব্রতা কম হওয়ায় মুকুলের তেমন ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা নেই। রাজশাহীর কয়েকটি উপজেলার আম বাগান পরিদর্শন করে দেখা যায় আমচাষিরা গাছে গাছে কীটনাশক মিশ্রিত পানি স্প্রে করছেন। গাছের বাড়তি যত্ন নিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। গত কয়েকদিনের কুয়াশার কারণে মুকুলকে ছত্রাকের আক্রমণ থেকে বাঁচাতে ছত্রাকনাশক স্প্রে ব্যবহার করছেন তাঁরা। পবা উপজেলার একজন আমচাষি জানান, “এ বছরের আবহাওয়া আমের জন্য অনুকূলে রয়েছে। গত বছরের চেয়ে টানা শীত ও কুয়াশার তীব্রতা এ বছর অনেক কম। গতবারের মতো মৌসুমের শুরুতে শিলাবৃষ্টিও হয়নি।” আরেকজন আমচাষি জানান, “বছরজুড়ে গাছের পরিচর্যা করার কারণে এখন প্রতি বছরই আমের ভালো ফলন পাওয়া যায়। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরামর্শে গাছে মুকুল আসার সময় ভালোভাবে স্প্রে করে দেয়া হয়েছে। এতে গাছে বাস করা হপার বা শোষকজাতীয় পোকাসহ অন্যান্য পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে।” যদি সঠিক সময়ে হপার বা শোষক পোকা দমন করা না যায় তাহলে আমের ফলন কমে যেত বলে জানান এই আমচাষি। দূর্গাপুর উপজেলার একজন আমচাষি জানান, “আমরা বছরজুড়েই গাছের যত্ন নেই। আমের বাণিজ্যিক চাষের জন্য আমাদের অগ্রিম পরিকল্পনা থাকে। তবে গাছে কেবলমাত্র মুকুল আসা শুরু হয়েছে। আমরা এখন গাছে গাছে স্প্রে দিচ্ছি। আশা করছি আমের উৎপাদন ভালো হবে।”

কৃষি বিভাগের ভাষ্য

রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের একজন কর্মকর্তা জানান, “রাজশাহীর আম বাগানগুলোতে এখনো পর্যাপ্ত মুকুল আসেনি। ফেব্রুয়ারি মার্চের দিকে পরিপূর্ণ মুকুল আসবে। এখন থেকে গাছের ভালো যত্ন নিলে এবং গাছের রোগবালাই দমনে কাজ করলে ভালো মুকুল আসবে। তবে গতবারের তুলনায় এইবারের আবহাওয়া ভালো থাকায় আশা করছি গাছে ভালো পরিমাণ আম আসবে।” রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা জানান, “মাঠপর্যায়ে আমের ভালো উৎপাদনের লক্ষ্যে আমরা চাষিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছি। আমের ভালো উৎপাদনের লক্ষ্যে একটি গাছে বছরে দুইবার কীটনাশক দিতে হয়। মাঠ পর্যায়ে আমাদের সহকারী ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কাজ করছেন। গতবছর রাজশাহীতে হেক্টর প্রতি আমের উৎপাদন হয়েছিল ১২ দশমিক সাড়ে ৭ এবং চলতি বছরে আমের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১২ দশমিক ৮ হেক্টর। সে অনুযায়ী আমের উৎপাদন এবছর ভালোই হবে।”