ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা : ফুলবাড়ীর চর অঞ্চলের বীর শহীদ আবু সাঈদ স্মৃতি কলেজটি এমপিও ভুক্ত করনের দাবি অত্র এলাকার সর্ব শ্রেণির মানুষের। এমপিও ভুক্ত না হওয়ায় মানবেতর জীবনযাপন করছে শিক্ষক ও কর্মচারীরা।

কুড়িগ্রামের পিছিয়ে পড়া ফুলবাড়ী উপজেলার বৃহৃত এলাকা জুড়ে চরঅঞ্চল হওয়ায় আধুনিকতার ছোঁয়া থেকে বঞ্চিত এ এলাকার মানুষেরা। যে জাতি যতশিক্ষিত সে জাতি তত উন্নত এ উক্তিকে সামনে নিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল এগিয়ে গেলেও পিছিয়ে রয়েছে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার চর অঞ্চলের জনপদ। এ অঞ্চল গুলোতে দেশের বিশাল জনগোষ্ঠীর বসবাস, তাদের উন্নত করার জন্য নেই কোন পদক্ষেপ নেই কোন কর্মসূচি। এখানকার মানুষগুলোর উন্নত সমাজ উন্নত পরিবেশের ছোয়া আজও লাগেনি। তাদের সুস্থ পরিবেশ তৈরী করতে এখানে নেই কোন স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা বা অন্য কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এমন অন্ধকারছন্ন জীবন থেকে আলোর মুখ দেখতে, একটু উন্নত জীবনের আশায় এক বুক আশা নিয়ে অত্র এলাকার মানুষজন তাদের ভবিষ্যত প্রজন্মের দিকে লক্ষ্য করে অক্লান্ত পরিশ্রম দিয়ে এখানে ২০১০ সালে খোলার হাট নামে একটি কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন।

২০২৪ সালের জুলাই আগষ্টের বৈষম্য বিরোধী ছাত্র - জনতার মহান বিপ্লবের বীর শহীদ আবু সাঈদকে স্মৃতিতে রাখার জন্য রংপুর বিভাগের কুড়িগ্রাম জেলার র্নিভূত পল্লী অঞ্চলে অবস্থিত,ঐ খোলারহাট মহাবিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে বীর শহীদ আবু সাঈদ স্মৃতি কলেজ নামকরন করা হয়েছে।

জানাগেছে দেশে জুলাই আগষ্টের পূর্ববর্তি ফেসিষ্ট আওয়ামী লীগ সরকার দেশবাসির উপর চরম জুলুম নির্যাতন অত্যাচার এবং চাকরীসহ সকলক্ষেত্রে বৈষম্যের বিরুদ্ধে, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র জনতা দেশে দূর্বার গণ-আন্দোলন গড়ে তোলে।এবং হাজার হাজার শহীদ ছাত্র জনতার আত্মত্যাগের মাধ্যমে বিপ্লব সাধন করে ফেসিষ্ট আওয়ামী সরকারের হাত থেকে দেশকে উদ্ধার করে।জুলাই বিপ্লবের অকুতোভয় নির্ভিক সৈনিকদের আত্মত্যাগের সেই শহীদি কাফেলার অগ্রনায়ক বীর শহীদ আবু সাঈদকে শ্রদ্ধা ও তার কবর যিয়ারত করার জন্য ছুটে যান খোলারহাট মহাবিদ্যালয় অধ্যক্ষের নেতৃর্তে শিক্ষক,কর্মচারী ও গভর্নিং বডির সদস্যগন। শহীদের বাড়ীতে গেলে শহীদ আবু সাঈদের পিতা মোঃ মকবুল হোসেনের মনোবাসনা হয় তার পুত্র শহীদ আবু সাঈদের স্মৃতিকে যুগ যুগ ধরে ধারণ করে রাখার জন্য কলেজ কতৃপক্ষকে কলেজের নাম শহীদ পুত্রের নামে করার প্রস্তাব করলে কলেজ কতৃপক্ষ আশস্ত করেন।এবং কলেজ কতৃপক্ষ গভর্নিং বডির এক সভায় নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।অতপর শহীদ আবু সাঈদের পিতা উক্ত কলেজের নাম পরিবর্তন করে বীর শহীদ আবু সাঈদ স্মৃতি কলেজ নামকরন করার জন্য প্রধান উপদেষ্টা বরাবর একটি লিখিত আবেদন দাখিল করেন। আবেদনের বিষয়টি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিলে জেলা প্রশাসক ও কলেজ বোড পরিদর্শক কলেজটি পরিদর্শন করেন। পরবর্তীতে পরিদর্শন প্রতিবেদনের আলোকে উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন করা হয়।

চর অঞ্চলে অত্যান্ত মনোরম পরিবেশে গড় উঠা ১০৭ শতাংশ জমির ওপর প্রায় ২০০ ফিট আধাপাকা ভবন নির্মিত। কলেজের অধ্যক্ষ ওবায়দুল হক বলেন স্বীকৃতিপ্রাপ্ত এ প্রতিষ্ঠানটি চর- রাঙ্গামাটি,চর- খোঁচাবাড়ী ও চর- কাগজিপাড়ার পিছিয়েপড়া বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর ছাত্র- ছাত্রীদেরকে পাঠদান করে আসছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত এ কলেজটি এমপিও ভুক্ত না হওয়ায় কলেজের শিক্ষক কর্মচারীরা দীর্ঘ দিন থেকে বিনা বেতনে চাকরী করে আসায়, অভাব অনটনে চরম মানবেতর জীবন যাপন করে আসছে।

চর অঞ্চলের বৃহৃত এলাকা ব্যাপী অন্য কোন বিদ্যালয় না থাকায় এখানকার গরীব ও খেটে খাওয়া জনগোষ্টির শিক্ষার্থীদের জন্য এ কলেজটি আশীর্বাদ সরূপ। অথচ কলেজটি আজও এমপিও ভুক্ত হয়নি।

কলেজটিকে এমপিও ভুক্তকরণের জন্য অত্র এলাকার খেটেখাওয়া সাধারন মানুষ জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ সকলের এক দাবি ও চাওয়া কলেজটি এমপিও ভুক্ত করা হউক। কলেজটি এমপিও ভুক্ত হলে অত্র এলাকাটি একটু সামাজিকতার ছোয়া লাগবে বলে চরের মানুষজন মনে করে।