বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য ও বগুড়া-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যক্ষ মো. শাহাবুদ্দীন দীর্ঘদিন ধরেই ইসলামী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। একান্ত সাক্ষাৎকারে দৈনিক সংগ্রামকে তিনি জানান তার রাজনৈতিক যাত্রা, দর্শন এবং এমপি নির্বাচিত হলে এলাকার উন্নয়ন নিয়ে তার পরিকল্পনা। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন আমাদের সংবাদদাতা মো: মিনাজুল ইসলাম মিজান।

সংগ্রাম : আপনি কত সালে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন?

শাহাবুদ্দীন: আমি ১৯৮৩ সালে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিই।

সংগ্রাম: এর আগে কি কোনো সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন?

শাহাবুদ্দীন: হ্যাঁ, তাবলীগ জামাতের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। তবে ছাত্র অবস্থায় ছাত্রসংঘের সমর্থক ও ভোটার ছিলাম।

সংগ্রাম : আপনি কেন সংসদ সদস্য (এমপি) হতে চান?

শাহাবুদ্দীন: ইসলামে কোনো পদ পাওয়ার জন্য নিজে থেকে প্রার্থী হওয়া উচিত নয়। আমি নিজে থেকে প্রার্থী হইনি, দলীয় সিদ্ধান্তে মনোনীত হয়েছি। আমাদের লক্ষ্য হলো ইনসাফভিত্তিক ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠা, যাতে আল্লাহর বিধান অনুযায়ী দেশ পরিচালিত হয় এবং মানুষ জীবনের সব ক্ষেত্রে আল্লাহর হুকুম মেনে চলতে পারে। সংসদ সদস্য না হলে এসব কাজ বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয় বলেই আমি দায়িত্ব গ্রহণ করেছি।

সংগ্রাম: আপনি ৫ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছিলেন। এরপর প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করার কারণ কী?

শাহাবুদ্দীন: আমি ১৯৯১ (৫ম সংসদ) এবং ১৯৯৬ (৬ষ্ঠ সংসদ)– দুটি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছি। পরবর্তীতে দলীয় জোটগত কৌশলের কারণে আর সুযোগ হয়নি।

সংগ্রাম: সারিয়াকান্দি-সোনাতলা নিয়ে আপনার ভাবনা কী?

শাহাবুদ্দীন: জাতীয় সমস্যার সমাধানের জন্য যা কিছু দরকার, সব এই এলাকাতেও প্রযোজ্য। তবে যমুনা নদী ও বাঙালি নদী দ্বারা বেষ্টিত হওয়ার কারণে এখানকার অতিরিক্ত কিছু সমস্যা রয়েছে, সেগুলোর সমাধান অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করতে হবে।

সংগ্রাম: এমপি হলে এলাকার কোন উন্নয়ন কাজগুলো আগে করবেন?

শাহাবুদ্দীন: প্রথমেই নদীভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ, নদী খনন, এবং চরাঞ্চলে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ করবো। নদী পারাপার দ্রুততর করার জন্য জলযান ও অন্যান্য বাহনের ব্যবস্থা, এয়ার অ্যাম্বুলেন্স চালু, চরাঞ্চলের কৃষিপণ্য যেমন বাদাম, ভুট্টা, মরিচ সংরক্ষণ ও বিপণনে সহায়তা করব। পশুপালন, দুধ উৎপাদন এবং বিলুপ্তপ্রায় ফসল যেমন কাউন, খেরাচি ও পেয়ারা চাষে উৎসাহ দেওয়া হবে। রাস্তা-ঘাট উন্নয়ন, মসজিদ-মাদ্রাসা সংস্কার এবং অমুসলিমদের অধিকার সংরক্ষণের বিষয়েও কাজ করব। ক্ষুদ্র ব্যবসা, কুটির শিল্প ও বেকারত্ব দূর করতে উন্নয়ন তহবিল গঠন করব।

সংগ্রাম : ৩৬ জুলাইয়ের পর জামায়াতে ইসলামীর প্রতি মানুষের আগ্রহ বেড়েছে, এর পেছনে কী কারণ?

শাহাবুদ্দীন: ৩৬ জুলাইয়ের জনজাগরণ ছিল ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থার দাবিতে। জামায়াত এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে দীর্ঘদিন ধরে আল্লাহর বিধান ও রাসূল (সা.)-এর পথ অনুসরণ করে কাজ করছে। এ আন্দোলনে আমাদের নেতারা জীবন দিয়েছেন, জানমাল বাজি রেখেছেন। ফলে জনগণ আমাদের মূল্যায়ন করছে।

সংগ্রাম: জামায়াতের আয়ের উৎস কী?

শাহাবুদ্দীন: আমাদের গঠনতন্ত্রে আয়ের উৎস স্পষ্টভাবে বলা আছে। ইয়ানত (দানের অঙ্গীকার), এককালীন অনুদান, ওশর, যাকাত এবং অধস্তন সংগঠন থেকে মাসিক নির্ধারিত আয়Ñ এইসব আমাদের মূল উৎস।

সংগ্রাম: নদীভাঙন রোধে কী উদ্যোগ নেবেন?

শাহাবুদ্দীন: উন্নত দেশগুলো নদীভাঙন রোধে যেসব আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে সুফল পেয়েছে, সেগুলোর অনুসরণ করেই আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

সংগ্রাম: শিক্ষা ও স্বাস্থ্য নিয়ে আপনার ভাবনা কী?

শাহাবুদ্দীন: জামায়াতের পক্ষ থেকে আমরা একটি পূর্ণাঙ্গ ও ন্যায়ভিত্তিক শিক্ষা নীতির বাস্তবায়ন চাই। স্থানীয় চাহিদা ও ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনায় রেখে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে সব ধরনের উন্নয়নমূলক উদ্যোগ নেওয়া হবে ইনশাআল্লাহ।

সংগ্রাম: ধন্যবাদ সময় দেওয়ার জন্য।

শাহাবুদ্দীন: আপনাকেও ধন্যবাদ কষ্ট করে সাক্ষাৎকার নিতে আসার জন্য।

বগুড়া-১ আসনের জামায়াত মনোনীত এমপি প্রার্থী অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিনের জীবন আলেখ্য

তুলে ধরা হলো:

জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য ও বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিন আল্লাহর উপর ভরসা করে ১৯৮৩সাল থেকে অত্যন্ত সাহসিকতা ও দক্ষতার সাথে এদেশে দ্বীন প্রতিষ্ঠার জন্য রাজপথে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিন ব্যক্তিগত, পারিবারিক, পেশাগত ও জাতীয় রাজনীতিতে তিনি মেধার স্বাক্ষর রেখে যাচ্ছেন মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে জন্য তিনি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।নি¤েœ অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিনের সংক্ষিপ্ত জীবন বৃত্তান্ত।

জন্ম ও পারিবারিক জীবন : এই সাহসী সন্তান ও প্রতিভাবান জামায়াতে নেতা অধ্যক্ষ মোঃ শাহাবুদ্দীন ১৯৪৯ সালে ৩১ ডিসেম্বর বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি উপজেলার কুপতলা গ্রামে একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম মরহুম কাজেম উদ্দিন এবং মাতার নাম মরহুমা সামিনা খাতুন এবং স্ত্রী মোছাঃ সামছুন নাহার। তিনি ৩ (তিন) মেয়ে ও ৬ (ছয়)পুত্রের জনক। প্রত্যেকেই উচ্চ শিক্ষিত এবং নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে সু-প্রতিষ্ঠিত। অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিন এর তিন ভাই ও এক বোন। ভাই-বোনদের মধ্যে তিনি সবার বড় (প্রথম)।

শিক্ষা ও ক্যারিয়ার : অধ্যক্ষ মোঃ শাহাবুদ্দীন ১৯৬৬ সালে স্থানীয় সারিয়াকান্দি সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এস এস সি, ১৯৬৮ সালে জয়পুরহাট সরকারী কলেজ থেকে এইচএসসি ও ১৯৭০ সালে বি.কম এবং ১৯৭৩-১৯৭৪ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হিসাব বিজ্ঞান বিভাগ (উচ্চতর ২য় শ্রেণী) মাস্টার্স।

রাজনৈতিক জীবন: ছাত্রজীবনে ইসলামী ছাত্রসংঘের সক্রিয় সমর্থক ছিলেন। ১৯৮৩ সালে জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেন। ১৯৮৪-১৯৮৭ সাল পর্যন্ত উপজেলা নাজেম। ১৯৮৮-১৯৯১ সাল পর্যন্ত সারিয়াকান্দি উপজেলা জামায়াতের আমীর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯২-১৯৯৭ সাল পর্যন্ত নায়েবে আমীর ও ১৯৯৮-২০১৫ সাল পর্যন্ত বগুড়া জেলা আমীর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৬ সাল হতে কেন্দ্রীয় বায়তুল মাল সেক্রেটারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৯ সাল হতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ১৯৯১-১৯৯৬ সালে বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেন।

কর্মজীবন ও অভিজ্ঞতা : ১৯৭৩ সালে সৈয়দ আহমেদ কলেজ প্রভাষক (অস্থায়ী) ও ১৯৭৫-২০০১ সারিয়াকান্দি ডিগ্রী কলেজ প্রভাষক ও (১৯৭৫-২০০১) সাল অধ্যক্ষ সারিয়াকান্দি ডিগ্রী কলেজ। ১৯৯২ সাল থেকে প্রকাশক ও সম্পাদক, দৈনিক সাতমাথা বগুড়া অদ্যবধি পর্যন্ত। তাবলীগে জামাতে সম্পৃক্ত (১৯৭৩-১৯৮২) সাল। আল্লাহর কথায়, কারা যাবে জান্নাতে কারা জাহান্নামে? তাবলিগী ভাইয়েরা সৌভাগ্যবান পড়ুন এ ‘খোলাচিঠি’ তিনি এমন ১৫ টি ইসলামী সাহিত্যের গ্রন্থাকার।

সামাজিক কাজ : বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিন একজন রাজনীতিবিদ,সমাজ সেবক। একজন রাজনীতিবিদ হয়ে অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিন মানুষের জন্য কাজ করছেন। কিশোর বয়স থেকেই সমাজের উন্নয়নে নানাভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।