পুত্রবধূর সঙ্গে দীর্ঘদিনের কলহ। দুই স্ত্রীর সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় তাদের তালাক দিতে বাধ্য করেছিলেন ছেলে। কিন্তু তৃতীয় বউ যেহেতু আপন খালাতো বোন, তাই ডিভোর্সের পরিবর্তে এবার ভিন্ন পথ বেছে নিলেন শ্বাশুড়ি। দেড় লাখ টাকায় ভাড়া করা হয় পেশাদার খুনি। সাজানো হয় ডাকাতির নাটক। অবশেষে চার বছর পর সেই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের মূল রহস্য উন্মোচন করল পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
পিবিআই জানায়, ২০২১ সালের ১৬ জুলাই চট্টগ্রাম নগরের ইপিজেড থানার নারকেলতলা এলাকার একটি বাড়িতে গৃহবধূ মাহবুবা আক্তার (২৪) খুন হন। এ ঘটনায় নিহতের ভাই মো. মিশকাত মামলা করেন নিহতের স্বামী আব্দুল গোফরান (৩৫) ও তার মা নাজনীন বেগমকে (৫৫) আসামী করে।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, বিয়ের পর থেকেই শ্বাশুড়ি ও স্বামী মিলে মাহবুবাকে নির্যাতন করত। ঘটনার দিন বিকেল চারটায় স্বামীর বোন শান্তা মাহবুবার ছোট বোনকে ফোন দিয়ে জানায়, অজ্ঞাত লোকজন মাহবুবাকে অচেতন করে রেখেছে। খবর পেয়ে তার ভাই মিশকাত গিয়ে দেখেন, মাহবুবা মারা গেছেন। শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল। তখন শ্বাশুড়ি নাজনীন দাবি করেন, ডাকাতরা বাসায় ঢুকে খুন করেছে।
তবে তদন্তে পুলিশ প্রথমেই নাজনীন ও তার ছেলে গোফরানকে গ্রেফতার করে। তাদের মাধ্যমে খুনের সঙ্গে জড়িত মো. আরিফের নাম উঠে আসে। ইপিজেড থানা পুলিশ আরিফকে ধরতে ব্যর্থ হলে আদালত পিবিআইকে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন।
পিবিআই-এর তদন্তে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। রোববার গ্রেফতারের পর আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে আরিফ (৩৫) স্বীকার করেন, দেড় লাখ টাকার বিনিময়ে খুনের চুক্তি হয়। তিনি নিজে কক্সবাজারের মহেশখালী থেকে তিনজন ‘প্রফেশনাল কিলার’ ভাড়া করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, শুক্রবার দুপুরে নামাজরত অবস্থায় মাহবুবাকে শারীরিক আঘাত ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়।
এসআই মো. মহসীন চৌধুরী জানান, খুনের সময় নাজনীন বেগম ও তার ছেলে গোফরান ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। পরবর্তীতে নাজনীন চুক্তি অনুযায়ী দেড় লাখ টাকা প্রদান করেন, যা চারজন ভাগাভাগি করে নেয়। ঘটনার সময় গৃহবধূ ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।
আরিফ বর্তমানে চট্টগ্রামে হকারের কাজ করছিলেন। তার জবানবন্দির ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে জড়িত আরও তিন খুনিকে ধরতে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছেন পিবিআই কর্মকর্তা।