বর্ষা এলেই হাঁটুসমান পানি, দুর্গন্ধময় ড্রেন, মশার যন্ত্রণা আর ভাঙাচোরা রাস্তার ভোগান্তি এই নিয়েই বছরের পর বছর দিন কাটছে নগরীর ১৪ নং ওয়ার্ডের মানুষদের। বয়রা ও রায়ের মহল এলাকার সেই চাপা কষ্ট, জমে থাকা ক্ষোভ আর আগামীর প্রত্যাশা নিয়েই অনুষ্ঠিত হলো এক উঠান বৈঠক। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য, খুলনা মহানগর আমীর ও খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান গতকাল মঙ্গলবার দিনব্যাপী বয়রা ও রায়ের মহল এলাকার মানুষের দুয়ারে এসে দাঁড়ান, শোনেন তাদের কথা, বোঝেন তাদের ব্যথা।

এ সময় তার সঙ্গে ১৪ নং ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা ইমরান হোসেন, সেক্রেটারি জি এম আব্দুল্লাহ, ইউনিট সভাপতি রবিউল আরিফ, সেক্রেটারি জুবায়ের হোসেন, মহিলা জামায়াতের ইউনিট সেক্রেটারি আরমান, নূরে আলম, লিমন, নজরুল ইসলাম, রবিউল ইসলাম, জীবন, আসিফ, রানা, মহিউদ্দিন, চৌধুরী ইসলাম, সিয়াম হাসান, মামুন, আব্দুর রাজ্জাক, শিপনসহ এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও অসংখ্য সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে একের পর এক নাগরিক উঠে দাঁড়িয়ে বলেন তাদের জীবনের গল্প। কেউ বলেন “বৃষ্টির সময় সন্তানকে কোলে নিয়ে পানি ভেঙে চলতে হয়।” কেউ বলেন “মশার কামড়ে রাতে ঘুম হয় না, ডেঙ্গুর আতঙ্কে দিন কাটে।” আবার কেউ ক্ষোভ নিয়ে বলেন “নিজের নাগরিক সনদ ঠিক করতেও মাসের পর মাস ঘুরতে হয়।” জলাবদ্ধতা এখানকার মানুষের নিত্যসঙ্গী। অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ আর ময়লায় ভরা নালার কারণে পানি নামার পথ পায় না। দীর্ঘদিন জমে থাকা পানিতে নষ্ট হয় রাস্তা, নষ্ট হয় স্বপ্নও। তার ওপর গাছপালা কমে যাওয়ায় অসহনীয় গরম যেন নতুন শাস্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মানুষের এ সব দু:খ ও কষ্টের কথা শুনে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান বলেন, “এগুলো কোনো পরিসংখ্যান নয়, এগুলো মানুষের জীবনের গল্প। এই কষ্ট দূর করা রাজনীতি নয়, এটা আমার দায়িত্ব।” তিনি দৃঢ়ভাবে জানান, নির্বাচিত হলে জলাবদ্ধতা নিরসনে আধুনিক ও স্থায়ী ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। খাল-নালা পরিষ্কার, পরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযানের মাধ্যমে এলাকাকে মশামুক্ত করার অঙ্গীকার করেন তিনি। ভাঙাচোরা রাস্তা আর নাগরিক সেবা নিয়ে ভোগান্তি আর থাকবে না বলেও আশ্বাস দেন তিনি। ওয়ার্ড পর্যায়ে সক্রিয় সেবাকেন্দ্র, ডিজিটাল সেবা এবং মানুষের কাছে সেবা পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন এই জননেতা। পরিবেশ রক্ষায় তিনি বলেন, “গাছ কাটার শহর নয়, আমরা গাছ লাগানোর শহর গড়তে চাই যেখানে বাতাসে স্বস্তি থাকবে, জীবনে শান্তি থাকবে।” বৈঠক শেষে মানুষের মুখে দেখা যায় অন্যরকম এক প্রশান্তি। কেউ বলেন, “আজ অন্তত কেউ আমাদের কথা শুনেছে।” কেউ বলেন, “এই মানুষটা আমাদের কষ্ট বুঝেছে।”

১৪ নং ওয়ার্ডের মানুষ এখন আশায় বুক বাঁধছে। অবহেলা আর দুর্ভোগের অধ্যায় পেরিয়ে একদিন এই এলাকা হবে নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য। আর সেই আশার নাম জনসংলাপ, সেই আশার কণ্ঠ অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান।