মদনে (নেত্রকোনা) সংবাদদাতা : সামাজিক সচেতনামূলক কর্মশালার, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার ল্যাব ভিজিটসহ বিভিন্ন কর্মশালা ও সেমিনারের নামে মোটা অংকের সরকারি অর্থ ভুয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে নেত্রকোনার মদন উপজেলার আইসিটি কর্মকর্তা তারেক মাহমুদ খানের বিরুদ্ধে।

জানা যায়, উপজেলা পর্যায়ে সামাজিক সচেতনতামূলক কর্মশালা নামে একটি প্রোগ্রামের ৩৯ হাজার টাকা এক মাস আগে উত্তোলন করে নিজ পকেটে রাখলেও এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোন কর্মশালা করেননি তিনি। প্রতিমাসে উপজেলা বিভিন্ন হাই স্কুল ও মাদরাসায় ডিজিটাল কম্পিউটার ল্যাব ভিজিট করার কথা থাকলেও তা ভিজিট না করে ভূয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে প্রায় দুই বছরের বেশি সময় ধরে সরকারি অর্থ উত্তোলন করছেন তিনি। এ ছাড়াও তিনি প্রতি সাপ্তাহের রবিবার অঘোষিত ছুটি কাটান বলে জানা যায়।

আইসিটি কর্মকর্তা তারেক মাহমুদ খানের অফিসে গিয়ে প্রোগ্রাম ও এর বরাদ্দ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রথমে তিনি তা অস্বীকার করেন। পরে এ বিষয়ে তথ্য প্রমাণ দেখালে তিনি বরাদ্দের উত্তোলনের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, বরাদ্দের অর্থ আমি উত্তোলন করেছি কিন্তু সময় না পাওয়ার কারণে প্রোগ্রামটি এখনো করতে পারিনি। ডিজিটাল ল্যাব ভিজিটের বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন আমি ল্যাব খুব কম এই ভিজিট করি বলে স্বীকার করেন।সর্বশেষ কবে ভিজিট করেছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন সর্বশেষ নভেম্বর মাসে উপজেলার বাস্তা ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা ও বালালী বাগমারা উচ্চ বিদ্যালয়ের ল্যাব ভিজিট করেছি।এ সময় প্রতিবেদককে সংবাদ প্রকাশ না করতে অনুরোধ করেন।

এ বিষয়ে উক্ত দুই প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সঙ্গে কথা বললে সর্বশেষ কবে আইসিটি কর্মকর্তা তাদের প্রতিষ্ঠানের ল্যাব ভিজিট করেছেন তা তাদের সঠিকভাবে জানা নেই বলে জানান তারা ।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বেদবতী মিস্ত্রী বলেন,বিষয়টি আপনার মাধ্যমে জানতে পেরেছি আমি। বিষয়টা আমি দেখব।

নেত্রকোনা জেলা প্রোগ্রামার শরিফুল ইসলাম সুমন জানান, যদি কোন অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যায় তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।