নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জে চাঁদা না দেওয়ায় একটি কারখানায় সশস্ত্র হামলা, ভাঙচুর ও ট্রাক এনে পণ্য লুটের ঘটনার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের গতকাল বুধবার এক বিবৃতি দিয়েছেন।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, “নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার দাউদপুর ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামে অবস্থিত বিএলও ওয়্যার নেইল ইন্ডাস্ট্রিজ কারখানায় গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বেলা ১১টায় শারীরিক প্রতিবন্ধী উদ্যোক্তা মনোয়ার হোসেনের প্রতিষ্ঠিত রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানে একদল সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর, শ্রমিকদের মারধর এবং কোটি টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে। চাঁদা দাবির প্রেক্ষিতে এ ধরনের ন্যক্কারজনক হামলার ঘটনা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের ওপর আঘাত নয়, বরং দেশের শিল্পখাত, বিনিয়োগ পরিবেশ ও কর্মসংস্থানের ওপর সরাসরি আঘাত। আমি এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি এবং তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের আরও বলেন, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের মাধ্যমে শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে জিম্মি করার অপচেষ্টা কোনো সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। বিশেষ করে একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী উদ্যোক্তার প্রতিষ্ঠানে হামলা চালানো অত্যন্ত ঘৃণ্য ও অমানবিক কাজ। এ ধরনের ঘটনা দেশে আইনের শাসন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রতি প্রশ্ন তোলে।

পত্রিকায় এই ঘটনার অভিযোগে রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাহফুজুল রহমান হুমায়ুনের নাম এসেছে। আমি অবিলম্বে ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্ত দাবি করছি এবং জড়িতদের দলীয় পরিচয় যাই হোক তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা জোরদার এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে চাঁদাবাজদের হাত থেকে রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, দেশে শিল্পায়ন ও রপ্তানি বৃদ্ধির কথা বলা হলেও বাস্তবে যদি উদ্যোক্তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন, তবে তা জাতীয় অর্থনীতির জন্য অশনিসংকেত। তাই সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করার আহ্বান জানাচ্ছি। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।