সাভার সংবাদদাতা
পরিত্যক্ত সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টার থেকে দুই নারীর পোড়া লাশের সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। পুলিশের ধারণা, ওই দুই লাশ নারী। এঘটনায় গ্রেফতার মশিউর রহমান ওরফে সম্রাট (৪০) প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে খুনের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রোববার দুপুরে সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারের পরিত্যক্ত ভবনের ভেতর থেকে এক কিশোরীসহ দুজনের পোড়া লাশ উদ্ধার করা হয়। এরপর পুলিশ সাভার থানার সামনে থেকে বিকেলে সম্রাটকে আটক করে। গতকাল সোমবার তাকে ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল আদালতের সোপর্দ করে করে। পুলিশ জানায়, অনেকটা মানসিক রোগীর মতো আচরণ করলেও খুব ঠান্ডা মাথায় এক বৃদ্ধা, এক নারী ও এক কিশোরীসহ ছয়জনকে খুন করেছেন স¤্রাট।
কমিউনিটি সেন্টার থেকে লাশ উদ্ধারের ঘটনায় সাভার থানার উপরিদর্শক (এসআই) সাখাওয়াত ইমতিয়াজ বাদী হয়ে রোববার রাতে মামলা করেন। মামলায় সম্রাটসহ আরও অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামী করা হয়েছে। ওই কমিউনিটি সেন্টার থেকে গত বছরের আগস্ট থেকে চলতি জানুয়ারি পর্যন্ত পাঁচটি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল দুপুরে সাভার থানা চত্বরে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে ঢাকার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপস অ্যান্ড ট্রাফিক উত্তর) আরাফাতুল ইসলাম এসব তথ্য দেন। তিনি বলেন, ‘সম্রাট পাগলের মতো আচরণ করলেও তিনি পাগল নন। সাইকো টাইপের (মানসিক বিকারগ্রস্ত) এই সম্রাট একে একে ছয়টি খুন করেছেন। তাঁর পূর্ণ পরিচয় পাওয়া যায়নি। প্রত্যেককেই শ্বাস রোধ করে হত্যার পর তিনজনের লাশ আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেন। তাঁদের মধ্যে মাত্র একজনের পরিচয় পাওয়া গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সাভার কলেজের এক শিক্ষার্থী প্রথমে কমিউনিটি সেন্টারের ভেতরে প্রবেশ করে। পরে ওই শিক্ষার্থী কমিউনিটি সেন্টারের ভেতরে পুড়া মরদেহ দেখতে পেয়ে ৯৯৯ নাম্বারে ফোন দেন। পরে সাভার মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি অপারেশন) হেলাল উদ্দিন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে লাশ দুইটি পুড়ে দেওয়ায় তাদের পরিচয় জানা যায়নি। ঘটনাটি খুঁতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান জানান পুলিশের ওই কর্মকর্তা। ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) সাইদুল ইসলাম বলেন, দুই পোড়া লাশ উদ্ধারের ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সম্রাট নামের একজনকে আটক করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।
উল্লেখ্য, ২৯ আগস্ট রাতে একই স্থান থেকে হাত-পা বাঁধা অজ্ঞাত এক যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়, ১১ অক্টোবর রাতে আবারও সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারের ভেতর থেকে অজ্ঞাত (৩০) এক নারীর অর্ধনগ্ন লাশ উদ্ধার করে পুলিশ, আর ১৯ ডিসেম্বর পরিত্যক্ত ওই পৌর কমিউনিটি সেন্টারের দ্বিতীয় তলার টয়লেটের ভেতর থেকে এক পুরুষের লাশ উদ্ধার করে সাভার মডেল থানা পুলিশ। উদ্ধার হওয়া ওই তিন লাশের পরিচয় এখনো পর্যন্ত সনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। সর্বশেষ একই স্থান থেকে দুই লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।