খুলনা ব্যুরো : সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভির শোক প্রকাশ করেছেন বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
খুলনার মহানগর ও জেলা বিএনপি শোক সংবাদ শোনার পর থেকেই বিএনপি কার্যালয়ে তুলে দিয়েছে কালো পতাকা। কালো ব্যাচ ধারণ করেন মহানগর ও জেলার সকল নেতাকর্মী। এছাড়াও বিএনপি কার্যালয়ে চলছে কুরআন তেলাওয়াত। বিএনপি কার্যালয় আয়োজন করা হয় শোক সভার।
মহানগর বিএনপির সভাপতি শফিকুল আলম মনা বলেন, আজ জাতি এক অভিভাবক হারিয়েছে। জাতির এই ক্রান্তিলগ্নে বেগম খালেদা জিয়াকে প্রয়োজন ছিলো। বিগত সরকার তাকে নির্যাতন করে জেলে দিয়েছিলো। সেখানে বিষ দিয়ে তাকে ধিরে ধিরে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।
সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আমরা বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে অংশগ্রহণ করেছি। দেশবাসী কখনোই ভাবেনি তিনি এতো তাড়াতাড়ি চলে যাবেন। আগামী নির্বাচনে বিএনপিকে জয়ী করে বেগম খালেদা জিয়ার দেশ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
বিএনপি চেয়ারপার্সন ‘মাদার অফ ডেমোক্রেসি’ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তিকালে গভীর শোক প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছেন খুলনা জেলা বিএনপি’র আহবায়ক মো. মনিরুজ্জামান মন্টু ও সদস্য সচিব (ভারপ্রাপ্ত) এসএম মনিরুল হাসান বাপ্পী। বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. মো. রেজাউল করিম।
এক শোক বার্তায় ভিসি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন জাতীয় ঐক্যের প্রতীক। তাঁর আপসহীন নেতৃত্বের ফলে বিভিন্ন সময়ে দেশের সংকটময় পরিস্থিতির সফল উত্তরণ ঘটেছে। তাঁর ইন্তিকালে দেশ এক অভিজ্ঞ, প্রজ্ঞাবান ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক অভিভাবককে হারালো, যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘমেয়াদি শূন্যতার সৃষ্টি করলো। ভিসি মহান আল্লাহ তায়ালার দরবারে মরহুমার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন, আত্মীয়স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।
এদিকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. মোঃ হারুনর রশীদ খান পৃথক এক শোকবার্তায় বলেন, বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক সাহসী ও সংগ্রামী নেত্রী হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। তাঁর মৃত্যু জাতির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. নূরুন্নবী তাঁর শোকবার্তায় বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় বেগম খালেদা জিয়ার দৃঢ়তা, দূরদর্শিতা এবং গণতন্ত্রের বিকাশে আপোষহীন নেতৃত্ব দেশের ইতিহাসে চিরভাস্বর হয়ে থাকবে।
আরও শোক প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল স্কুলের ডিন, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত), ডিসিপ্লিন প্রধান, ছাত্র বিষয়ক পরিচালক, প্রভোস্ট এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।
দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তিকালে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. মাকসুদ হেলালী।
এদিকে দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারর্পাসন সাবেক সফল প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তিকালে গভীর শোক প্রকাশ করে করেছেন খুলনা অঞ্চল জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দ। নেতৃবৃন্দ মরহুমার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে জান্নাতের মেহমান হিসেবে কবুলের জন্য আল্লাহর দরবারে দোয়া করেছেন। বিবৃতিদাতারা হলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সেক্রেটারি খুলনা অঞ্চল পরিচালক মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য খুলনা অঞ্চল সহকারী পরিচালক মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, টিম সদস্য মাওলানা মশিউর রহমান খান, মাস্টার শফিকুল আলম ও হাফেজ রবিউল বাশার, খুলনা মহানগরী আমীর অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান ও সেক্রেটারি এডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল, খুলনা জেলা আমীর মাওলানা এমরান হুসাইন ও সেক্রেটারি মুন্সি মিজানুর রহমান, বাগেরহাট জেলা আমীর মাওলানা রেজাউল করিম ও সেক্রেটারি শেখ মো. ইউনুস, সাতক্ষীরা জেলা আমীর উপাধ্যক্ষ শহীদুল ইসলাম ও সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমান। অনুরূপ বিবৃতি দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর যুববিভাগের সভাপতি মুকাররম আনসারী ও সেক্রেটারি হামিদুল ইসলাম খান, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের মহানগরী সভাপতি আজিজুল ইসলাম ফারাজী ও সেক্রেটারি ডা. সাইফুজ্জামান, মহানগরী সভাপতি আরাফাত হোসেন মিলন ও সেক্রেটারি রাকিব হাসান।
অপরদিকে তিন বারের সাবেক সফল প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপাসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ ও শোক সন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন (এমইউজে) খুলনা ও বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজের নেতৃবৃন্দ। বিবৃতিদাতারা বলেন, এমইউজে খুলনার সভাপতি মো. রাশিদুল ইসলাম, সহ-সভাপতি মো. নূরুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক রানা, সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. আশরাফুল ইসলাম নূর, কোষাধ্যক্ষ মো. রকিবুল ইসলাম মতি, নির্বাহী সদস্য মো. এরশাদ আলী ও কে এম জিয়াউস সাদাত। অনুরূপ বিবৃতি দিয়েছেন বিএফইউজের সহকারী মহাসচিব এহতেশামুল হক শাওন, সাবেক সহ-সভাপতি ড. মো. জাকির হোসেন ও আবু তৈয়ব, সাবেক নির্বাহী সদস্য শেখ দিদারুল আলম ও এইচ এম আলাউদ্দিন। নেতৃবৃন্দ মরহুমার রুহের মাগফিরাত কামনা করে মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া করে বলেন, আল্লাহ তায়ালা যেন তাঁকে জান্নাতের মর্যাদাপূর্ণ স্থানে আসীন করেন।
এদিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ ও শোক সন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন খুলনা প্রেসক্লাবের আহবায়ক এনামুল হক, সদস্য সচিব রফিউল ইসলাম টুটুল, কার্যনির্বাহী সদস্য শেখ দিদারুল আলম, মোঃ মিজানুর রহমান মিলটন, কৌশিক দে, আহমদ মুসা রঞ্জু ও আশরাফুল ইসলাম নূর। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক পরম মহিমান্বিত ব্যক্তিত্ব। গণতন্ত্র, বহুদলীয় রাজনৈতিক, সংস্কৃতি এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তাঁর অসামান্য ভূমিকা ইতিহাসে চির অম্লান হয়ে থাকবে। এমন একজন মহান, দূরদর্শী ও নিখাদ দেশপ্রেমিক নেত্রীর শূন্যতা কখনো পূরণ হবে না। নেতৃবৃন্দ শোক বিবৃতিতে তাঁর আত্মার চিরশান্তি ও মাগফিরাত কামনা করেন।
নোয়াখালী : বিএনপি চেয়ারর্পাসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল। গত ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বেগম জিয়া।
এক বার্তায় নোবিপ্রবি ভিসি বলেন, আপসহীন দেশনেত্রী, বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। আমি মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করছি। অন্যায়ের বিরুদ্ধে তাঁর সাহসী ও আপোষহীন ভূমিকা এ দেশের মানুষ চিরকাল মনে রাখবে। তাঁর মৃত্যুতে দেশ একজন অকুতোভয় আপোষহীন নেত্রীকে হারালো। দেশের এ ক্রান্তিলগ্নে তাঁর রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও সঠিক দিক নির্দেশনা জাতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিলো। মহান আল্লাহ তাঁকে জান্নাতের সর্বোচ্চ মর্যাদা দান করুন।
বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তিকালে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)-এর মাননীয় ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মাহমুদ আব্দুল মতিন ভূইয়া।
এক শোকবার্তায় মাননীয় ভাইস চ্যান্সেলর বলেন-“বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের প্রতিনিধিত্বকারী ব্যক্তিত্ব। গণতন্ত্রের বিকাশ, সাংবিধানিক ধারার সংরক্ষণ এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে তাঁর ভূমিকা ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর ইন্তিকালে দেশ একজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতৃত্বকে হারালো, যা জাতীয় জীবনে এক গভীর শূন্যতা সৃষ্টি করেছে। আমি মরহুমার রূহের মাগফিরাত কামনা করছি। মহান আল্লাহ তাআলা যেন তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন। একই সঙ্গে তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন, আত্মীয়স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি। আল্লাহ পাক যেন তাঁদের এই অপূরণীয় ক্ষতি সহ্য করার শক্তি, ধৈর্য ও সাহস দান করেন।” প্রেস বিজ্ঞপ্তি
চট্টগ্রাম : বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম নারী ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব। গত মঙ্গলবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের ব্যবস্থাপনা কমিটির পূর্বনির্ধারিত সভা স্থগিত করে এক শোকসভার আয়োজন করা হয়।
চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচির সভাপতিত্বে ও সম্পাদক গোলাম মাওলা মুরাদের সঞ্চালনায় সভায় শুরুতেই গণতান্ত্রিক আন্দোলনের আপোসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন ও তাঁর আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। শোক পালনকাল ক্লাবের ব্যবস্থাপনা কমিটির নেতৃবৃন্দ কালো ব্যাজ ধারণ করেন।
খুলনা : সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমাবেদনা জ্ঞাপন করে বিবৃতি দিয়েছেন খুলনা এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ। বিবৃতিদাতারা হলেন- খুলনা এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি শেখ মো: তোবারেক হোসেন তপু, সাধারণ সম্পাদক মো: মোস্তাফিজুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো: অদুদ মিয়া, মো: সাদ্দাম হোসেন জুয়েল প্রমুখ। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।
কিশোরগঞ্জ : সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মাগফেরাত কামনায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার উদ্যোগে অফিস মিলনায়তনে দোয়ার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা আমীর অধ্যাপক মোঃ রমজান আলী। বক্তব্য রাখেন নায়বে আমীর অধ্যক্ষ মাও আজিজুল হক, সেক্রেটারি মাও নজমুল ইসলাম, সরকারি সেক্রেটারি সাংবাদিক শামসুল আলম সেলিম, অধ্যাপক কাজী সাইফুল্লাহ, অধ্যাপক আজিজুল হক প্রমুখ।