চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার চুক্তি ঠেকানো সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন নৌপরিবহন উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম সাখাওয়াত হোসেন। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, শুক্রবার সকাল থেকে বন্দর সচল করতে হবে, অন্যথায় বাধা সৃষ্টি হলে সরকার কঠোর অবস্থানে যেতে বাধ্য হবে।

এদিকে আন্দোলনরত শ্রমিক-কর্মচারীদের সংগঠন ‘চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ’ নৌ উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকের পর শুক্রবার সকাল থেকে ৪৮ ঘণ্টার জন্য কর্মবিরতি স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে। তবে এ সময়ের মধ্যে দাবি আদায়ে সরকারের সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত না এলে পুনরায় অনির্দিষ্টকালের কর্মসূচি শুরুর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সংগঠনটির নেতারা।

বৃহস্পতিবার দুপুরে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ফলে সৃষ্ট অচলাবস্থার মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দর ভবনে শ্রমিক-কর্মচারী প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন নৌ উপদেষ্টা। বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, রমজান সামনে রেখে এ ধরনের আন্দোলনের মাধ্যমে বন্দর বন্ধ রাখা অমানবিক। বন্দর সচল রেখেও নিজেদের দাবি জানানো সম্ভব ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, বন্দর বন্ধ রাখার এখতিয়ার কারও নেই এবং বর্তমানে এভিয়েশন ফুয়েল সরবরাহও ব্যাহত হয়েছে, যা দেশের বিমান চলাচলের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

এনসিটি ইজারা চুক্তি প্রসঙ্গে উপদেষ্টা জানান, এ সিদ্ধান্ত তার ব্যক্তিগত নয়, বরং উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটির মাধ্যমে চূড়ান্ত হবে। তবে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যদিও কোন পর্যায়ে তা কার্যকর হবে সেটিই এখন আলোচনার বিষয়। তিনি দাবি করেন, প্রায় ছয় মাস ধরে এ বিষয়ে আলোচনা চলছে এবং হঠাৎ করে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে না।

সরকার জাতীয় স্বার্থের বাইরে কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, বন্দরের বর্তমান অবস্থার চেয়ে খারাপ পরিস্থিতি তৈরি করবে এমন কোনো পদক্ষেপ সরকার নেবে না। তবে চুক্তি নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলেও জানান তিনি।

আন্দোলনের পেছনে অন্য কোনো মহলের ইন্ধন থাকতে পারে বলেও সন্দেহ প্রকাশ করেন নৌ উপদেষ্টা। তিনি বলেন, বন্দর বন্ধ থাকলে দেশের ১৮ কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং এমন পরিস্থিতিতে সরকার প্রয়োজনে কঠোর অবস্থানে যেতে বাধ্য হতে পারে।

অন্যদিকে বৈঠকের পর বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক হুমায়ুন কবীর সাংবাদিকদের জানান, এনসিটি ইজারা বাতিলের দাবিসহ বিভিন্ন বিষয় উপদেষ্টার কাছে তুলে ধরা হয়েছে। উপদেষ্টা তাদের বক্তব্য উচ্চপর্যায়ে উপস্থাপনের আশ্বাস দিয়েছেন এবং বদলি সংক্রান্ত হয়রানি বন্ধের বিষয়েও ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন। এসব আশ্বাসের ভিত্তিতেই সাময়িকভাবে কর্মবিরতি স্থগিত করা হয়েছে বলে তিনি জানান। তবে দাবি পূরণ না হলে রোববার থেকে পুনরায় লাগাতার কর্মসূচি চালানোর ঘোষণা দেন তিনি। উপদেষ্টার হার্ডলাইনের হুঁশিয়ারিতে তারা ভীত নন বলেও মন্তব্য করেন হুমায়ুন কবীর।

উল্লেখ্য, গত ৩১ জানুয়ারি থেকে পর্যায়ক্রমে কর্মবিরতি পালন করে আসছেন বন্দর শ্রমিক-কর্মচারীরা। পরে ৪ ফেব্রুয়ারি থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মসূচি শুরু হলে বন্দর কার্যক্রম পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়ে।

এ অচলাবস্থার মধ্যেই বৃহস্পতিবার সকালে বন্দর ভবনে প্রবেশের সময় নৌ উপদেষ্টার গাড়ি আটকে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন আন্দোলনকারীরা। এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং উপদেষ্টার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে উপদেষ্টা পরে বন্দর কর্তৃপক্ষ, শ্রমিক প্রতিনিধি এবং ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেন।