শনিবার লেলাং ইউনিয়নের শাহানগর দিঘীরপাড় এলাকায় সন্ধ্যা আনুমানিক সাতটার দিকে এই নৃশংস হত্যাকা- সংঘটিত হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিনটি মোটরসাইকেলে করে আসা একদল অস্ত্রধারী দুর্বৃত্ত হঠাৎ জামাল উদ্দীন ও নাসির উদ্দীনের ওপর এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করে। এতে ঘটনাস্থলেই জামাল উদ্দীনের মৃত্যু হয়। একই ঘটনায় নাসির উদ্দীন গুলিবিদ্ধ হন। তাকে উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (চমেক)-এ ভর্তি করা হয়েছে।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আমীর আলাউদ্দিন সিকদার ও সেক্রেটারি আব্দুল জব্বার এক যৌথ বিবৃতিতে এই বর্বর হত্যাকা-ের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, এই নির্মম হত্যাকা- কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় অবাধে অবৈধ অস্ত্রের দাপট এবং প্রশাসনের চরম ব্যর্থতারই ফল। বারবার প্রশাসনকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হলেও রহস্যজনকভাবে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এরই পরিণতিতে আজ প্রকাশ্য দিবালোকে সন্ত্রাসীরা জামাল উদ্দীনকে গুলি করে নির্বিঘেœ পালিয়ে যাওয়ার দুঃসাহস দেখিয়েছে।

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, এই হত্যাকা- প্রমাণ করে যে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভয়াবহভাবে ভেঙে পড়েছে এবং সাধারণ মানুষের জীবন আজ চরম অনিরাপত্তার মধ্যে রয়েছে। আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই—অপরাধীদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ আশ্রয়-প্রশ্রয় এবং প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তাই সন্ত্রাসকে আরও বেপরোয়া করে তুলেছে।

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জামায়াতে ইসলামী অবিলম্বে এই হত্যাকা-ে জড়িত সকল সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার, তাদের হাতে থাকা অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জোর দাবি জানাচ্ছে। অন্যথায় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করতে আমরা বাধ্য হব।

নেতৃবৃন্দ শহীদ জামাল উদ্দীনের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। একই সঙ্গে প্রশাসনকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন—এই হত্যাকা-ের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে এর দায় কোনোভাবেই এড়ানো যাবে না।

সন্ত্রাস, খুন ও অবিচারের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জামায়াতে ইসলামী আপসহীনভাবে সংগ্রাম চালিয়ে যাবে।