রাবি রিপোর্টার

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মাদরাসা জনবল কাঠামো ও এমওপি নীতিমালায় স্বীকৃত বিশ্ববদ্যালয়ের আরবি বিভাগের শিক্ষার্থীদের প্রভাষক নিয়োগ পদে দাখিল ও আলিম বাধ্যতামূলক যোগ করা শর্ত বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) আরবি বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা এনটিআরসির কাছে আরোপিত শর্ত বাতিলের দাবিতে জোর আবেদন জানান। এসময় আরবি বিভাগের শিক্ষার্থীরা বলেন, “আমরা এখানে ৫ বছর আরবীতে অনার্স-মাস্টার্স কমপ্লিট করছি, তারপরও কেনো আমরা শুধু অনার্স দিয়ে প্রভাষক হতে পারবো না? আমরা অতিদ্রুত এই বৈষম্যমূলক পদ্ধতির অবসান চাই। পাশাপাশি প্রভাষক পদে যে দাখিল ও আলিম শর্ত দিয়েছে এনটিআরসি, আমরা তার বাতিল চাই।” তারা বলেন, গত ফেব্রুয়ারিতে প্রণীত এই নীতিমালার মাধ্যমে আরবি বিভাগের শিক্ষার্থীদের সুযোগ সংকুচিত করা হয়েছে। আগের নীতিমালায় আরবিতে অনার্স করলেই প্রভাষক ও সহকারী মৌলভি পদে আবেদন করার সুযোগ ছিল। কিন্তু নতুন নীতিমালায় দাখিল ও আলিম বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। কারণ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে দাখিল-আলিম ছাড়াও শিক্ষার্থীরা আরবি বিভাগে পড়াশোনা করছে এবং সংশ্লিষ্ট খাতে অবদান রাখার লক্ষ্যে ভর্তি হচ্ছে। কিন্তু পড়াশোনা শেষে তারা দেখছে তাদের সুযোগ সীমিত করে দেয়া হচ্ছে- এটি স্পষ্ট বৈষম্য।” আরবি বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. মনিরুজ্জামান বলেন, “আজকের এই প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই- এনটিআরসির নীতিমালা অবিলম্বে পরিবর্তন করে পূর্বের ন্যায় আরবি বিভাগের শিক্ষার্থীদের সকল বিষয়ে প্রভাষক হওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে এবতেদায়ি ও দাখিল পর্যায়ে মৌলভি পদে আমাদের ছাত্র-ছাত্রীদের সকল বিষয়ে আবেদন করার সুযোগ দিতে হবে এবং যারা পরিকল্পিতভাবে এই বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সঙ্গে জড়িত, তাদেরকে অবিলম্বে বোর্ড সদস্য পদ থেকে অপসারণ করতে হবে। একটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে এ ধরনের বৈষম্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আরবি বিভাগের শিক্ষার্থীদের এভাবে বঞ্চিত করা ন্যায়সংগত হতে পারে না।” আরবি বিভাগের অধ্যাপক ড. কামারুজ্জামান বলেন, “যেকোনো স্থানে বৈষম্যমূলক নীতি চাপিয়ে দিলে তার প্রণেতা ও দায়ীদের চিহ্নিত করা জরুরি।”