দাউদকান্দি (কুমিল্লা) সংবাদদাতা : কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার ব্যস্ততম বাণিজ্যিক কেন্দ্র মানিকারচর বাজারে ফুটপাত দখলের মহোৎসব চলছে। ইজারার দোহাই দিয়ে ফুটপাতে অস্থায়ী দোকান বসিয়ে নিয়মিত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে বাজার কমিটির বিরুদ্ধে। এতে জনদুর্ভোগ চরম আকারে পৌঁছালেও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে মানিকারচর বাজারে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাজারের ভেতরের প্রধান সড়ক ও দুই পাশের ফুটপাতজুড়ে সারি সারি অস্থায়ী দোকান। এতে মূল সড়ক এতটাই সংকুচিত হয়ে পড়েছে যে, একটি রিকশা বা ভ্যান দাঁড়ালেই দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। পথচারীরা ঝুঁকি নিয়ে চলন্ত যানবাহনের মাঝ দিয়েই চলাচল করছেন, যা যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।ফুটপাতে বসা এক বিক্রেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সরকারি সড়কের ওপর দোকান বসাতে তাদের প্রতিদিন ২৫০ টাকা করে দিতে হয়। বাজার কমিটির ‘শুক্কুর’ নামে এক ব্যক্তি নিয়মিত এই অর্থ সংগ্রহ করেন। স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন—বাজার ইজারা দেওয়া হলেও সরকারি সড়ক বা ফুটপাত কি সেই ইজারার আওতাভুক্ত? ফুটপাত জনসাধারণের চলাচলের স্থান হলেও সেখানে বসার বিনিময়ে অর্থ আদায়কে অনেকেই সরাসরি চাঁদাবাজি হিসেবে অভিহিত করেছেন।অভিযোগ রয়েছে, মাঝে মাঝে উপজেলা প্রশাসন বা ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালিত হলেও তা কেবল নামমাত্র জরিমানার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। সাধারণত ২০০ থেকে ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়। বিক্রেতাদের দাবি, দৈনিক আয়ের তুলনায় এই জরিমানার পরিমাণ খুবই সামান্য। ফলে অভিযানের কয়েক দিনের মধ্যেই পরিস্থিতি আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায়। স্থানীয়দের মতে, স্থায়ী সমাধান না করে দায়সারা অভিযান প্রশাসনের কার্যকারিতাকেই এখন প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।দামানিকারচর বাজারের সাধারণ ব্যবসায়ী ও পথচারীদের দাবি, দ্রুত এই ফুটপাত বাণিজ্য বন্ধ করে যানজটমুক্ত বাজার নিশ্চিত করা হোক। অন্যথায় এই বাণিজ্যিক কেন্দ্রের গুরুত্ব হারানোর পাশাপাশি জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে।
গ্রাম-গঞ্জ-শহর
মেঘনায় ইজারার আড়ালে ফুটপাত বাণিজ্য
কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার ব্যস্ততম বাণিজ্যিক কেন্দ্র মানিকারচর বাজারে ফুটপাত দখলের মহোৎসব চলছে।