চুয়াডাঙ্গা সংবাদদাতা
চুয়াডাঙ্গার দর্শনার নীমতলা সীমান্ত পথে বিজিবির অলক্ষ্যে রাতের আধারে ১৪ জন ভারতীয় হিন্দিভাষী নাগরিককে বাংলাদেশে পুশইন করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। শুক্রবার রাতে দর্শনা বাসস্ট্যান্ডে তাদের অবস্থানের খবর স্থানীয়দের মাধ্যমে সংবাদকর্মীরা জানতে পারে, পরে প্রশাসনের লোকজন জড়ো হয়। এর আগে বৃহ¯পতিবার দিনগত রাতের শেষভাগে কোনো এক সময় নদীয়া জেলার গেদে সীমান্তের কাটাতারের বেড়ার গেট খুলে তাদের জোরপূর্বক তাদেরকে দর্শনায় বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঠেলে দেওয়া হয়।
পুশইন হওয়া ব্যক্তিরা জানান-সীমান্ত এলাকা থেকে প্রায় চার কিলোমিটার পায়ে হেটে বিভিন্ন স্থানে আশ্রয়ের খোঁজে ঘোরাফেরা করেন। কিন্তু বাংলাদেশে তাদের কোনো পরিচিত ঠিকানা কিংবা পৈত্রিক বাড়ির অবস্থান জানাতে না পারায় তারা কোথাও আশ্রয় পাননি। অবশেষে উপায় না পেয়ে তারা দর্শনা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এসে আশ্রয় নেন। সেখানে তারা অস্থায়ীভাবে একটি তাবু টাঙিয়ে রাত কাটান। পুশইন হওয়া এই ১৪ জন একই পরিবারের সদস্য। তাদের মধ্যে পুরুষ ৫ জন, নারী ৬ জন ও শিশু ৪ জন। তারা সবাই হিন্দি ভাষাভাষী। তারা জানান, ভারতের উড়িষ্যা রাজ্যের জগৎসিংহ জেলার সাতপোড়া দানিপুর গ্রামে ৭০ বছর যাবৎ স্বপরিবারে বসবাস করে আসছিলেন হারুণ অর রশিদের ছেলে আব্দুল জব্বার (৭৩)। মাস খানেক আগে এক গভীর রাতে ওখানকার থানা পুলিশ জব্বারসহ তার পরিবারের ১৪ সদস্যেকে ধরে নিয়ে গিয়ে বাংলাদেশি অপবাদ দিয়ে আটক করে জেলে পাঠায়। এ সময় তাদের আধার কার্ড ও রেশন কার্ড কেড়ে নেওয়া হয়। পরে তারা উড়িষ্যার একটি কারাগারে এক মাস পাঁচ দিন বন্দি ছিলেন। সেখান থেকে দুই দিন আগে তাদের কলকাতায় নিয়ে আসা হয় এবং পরবর্তীতে নদীয়া জেলার গেদে সীমান্ত দিয়ে মধ্যরাতের পর বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হয়।
শুক্রবার ২৬ ডিসেম্বর রাতে দর্শনা বাসস্ট্যান্ডে তাদের অবস্থানের খবর স্থানীয়দের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে মানবিক সহানুভূতি থেকে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা এগিয়ে আসেন। রাত আনুমানিক ১০টার দিকে তারা শীতবস্ত্র ও খাবার দিয়ে সহযোগিতা করেন এবং একটি দোকানের সামনে তাদের অবস্থান করতে সহায়তা করেন। এ খবর পেয়ে দর্শনা থানা পুলিশ ও বিজিবির সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌছে ওই ১৪ জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
অনুপ্রবেশকারীদের মধ্যে রয়েছে, শেখ আব্দুর জব্বারের ছেলে হাকিম শেখ (৪৮), শেখ উকিল (৪৫), শেখ বান্টি (৩০), শেখ রাজা (৩৮), শেখ জব্বারের স্ত্রী আলকুনি বিবি (৬৫)), শেখ উকিলর স্ত্রী সাগেরা বিবি (৩৬), মেয়ে শাকিলা (৯), শেখ রাজার স্ত্রী মেহরুন বিবি (২৮), মেয়েনাসিরন (১০), ছেল রোহিত (২) তৌহিদ (১১), শেখ হাকিমের স্ত্রী শমেশর বিবি (৩৪) ও শেখ হোসেনের স্ত্রী গুলশান বিবি (৮০)।
দর্শনা থানার অফিসার ইনচার্জ মেহেদী হাসান বলেন, পুশইন হওয়া ব্যক্তিদের অনেকেই অসুস্থ। তাদের আগে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসা শেষে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে পরামর্শ করে পরবর্তী আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গতকাল সন্ধায় বিজিবির দর্শনাস্থ কোম্পানী কমান্ডার সুবেদার আবুল বাশার জানান-পুশইনকৃত ১৪ জন বর্তমানে তাদের হেফাজতে আছে, অনেকে অসুস্থ হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তক্রমে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।