ঘিওর (মানিকগঞ্জ) সংবাদদাতা : মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার কালিগঙ্গা নদীর ওপর বৈকুণ্ঠপুরে নির্মিত কংক্রিটের সেতুটি ঠায় দাঁড়িয়েই অকার্যকর হয়ে আছে তিন বছরের বেশি সময় ধরে। ফলে ৩০টি গ্রামের কয়েক দশকের বিচ্ছিন্নতা দূর করার স্বপ্ন আর বাস্তবায়িত হয়নি। যে জনগোষ্ঠীর সেবা দেওয়ার জন্য এটি নির্মাণ করা হয়েছিল, তাদের সঙ্গে সেতুটির কোনো সংযোগই নেই।

নির্মাণ শেষ হওয়ার পরও স্থাপনাটি অব্যবহৃত পড়ে আছে। স্থানীয়রা বলছে, দুর্বল পরিকল্পনার কারণে উন্নয়ন প্রকল্প কিভাবে হতাশার কারণ হতে পারে এটি এর বড় উদাহরণ। দুই প্রান্তেই কোনো সংযোগ সড়ক নেই। ফলে ৩৬৫ মিটার দীর্ঘ সেতুটি যোগাযোগের প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ হয়েছে।

নদীর দুই তীরের একের পর এক গ্রামের মানুষের দৈনন্দিন জীবন এখনো ঝুঁকি, দুর্ভোগ আর দীর্ঘ পথ ঘুরে চলাচলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। গ্রামবাসী বলছে, যোগাযোগ সহজ করার বদলে সেতুটি এখন হতাশার প্রতীক হয়ে উঠেছে। কালিগঙ্গা নদী পার হতে এখনো ফেরিনৌকানির্ভর হতে হচ্ছে, যা প্রায়ই ঝুঁকিপূর্ণ। মোটরসাইকেল, ভ্যান ও রিকশা একটির পর একটি করে ফেরি নৌকায় তুলে নদী পার করানো হয়।

সংযোগ সড়ক না হওয়ায় পূর্ব পাড়ের লোকজন ঘিওর উপজেলা সদরে ও আশপাশের এলাকা এবং পশ্চিম পাড়ের লোকজন জেলা সদরসহ আশপাশের এলাকায় যাতায়াতে ভোগান্তি পোহাচ্ছে। এ ছাড়া দুই পাড়ের মানুষ হেঁটে খেয়াঘাটে গিয়ে নৌকায় নদী পার হচ্ছে। রিকশা, ভ্যান, মোটরসাইকেলসহ ছোট ছোট যানবাহনও খেয়া নৌকায় পারাপার হচ্ছে।

এলাকাবাসীর মতে, যোগাযোগ সহজ করার পরিবর্তে, সেতুটি এখন হতাশার প্রতীক। তারা জানায়, ব্যক্তিগত ঝুঁকি নিয়ে ফেরি নৌকায় করে কালীগঙ্গা নদী পার হয়, অন্যদিকে মোটরসাইকেল, ভ্যান এবং রিকশা একে একে নদী পার করা হয়। তারা আরো জানান, কয়েক মিনিটের রাস্তা এখন কয়েক ঘণ্টা সময় লাগে। প্রয়োজনীয় গন্তব্যে পৌঁছাতে প্রায় ১৫ কিলোমিটার অতিরিক্ত ভ্রমণ করতে হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সেতু সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা জানান, জমি অধিগ্রহণে জটিলতার কারণে এই বিলম্ব হয়েছে। অ্যাপ্রোচ রোডের জন্য প্রায় ৬.২০ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছিল এবং ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকদের ক্ষতিপূরণ দিতে ১২.১০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল। তবে ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণে বিলম্বের কারণে জমির মালিকরা তাদের জমির দখল হস্তান্তর করেননি, যার ফলে নির্মাণকাজ স্থবির হয়ে পড়ে। ফলস্বরূপ, সেতুটি তিন বছর ধরে অকেজো পড়ে আছে।

মানিকগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী এ বি এম খোরশেদ আলম বলেন, জমিসংক্রান্ত জটিলতার কারণে ঠিকাদাররা সংযোগ সড়কের কাজ শুরু করতে পারছেন না, তবে প্রক্রিয়াটি প্রায় শেষের দিকে। ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকদের কাছে ক্ষতিপূরণের চেক হস্তান্তর করা হলে, অবিলম্বে নির্মাণকাজ শুরু করা হবে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ আলী বলেন, জমি অধিগ্রহণ একটি চলমান প্রক্রিয়া। ইতিমধ্যেই নোটিশ জারি করা হয়েছে। আমরা ৭১ জন ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিককে চিহ্নিত করেছি। নয়জন ইতিমধ্যেই ক্ষতিপূরণের জন্য আবেদন করেছেন এবং আবেদনপত্র পাওয়ার পর বাকিদের চেক দেওয়া হবে।