অভয়নগর (যশোর) সংবাদদাতা : যশোর-খুলনা মহাসড়কের চলমান উন্নয়ন কাজের ধীরগতির কারণে যশোরের অভয়নগর উপজেলায় ভয়াবহ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়কে আটকে থেকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে যাত্রী, চালক ও সাধারণ মানুষকে। বিশেষ করে নওয়াপাড়া ও আশপাশের এলাকায় যানজট এখন নিত্যদিনের চিত্রে পরিণত হয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়ছে এম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস ও অন্যান্য জরুরি সেবার যানবাহন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে একযোগে খোঁড়াখুঁড়ি ও নির্মাণকাজ করার কারণে সড়কের কার্যকর প্রস্থ অনেক কমে গেছে। কোথাও কোথাও সড়কের এক পাশ সম্পূর্ণ বন্ধ থাকায় দুই দিকের যানবাহনকে একটি সরু লেন দিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে। এতে সামান্য যানবাহনের চাপ বাড়লেই দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।
যাত্রীদের অভিযোগ, কখনো কখনো ৫ থেকে ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটে আটকে থাকতে হচ্ছে ২ থেকে ৩ ঘণ্টা পর্যন্ত। অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী, রোগীবাহী গাড়ি এমনকি দূরপাল্লার বাসও একই ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। বাসের ভেতরে হাঁসফাঁস করছে নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা।
নওয়াপাড়া থেকে খুলনাগামী এক যাত্রীরা জানায়, “সকালে অফিসের জন্য বের হয়েছিলাম। মাত্র ৩০ কিলোমিটারের রাস্তা পার হতে সময় লেগেছে প্রায় তিন ঘণ্টা। এভাবে চলতে থাকলে চাকরি টিকিয়ে রাখাই কঠিন হয়ে যাবে।”
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, যানজটে আটকে পড়ছে এম্বুলেন্স ও অন্যান্য জরুরি যানবাহন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সম্প্রতি একাধিকবার রোগীবাহী এম্বুলেন্স দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে ছিল। এতে রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অনেক ক্ষেত্রে রোগীকে অন্য পথে ঘুরিয়ে নিতে গিয়ে অতিরিক্ত সময় ও খরচ বেড়েছে।
একজন অ্যাম্বুলেন্স চালক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা যখন সাইরেন বাজিয়েও সামনে এগোতে পারি না, তখন খুব অসহায় লাগে। মানুষ রাস্তা ছাড়তে চাইলেও জায়গা নেই। এভাবে যদি কেউ মারা যায়, দায় কে নেবে?’
স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও এই যানজটে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ছেন। নওয়াপাড়া বন্দর ও আশপাশের বাজার এলাকায় পণ্য পরিবহনে মারাত্মক বিঘœ ঘটছে। সময়মতো মালামাল পৌঁছাতে না পারায় অনেক ব্যবসায়ী আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। কাঁচামাল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় কিছু পণ্যের দামও বেড়েছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।
নওয়াপাড়ার ব্যবসায়ী আ: সালাম জানান, “ট্রাক সময়মতো আসতে পারে না। গাড়ী লোড করে গন্তব্যে যাওয়ার জন্য মহাসড়কে উঠলেই যানজটে আকটে বসে থাকছে ঘন্টার পর ঘন্টা। এতে সময়মত পন্য সঠিক জায়গায় পৌছাতে না পারায় ব্যবসায়ীকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচেচ্ছ আবার পরিবহন খরচ বাড়ছে, পণ্যের দামও বাড়াতে হচ্ছে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজের পরিকল্পনায় চরম সমন্বয়হীনতা রয়েছে। একাধিক স্থানে একসঙ্গে কাজ শুরু করলেও পর্যাপ্ত শ্রমিক ও যন্ত্রপাতি না থাকায় কাজ শেষ হচ্ছে না। আবার অনেক জায়গায় দিনের পর দিন কোনো কাজই হচ্ছে না, শুধু রাস্তা কেটে ফেলে রাখা হয়েছে।