বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা শাহাদাতুজ্জামানের নির্বাচনী অফিসে হামলা চালিয়ে জামায়াতের ৩ নেতাকর্মিকে আহত করেছে বিএনপি। হামলাকারীরা নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়েছে। এবিষয়ে থানায় এজাহার দায়ের করলেও পুলিশ হামলাকারীদের গ্রেফতার করেনি। গত ২৬ জানুয়ারি মঙ্গলবার দুপুরে হামলার ঘটনা ঘটে।

বুধবার দুপুরে বগুড়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামী শিবগঞ্জ উপজেলার কিচক ইউনিয়ন শাখার আমির মোফাজ্জল হোসেন এই অভিযোগ করেন। তিনি লিখিত বক্তব্যে বলেন, “ গত ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ ইং তারিখ, দুপুর আনুমানিক ১২টা ৩০ মিনিটে, শিবগঞ্জ উপজেলার কিচক ইউনিয়নের উত্তর বেলাই গ্রামে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মাওলানা শাহাদাতুজ্জামানের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের নির্বাচনী কার্যালয়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে সশস্ত্র হামলা চালানো হয়। বিএনপি সমর্থিত একদল দাঙ্গাবাজ ও ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আমাদের শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী অফিসে হামলা করে। এই বর্বর হামলায় জামায়াতে ইসলামীর কিচক ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি মোঃ শাহ জালাল, সমর্থক মোঃ রশিদুল ইসলাম ও মোঃ আবু তাহের গুরুতরভাবে আহত হন। তাদের মাথা, হাত ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়। একপর্যায়ে শাহ জালালকে গলা চেপে হত্যার চেষ্টা করা হয়। পাশাপাশি নির্বাচনী অফিস ভাঙচুর করে নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। অভিযোগ পাওয়ার পর পরপরই পুলিশ, সেনাবাহিনী এবং সরকারের বিভিন্নগোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং ঘটনার সত্যতা সম্পর্কে অবগত হন।” তিনি অভিযোগ করেন, আমি আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে শিবগঞ্জ থানায় এজাহার দায়ের করি। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখ ও উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি এজাহার গ্রহণের পরও ঘটনার সাথে জড়িত অভিযুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এই পরিস্থিতিতে জনমনে প্রশ্ন উঠছে, স্থানীয় প্রশাসন কি কোনো বিশেষ রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করছে না? বিষয়টি গণতন্ত্র, সুষ্ঠু নির্বাচন এবং আইনের শাসনের জন্য মারাত্মক হুমকি।আমরা এই ঘটনার মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা, প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশে প্রতিপক্ষের নেতাকর্মীদের ওপর এভাবে হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।” সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বগুড়া শহর জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা আলমগীর হোসাইন অভিযোগ করেন, “শিবগঞ্জে জামায়াত প্রার্থীর ব্যানার এবং ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে। প্রশাসন এখনো লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে পারেনি।” তিনি বলেন, “জামায়াতে ইসলামী একটি শান্তিপূর্ন রাজনৈতিক দল। আমরা অশান্ত হতে চাই না।” সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “সুষ্ঠু পরিবেশে নির্বাচন হলে বগুড়া-২ আসনে জামায়াতের প্রার্থী দাঁড়িপাল্লা প্রতিকে বিপুল ভোটে বিজয়ী হবে।” সংবাদ সম্মেলনে বগুড়া-২ আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা শাহাদাতুজ্জামান সহ নেতাকর্মিরা উপস্থিত ছিলেন।