একটি মহল নারী সমাজকে হিজাব খুলে অপমান করছে, দেশের স্বার্থ বিরোধী হয়ে অন্য দেশের স্বার্থ রক্ষায় তৎপর, পাশাপাশি চাঁদাবাজি টেন্ডারবাজিসহ নানা অনিয়মে লিপ্ত এমন অভিযোগ তুলে বিএনপিকে ইঙ্গিত করে কথা বলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক এবং কুমিল্লা-৪ আসনে ১১ দলীয় ঐক্যজোটের প্রার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহ।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে যশোর শহরের ভৈরব চত্বরে ১১ দলীয় ঐক্যজোটের নির্বাচনী পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন,

তাদের নেতারা একদিকে ‘হ্যাঁ’ প্রচার করছেন, আরেকদিকে কর্মীরা ‘না’ প্রচারণা চালাচ্ছে এটাই তাদের দ্বিমুখী রাজনীতি। এরা জনগণের চাহিদা বোঝে না।

ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তাহীনতার বিষয় তুলে ধরে তিনি বলেন, মানুষের হাতে ভোটপ্রার্থীর হাতে নয়। এমনকি যারা চাঁদাবাজি করেন, তারাও সন্তানদের সুন্দর ভবিষ্যৎ চান। তাই ঘরে ঘরে গিয়ে তাদের দাওয়াত দিতে হবে।

প্রশাসনের আচরণ নিয়ে সমালোচনা হাসনাত বলেন, গতকাল প্রশাসনের আচরণ ছিল এক প্রকার টেস্ট ম্যাচ। আবারও পূর্বের মতো পুলিশকে ব্যবহার করার চেষ্টা হচ্ছে। আপনাদের পরা পোশাক জনগণের আস্থার প্রতীক কোনো রাজনৈতিক দলের নয়। জনগণের টাকায় বেতন পান, তাই জনগণের পক্ষেই থাকুন।

তিনি আরও বলেন, ডিবি হারুন, বেনজীর আহমেদের মতো প্রভাবশালীরাও আজ নেই। জনগণের আন্দোলনকে কখনো গুলি-গোলাবারুদ থামাতে পারেনি। তাই গোলামি মনোভাব বাদ দিতে হবে। আর কোনো প্রহসনের নির্বাচন জনগণ চায় না।

তিনি বলেন,অবৈধ টাকার কাছে নিজেকে সঁপে দিলে পরবর্তী পাঁচ বছর পোস্টিং–বদলির জন্য আপনাদের রাজনৈতিক নেতাদের কাছে দাসত্ব করতে হবে। বিএনপি, জামায়াত কিংবা এনসিপি—কোনো দলের পুলিশ হওয়ার দরকার নেই, আপনারা বাংলাদেশ রাষ্ট্রের পুলিশ হন। আমরা আপনাদের পাশে থাকব।”

ধানের শীষের নেতাকর্মীদের প্রতি বার্তা হাসনাত বলেন, অনেক বিএনপি নেতাকর্মী চাপের মুখে আছেন এবং আমাদের গোপনে এসব জানান। হাইব্রিড নেতৃত্ব এসে তাদের অবমূল্যায়ন করছে। তারা মিছিল নিয়ে কেন্দ্রে যাবেন ঠিকই, কিন্তু ভোট দেবেন ১১ দলীয় ঐক্যজোটকে আপনারা তাদের কাছে এই আমন্ত্রণ পৌঁছে দিন।

ফ্যাসিবাদ মুক্ত রাষ্ট্রের নির্বাচন তিনি আরও বলেন, এই নির্বাচন আধিপত্যবাদ–বিরোধী, রাষ্ট্র পুনর্গঠনের নির্বাচন এবং ফ্যাসিবাদকে কবরস্থ করার নির্বাচন। ১২ তারিখ সকাল সাড়ে সাতটা থেকেই ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ফলাফল ঘোষণার আগ পর্যন্ত পাহারা দিতে হবে। যশোরবাসী সেদিন নিজেদের বিজয় নিশ্চিত করবে।

স্থানীয় জনগণের উদ্দেশে তিনি বলেন, যারা টেন্ডারবাজি, জমি দখল করে বেড়িয়েছে—তারাই আজ আমাদের বিপক্ষে। এতে বুঝা যায় তারা ক্ষমতায় গেলে কী করবে। তাই ঐক্যবদ্ধভাবে দাড়িপাল্লা ও শাপলা কলির বিজয় নিশ্চিত করতে হবে।

পথসভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর যশোর-৩ এর প্রার্থী ভিপি আব্দুল কাদের। বক্তব্য দেন এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা সাকিব শাহরিয়ারসহ জোটের অন্যান্য নেতারা।

হাসনাতের আগমনকে কেন্দ্র করে পথসভায় বিপুল জনসমাগম দেখা যায়। প্রশাসন কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে, পোশাকধারী ও সাদা পোশাকের পুলিশ মোতায়েন ছিল।