কবির আহমদ, সিলেট ব্যুরো : আর ৭ কিংবা ৮ দিন পর মুসলমানদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হবে। রমযানের প্রথমদিকে ঈদ বাজার জমে না উঠলেও গত শুক্র ও শনিবার থেকে জমে উঠেছে সিলেটের ঈদ বাজার। ফুটপাত থেকে অভিজাত্য বিপণি বিতান পর্যন্ত কেনাকাটায় ব্যস্ত রয়েছেন নগরবাসী। ইফতারের পর থেকে সাহরীর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত কেনাকাটা চলছে বিরামহীনভাবে। প্রিয়জনদের মুখে হাঁসি ফুটাতে কেনাকাটায় ব্যস্ত সিলেটের মানুষ। রমযানের শেষ সপ্তাহে এসে বরাবরের মতোই জমে উঠেছে ঈদের কেনাকাটা। ঈদ উৎসব পালনের জন্য প্রস্তুতির শেষ নেই। নতুন পছন্দের পোশাক কেনার জন্য এক মার্কেট থেকে আরেক মার্কেটে চলছে ছুটাছুটি। গত শনিবার রাতে সরজমীনে গিয়ে এমন দৃশ্য দেখা যায় সিলেটের ঈদ বাজারের বিভিন্ন বিপণি বিতান গুলোতে।

সিলেটে গত দুই-তিন দিন ধরে রাতের বেলা হয় বৃষ্টি, তার সাথে থাকে বর্জ্রপাত। দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেও নগরীর বিভিন্ন মার্কেট ও শপিংমল থেকে শুরু করে ফুটপাতে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। রমযানের শেষ দশকে এসে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে ঈদের বাজারে এখন উৎসবের আমেজ। প্রায় প্রতিটি পরিবারের তরুণ-তরুণী, শিশুরা ঈদ বাজারে। শাড়ি, ড্রেস, গহনা, পাঞ্জাবি, পায়জামা, লুঙ্গি, শিশুদের পোশাক থেকে শুরু করে সব দোকানে এখন ভিড় করছেন ক্রেতারা। কেনাকাটার কারণে নগরীতে প্রচন্ড যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। নগরীর অনেক এলাকায় হাটাচলা দায় হয়ে পড়েছে। গত শুক্রবার থেকে শনিবার দুই ছুটির দিন নগরীর কাপড়ের বাজারে ঢল নেমেছে ক্রেতাদের। দুপুর থেকে শুরু হয় কেনাকাটা চলে মধ্যরাত এমনকি সাহরী পর্যন্ত। এবার বাজারের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো দেশীয় পোশাকের আধিপত্য। অন্যান্য বছর ভারতীয় সিরিয়াল ও নায়িকাদের নামে বিভিন্ন পোশাক জনপ্রিয় হলেও এবার বাজারে সেগুলোর তেমন উপস্থিতি নেই। ফলে ভিনদেশীয় পোশাকের পাশাপাশি দেশীয় ডিজাইনের পোশাকের বিক্রি বেড়েছে কয়েকগুণ। সিলেটবাসী অনেকটা ভারতীয় পোশাক বয়কট করেছেন। সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, সিলেটের অভিজাত শপিংমল জিন্দাবাজারের আল-হামরা শপিং সিটি, সিটি সেন্টার, ব্লু-ওয়াটার শপিং সিটি, মহিলাদের পছন্দের একমাত্র মার্কেট শুকরিয়া মার্কেট, কাজী ম্যানশন, মধুবন, প্লাজা মার্কেট, বন্দরবাজার ও জিন্দাবাজারের বিভিন্ন মার্কেট ও বিপণিবিতানগুলোতে এমন দৃশ্য দেখা গেছে। এছাড়া নয়াসড়ক ও কুমারপাড়া অভিজাত ফ্যাশন হাউসগুলোতেও উপচে পড়া ভিড়। সকাল থেকে রাত অব্দি পছন্দের পোশাক ও ঈদ অনুষঙ্গ খুঁজে বেড়াচ্ছেন তরুণ-তরুণীরা। সিলেটে মধ্যবিত্ত ও নি¤œবিত্তের মার্কেট নামে পরিচিত হাসান মার্কেট ও হকার্স মার্কেটে যারা দিনে আনে দিনে খায় তাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। ফুটপাত থেকেও নি¤œবিত্তের মানুষ কেনাকাটা করছেন ব্যাপক হারে। ক্রেতাদের পছন্দের পোশাক দেখাতে ও সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে বিক্রেতাদের। এসব মার্কেটে পুরুষ ক্রেতার চেয়ে নারী ক্রেতার সংখ্যা অনেক বেশি। তারা পছন্দের পোশাক কিনতে ঘুরছেন এক মার্কেট থেকে অন্য মার্কেটে।

এদিকে গরমকে সামনে রেখে তরুণীদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে থ্রি-পিস, লেডিজ টপস, বিভিন্ন ডিজাইনের কুর্তি-প্যান্ট, শাড়িসহ বাহারি ডিজাইনের দেশিয় পোশাক। এছাড়া পাকিস্তানী ড্রেস ও মিলছে এসব দোকানগুলোতে। তবে ভারতীয় ড্রেসের সংখ্যা খুবই কম, বিক্রিও তেমন নেই তবে পাকিস্তানী ড্রেসগুলো এবার খুঁজে নিচ্ছেন ক্রেতারা। নগরীর শুকরিয়া মার্কেট থেকে পোশাক কিনেছেন সানজিদা আক্তার। তিনি জানান, এবার দেশি ড্রেসগুলোই ভালো, ভারতীয় ড্রেসগুলো এবার কিনতে আমাদের আগ্রহ নেই। দামের ব্যাপারে তিনি বলেন, ঈদের সময় যা দাম হয় তাই খুব একটা তুলনা করার মতো নয়। এরপরও এবারের ঈদে পোশাকের দাম তেমন বাড়েনি।

তরুণীদের পোশাক দেড় হাজার থেকে শুরু করে দশ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। ছোটদের পোশাকেও রয়েছে ভিন্নতা। মেয়ে শিশুদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে লং ফ্রক ও পার্টি ফ্রক। এবারের ঈদে শিশুদের পোশাক অনেক চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। কসমেটিক্স এবং চুড়ির দোকানগুলোতে তরুণীদের ভিড় বাড়ছে। এ ছাড়া মার্কেটগুলোতে উঠেছে লেহেঙ্গা ও লং কামিজেরও চাহিদাও রয়েছে। ছেলে শিশুদের চাহিদার শীর্ষে রয়েছে সুতি টি-শার্ট ও বেবি স্যুট। এ ছাড়া বিভিন্ন ডিজাইনের প্যান্ট।

তরুণীদের জন্য আছে সারারা, গারারা, নায়রা ও গাউন, থ্রি-পিস, লেডিজ টপস, বিভিন্ন ডিজাইনের কুর্তি-প্যান্টসহ বাজেটের মধ্যে পোশাক। পোশাকের দাম ধরা হয়েছে ১৫০০ থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। তবে ২-৪ হাজার টাকার মধ্যেই মধ্যবিত্তদের জন্য ভালো মানের পোশাক পাওয়া যাচ্ছে, যা ক্রেতাদের সাধ্যের মধ্যে রয়েছে। তরুণ যুবকদের পছন্দের তালিকায় জগার্স প্যান্ট, শার্ট ও গেঞ্জির চাহিদা বেশি। এছাড়া পাঞ্জাবি, পায়জামাও বিক্রি হচ্ছে। ঈদকে কেন্দ্র করে দৈনিক গড়ে বিক্রি হচ্ছে ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত। সামনে আরও বাড়বে বলে বিক্রেতারা আশা প্রকাশ করেন। ঈদের পাঞ্জাবী কিনতে ব্লু-ওয়াটার ও শুকরিয়া মার্কেটে কলেজ ভার্সিটির শিক্ষার্থীদের উপচেপড়া ভিড় দেখা যায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিও চোখে পড়ার মত। পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি নগরীর সকল বিপণি বিতানে সিটিএসপি এবং ডিবি’র সদস্যরা সাদা পোশাকে মার্কেটে রয়েছেন। মহিলা পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতিও ব্যাপক হারে রয়েছে। এসএমপি’র এডিস (মিডিয়া) সাইফুল ইসলাম দৈনিক সংগ্রামকে জানান “ঈদ বাজারে পুলিশ ডিউটি চাঁদরাত পর্যন্ত থাকবে। মানুষ নির্বিঘেœ যেন ঈদ বাজার করতে পারে এ জন্য এসএমপি কমিশনার রেজাউল করিম স্যার আইনশৃঙ্গলার উন্নতির জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন এবং দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।”