ভাওয়ালের শাল-গজারি বনের মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়া ব্যস্ততম ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের একটি অংশ যেন এখন প্রকৃতির রঙিন গ্যালারি। সড়ক বিভাজকের ওপর সারি সারি ফুটে থাকা সাদা ও গোলাপি ফুলের সমারোহ পথচারী, চালক ও যাত্রীদের মুগ্ধ করছে। গাজীপুর সদর উপজেলার হোতাপাড়া এলাকায় এই মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা।
দুই ধারে সবুজ শাল-গজারি বন আর মাঝখানে ফুলে সাজানো ডিভাইডার-এমন দৃশ্য যেন ব্যস্ত মহাসড়কের মাঝেও এনে দিয়েছে প্রশান্তির আবহ। দূর থেকে মনে হয়, প্রকৃতি নিজেই যেন পথিকদের স্বাগত জানাচ্ছে। কেউ গাড়ি থামিয়ে ফুলের পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন, কেউ মোবাইলে ভিডিও ধারণ করছেন, আবার বাসের জানালা দিয়েও যাত্রীরা ক্যামেরাবন্দি করছেন এই মুহূর্ত।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে এই দৃশ্য। ফেসবুক, টিকটক ও ইউটিউবে গাজীপুরের গজারী বন বেষ্টিত এই মহাসড়কের ফুলের ভিডিও ও ছবি ভাইরাল হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন শত শত দর্শনার্থী শুধু এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে ছুটে আসছেন। টিকটকার, ইউটিউবার ও বিভিন্ন কনটেন্ট ক্রিয়েটররা নিয়মিত এখানে এসে ভিডিও ধারণ করছেন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপলোড করছেন। ফলে অল্প সময়েই জায়গাটি প্রকৃতিপ্রেমী ও ভ্রমণপিপাসু মানুষের কাছে বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, চান্দনা চৌরাস্তা থেকে কয়েক কিলোমিটার এগোলেই মহাসড়কের দুই পাশে ভাওয়ালের শাল-গজারি বন। তার মাঝখানে প্রায় ১৩ ফুট প্রশস্ত ডিভাইডারে সারি সারি গাছ ও ফুলের বাগান। ব্যস্ত নগর জীবনের একঘেয়েমি ভেঙে এই সবুজ ও ফুলের সমারোহ যাত্রীদের মনে এনে দেয় স্বস্তি ও প্রশান্তি।
ডিভাইডারের বাগানে রয়েছে নীল কাঞ্চন, কামিনী, কৃষ্ণচূড়া, জোড়া টগর, রাধাচূড়া, অগ্নিশ্বর, পলাশ, গৌরীচূড়া, কনকচূড়া, কনকচাঁপা, কদম, কাঠবাদাম, জারুল ও রক্তকরবীসহ নানা প্রজাতির গাছ। ঋতুভিত্তিক এসব ফুলগাছের কারণে বছরের বিভিন্ন সময়েই মহাসড়কজুড়ে দেখা যায় রঙিন ফুলের বাহার।
দর্শনার্থীরা , সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই জায়গার ভিডিও দেখে কৌতূহল হয়ে ছুটে আসছেন। অনেকে বন্ধুবান্ধব ও পরিবার-পরিজন নিয়ে ছুটে আসছেন এই অসাধারণ সুন্দর দৃশ্য দেখতে।
শহরের কোলাহলের মাঝে এমন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য খুব কমই দেখা যায়।
গাজীপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী, মুহাম্মদ তারিক হাসান জানান, মহাসড়ককে দৃষ্টিনন্দন ও পরিবেশবান্ধব করতে ডিভাইডারের ওপর কয়েক হাজার গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে। কোথাও তিন সারিতে, আবার কোথাও এক সারিতে এসব গাছ লাগানো হয়েছে এবং নিয়মিত পরিচর্যা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, এসব গাছ শুধু মহাসড়কের সৌন্দর্যই বাড়াচ্ছে না, বরং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও যানবাহন চলাচলের সময় চালকদের জন্যও আরামদায়ক পরিবেশ তৈরি করছে।
সব মিলিয়ে ব্যস্ত মহাসড়কের মাঝেও শালবনের ফাঁকে ফুটে থাকা ফুলের এই সারি এখন গাজীপুরের এক নতুন সৌন্দর্যচিহ্ন হয়ে উঠেছে, যা পথচারী ও ভ্রমণপ্রেমীদের বারবার টেনে আনছে প্রকৃতির কাছাকাছি।