নাটোর সংবাদদাতাঃ নাটোর সদরের হয়বতপুর ঢাকা কাউন্টারে চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় বাস কাউন্টার মাস্টার মিজানুর রহমানের পায়ের রগ ও হাতের কবজি কর্তনের অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত বাস মাস্টারকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাস কাউন্টার মাস্টার মিজানুর রহমান বিএনপি কর্মী এবং তার ওপর যারা হামলা করেছে তারা ছাত্রদলসহ ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলে জানা গেছে।

এ ঘটনায় সোমবার (২৫ মে) সন্ধ্যায় আহত বাস মাস্টারের বাবা রুস্তম আলী বাদী হয়ে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে নাটোর থানায় মামলা করেছেন। নাটোর থানার ওসি মুনসুর রহমান জানিয়েছেন, এ ঘটনায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ সুমন নামে একজনকে ইতোমধ্যে আটক করেছে। জড়িত সবাইকে গ্রেফতার করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, রোববার (২৪ মে) রাত সাড়ে ১০টার দিকে সদরের হয়বতপুর বাস টার্মিনালের ঢাকা কাউন্টারে চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার প্রতিবাদ করায় বাস কাউন্টার মাস্টার মিজানুরের পায়ের রগ ও হাতের কবজি কেটে ফেলে দুর্বৃত্তরা।

গুরুতর আহত বাস কাউন্টার মাস্টারের স্বজনরা দাবি করেছেন, সদর থানা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সোহেল রানার নেতৃত্বে এই হামলা হয়েছে। পুলিশ প্রশাসনকে ঘটনার ভিডিও ফুটেজ দেখে দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন তারা।

এদিকে পুলিশের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, একই এলাকার সেলিম উদ্দিনের প্রবাসী ছেলেকে এক লাখ টাকা দিয়ে একটি আইফোন কিনে দেওয়ার জন্য টাকা দেয় সদর থানা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সোহেল রানা। টাকা লেনদেনের দীর্ঘদিন পরও আইফোন না দেওয়ায় সম্প্রতি সেলিম উদ্দিনের বাড়িতে দুপক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়। এর জের ধরে রোববার রাতে ছাত্রদল নেতা সোহেল ও তার ঘনিষ্ঠ রাসেলসহ ৬-৭ জন হয়বতপুর বাস কাউন্টারে এসে কাউন্টার মাস্টার মিজানুরের ওপর হামলা চালায়। আহত মিজান জেলা কৃষক দলের সাবেক আহ্বায়ক মফিজ উদ্দিন মাস্টারের অনুসারী। অপরদিকে হামলাকারী সোহেল রানা ও রাসেল জেলা যুবদলের সহসভাপতি কবির হোসেন কাঙ্গালের অনুসারী বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।