শাহজাহান তাড়াশ সিরাজগঞ্জ : পৌষের হাড় কাঁপানো শীতে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে চলনবিলসহ উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলো । গত কয়েক দিন ধরে এখানে সূর্যের দেখা নেই। দিনের বেলাতেও কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়ে থাকছে জনপদ। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়েছে উত্তরের হিমেল হাওয়া। স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে সর্বনি¤œ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশেপাশে থাকলেও ঘন কুয়াশার দাপটে তা অনুভূত হচ্ছে অনেক কম।

প্রকৃতির এই ‘শীত-যুদ্ধে’ বিপর্যস্ত সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে শিক্ষার্থীরা। অথচ অভিযোগ উঠেছে, সরকারি বা বেসরকারি স্তরে যেটুকু শীতবস্ত্র পৌঁছনোর কথা ছিল, তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার হামকুড়িয়া গ্রামের পঁচাত্তর ছুঁইছুঁই লজের আলীর গলায় ঝরে পড়ল একরাশ ক্লান্তি। তিনি বলেন, এমন হাড়কাঁপানো শীতে লাঙল ধরা তো দূরের কথা, খামারের কাজেও হাত দেওয়া যাচ্ছে না। একই অবস্থা খেটে খাওয়া মানুষের। পেটের দায়ে রিকশা নিয়ে রাস্তায় বেরিয়েছেন সোলেমান হোসেন,। কিš‘ কনকনে ঠান্ডায় অবশ হয়ে আসছে হাত। তার কথায়, রিকশার হ্যান্ডেল ধরাই দায়, কিš‘ ঘরে তো খাবার নেই।

চলনবিল অধ্যূষিত সিরাজগঞ্জের তাড়াশে ঘন কুয়াশা ও প্রচন্ড ঠান্ডায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। টানা কয়েকদিন ধরে সূর্যের দেখা নেই। দিন ও রাতে বৃষ্টির মতো কুয়াশা ঝরছে। ঘন কুয়াশা, হিমেল হাওয়া ও তাপমাত্রা কমতে থাকার কারণে সারা দিন-সারা রাত তীব্রশীত অনুভূত হচ্ছে। চলমান শৈত্য প্রবাহের প্রভাবে দিন দিন বেড়েই চলেছে শীতের তীব্রতা। প্রতিদিন সন্ধ্যার পর থেকেই হিমেল হাওয়া বইতে শুর“ করে এবং রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘন কুয়াশা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এতে পুরো চলনবিল এলাকায় শীত জেঁকে বসেছে। শীতের প্রকোপে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন শিশু, বৃদ্ধ, ছিন্নমূল ও নি¤œআয়ের মানুষ। শীত থেকে রক্ষা পেতে তারা ছুটছেন হাটবাজার, ফুটপাত ও শীতের কাপড়ের দোকান গুলোতে।

ফলে উপজেলা সহ আশপাশের এলাকার শীত কাপড়ের দোকান গুলোতে বেচাকেনা উল্লেখ্য যোগ্য ভাবে বেড়েছে। তাড়াশ কৃষি আবহাওয়া পর্যেবক্ষণ কেন্দ্রের পর্যেবক্ষক ফজলুল করিম জানান, গত রবিবার থেকে মঙ্গলবার উপজেলায় সর্বনি¤œ তাপমাত্রা ৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগের দিন শনিবার সর্বনি¤œ তাপমাত্রা ছিল ৯ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাজারে বাহারি রঙ ও ডিজাইনের শীতবস্ত্রের সমাহার দেখা যাচ্ছে। দোকান গুলোতে জ্যাকেট, সোয়েটার, হুডি, ব্লেজার, মোটা কাপড়ের টি-শার্ট, মাফলার, কানটুপি ও হাতমোজা সাজিয়ে রাখা হয়েছে। ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী পোশাক দেখাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন বিক্রেতারা। শহরের মার্কেট ছাড়াও গ্রামের হাটবাজার ও ফুটপাতের দোকানগুলোতে বাড়ছে ক্রেতাদের ভিড়। স্বল্প ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ কম দামে শীতের পোশাক কিনতে এসব দোকানে ভরসা করছেন। ফুটপাতের দোকানগুলোতে ১৫০ টাকা থেকে এক হাজার টাকার মধ্যে বিভিন্ন ধরনের শীতের পোশাক পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া রাস্তার পাশে ভ্যান ও ফুটপাতের দোকানে পুরোনো গরম কাপড় বিক্রিরও ধুম পড়েছে। সন্ধ্যার পর এসব দোকানে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় দেখা যায়। অল্প দামে পুরোনো সোয়েটার, জ্যাকেট, ফুলহাতা গেঞ্জি, মোজা ও মাফলার কিনছেন স্বল্প আয়ের মানুষ। তাড়াশ পৌর শহরে বিক্রেতা করিম জানান, শীতের কারণে নি¤œআয়ের মানুষ থেকে শুর“ করে মধ্যবিত্তরাও ফুটপাতের দোকানে ভিড় করছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুসরাত জাহান বলেন, সরকার থেকে শীতার্ত, দুঃস্থ ও অসহায় মানুষের জন্য যে শীতবস্ত্র (কম্বল) বরাদ্দ পাওয়া গেছে তা উপজেলার বিভিন্ন কওমীয়া, হাফিজিয়া, এতিম খানায়, ভাসমান ও অসহায় দঃুস্থ শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।