বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে পথ হারানো এক বাংলাদেশি মাছ ধরার ট্রলারকে জেলে-মাঝিসহ ধরে নিয়ে গেছে ভারতীয় কোস্ট গার্ড- এমন অভিযোগ উঠেছে। শনিবার রাতের ঘন কোয়াশায় দিকভ্রান্ত হয়ে পড়া ট্রলারটি বাংলাদেশের জলসীমায় অবস্থানকালে ভারতের দক্ষিণ চব্বিশ পরগোনা উপকূলীয় এলাকায় আটকে নিয়ে যাওয়া হয়। আটক হওয়া ট্রলারের নাম ‘আমানা গণি’ (ইঞ্জিন নং ১২২০ কে ০০৮৩৭৭, বিএসটি-২৭৮)।
ফিশারীঘাটের মালিক সৈয়দ নূর জানান, মহেশখালীর ধলঘাট এলাকা থেকে ট্রলারটি গত ১৩ নভেম্বর সকাল ১০টায় মাছ ধরতে সাগরে যায়। ট্রলারে দুইজন মাঝি ও চালকসহ মোট ২৯ জন জেলে ছিলেন। মাঝিরা ফোনে মালিকপক্ষকে জানায় যে তারা ভারতীয় কোস্ট গার্ডের হাতে আটক হয়েছেন। পরে বিষয়টি মৌখিকভাবে সামুদ্রিক মৎস্য অধিদপ্তরকে জানানো হয়েছে। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, আটক ট্রলার ও জেলেরা ভারতের দক্ষিণ চব্বিশ পরগোনা কোস্টাল থানার হেফাজতে রয়েছে। তবে ঠিক কোন অভিযোগ বা কারণে ট্রলারটি আটক করা হয়েছে-তা মালিকপক্ষ নিশ্চিত করে বলতে পারেনি। ভারতে আটক হওয়া জেলে-মাঝিদের মধ্যে রয়েছেন-মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, তার ভাই আবু বক্কর, চালক ফেরদৌস, সায়েদ আলী, বখতিয়ার আলম, শহিদুল্লাহ, আবু ছৈয়দ নূরী, সাইফুল ইসলাম, তাহসীন, সাহাব উদ্দিন, তারেকুল ইসলাম, মিন্নাতু, মোহাম্মদ তারেক, ফুতু আলম, সাজ্জাদ, নেছার আহমদ, সালমান, জসিম উদ্দিন, কালু মিয়া, মিজান, আরাফাত, হারুন, মিঠু, হাসান, পারভেজ ও তৈহিদ। সবার বাড়ি কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলায়।
আটক নেছার আহমদের স্ত্রী সালেহা বেগম জানান, শনিবার রাত সাড়ে ৭টায় সর্বশেষ স্বামীর সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, “ঘন কোয়াশায় পড়ে দিকভ্রান্ত হয়ে ট্রলারটি অজানা দিকে চলে যাচ্ছিল। কি হবে জানি না।” পরে রাত ৯টার দিকে ফোন করলে নেটওয়ার্ক পাওয়া যায়নি। মিঠুর স্ত্রী ডলি আকতার বলেন, “সরকারের কাছে আমাদের অনুরোধ-খুব দ্রুত যেন আমাদের স্বজনদের দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হয়।”এ বিষয়ে জানতে চট্টগ্রাম সমুদ্র মৎস্য অধিদপ্তরের পরিচালক আব্দুস ছাত্তারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।