বাংলাদেশ মাঠপ্রশাসন প্রশাসনিক কর্মকর্তা কল্যাণ সমিতির সাধারণ সভায় কর্মকর্তারা অভিযোগ করে বলেছেন, প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের জন্য প্রণীত চার্টার অব ডিউটিজ সুনির্দিষ্ট ও বিস্তারিত না থাকায় চার্টার অব ডিউটিজ যথাযথভাবে বাস্তবায়নে সমস্যা হচ্ছে। অন্যান্য সব অফিসেই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চার্টার অব ডিউটিজ সুনির্দিষ্ট ও বিস্তারিত আছে।
তারা বলেন, বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়সমূহের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের পূর্বের ন্যায় সুনির্দিষ্ট ও বিস্তারিত চার্টার অব ডিউটিজ প্রণয়নের জন্য গত বছরের ২ ডিসেম্বর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হলেও অদ্যাবধি তা বাস্তবায়িত হয়নি।
গতকাল শনিবার বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়সমূহের প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং বিদায়ী প্রশাসনিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার ও বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলার উপরিচালক, স্থানীয় সরকার মো. বদরুদ্দোজা শুভ ও ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের একান্ত সচিব মো. আল মামুন। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মাঠ প্রশাসন প্রশাসনিক কর্মকর্তা কল্যাণ সমিতি সভাপতি এসএম জাহিদুল ইসলাম। সভা পরিচালনা করেন মোহাম্মদ ইউনুস। সভায় কর্মকর্তারা বলেন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত মধ্যমেয়াদি ৫নং সিদ্ধান্তে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনে ৯ম গ্রেডের একাধিক পদ সৃজন ও সৃষ্ট পদসমূহে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের মধ্য হতে পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণের উদ্যোগ গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়। উক্ত বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে একাধিকবার লিখিত আবেদন করা হয়। সভায় জানানো হয়, মাঠ পর্যায়ের বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়সমূহের ১০ম গ্রেডভুক্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ৮৩০টি পদ বিদ্যমান আছে। বাংলাদেশ সচিবালয়সহ বিভিন্ন দপ্তর, অধিদপ্তর ও পরিদপ্তরে কর্মকর্তাদের ১০ম গ্রেডভুক্ত ২য় শ্রেণির কর্মকর্তাদের ১ম শ্রেণির ৯ম গ্রেডে পদোন্নতির সোপান আছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও রাষ্ট্রীয় জনগুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে অগ্রণী ভূমিকা পালনকারী মাঠপ্রশাসনের ১০ম গ্রেডভুক্ত ২য় শ্রেণির প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ৯ম গ্রেডের ১ম শ্রেণির কর্মকর্তা পদে পদোন্নতির সোপান নেই। সভায় বলা হয়, জেলা প্রশাসক সম্মেলন-২০১৮ এর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মধ্যমেয়াদি ১নং সিদ্ধান্তে ‘মাঠ প্রশাসনে কর্মরত ৩য় শ্রেণি কর্মচারীদের সচিবালয়ের কর্মচারীদের মতো পর্যায়ক্রমে পদোন্নতি করার নিয়োগ বিধি প্রণয়ন করতে হবে’ মর্মে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। তাছাড়া জেলা প্রশাসক সম্মেলন-২০১৯ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দীর্ঘমেয়াদি ৯নং সিদ্ধান্তে ‘পরীক্ষা- নিরীক্ষাক্রমে জেলা এবং উপজেলা প্রশাসনের ৩য় শ্রেণি কর্মচারীদের সহকারী কমিশনার (নন-ক্যাডার) পর্যন্ত পদোন্নতির বিধান করতে হবে’ মর্মে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
জেলা প্রশাসক সম্মেলন ২০২৫ এর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত মধ্যমেয়াদি ৫নং সিদ্ধান্তে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনে ৯ম গ্রেডের একাধিক পদ সৃজন ও সৃষ্ট পদসমূহে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণের উদ্যোগ গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়। উক্ত বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে একাধিকবার লিখিত আবেদন করা হয়। কর্মকর্তা বলেন, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জেলা প্রশাসক সম্মেলন ২০২৫ এর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা সংক্রান্ত কমিটির গত ১৭ আগস্ট সভায় জেলা প্রশাসক সম্মেলন ২০২৫ এর প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে নতুন করে অর্থ বিভাগে প্রস্তাব পাঠানোর জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে দায়িত্ব দেওয়া হয়। প্রধান অতিথির কাছে জেলা প্রশাসক সম্মেলন ২০২৫ এর উল্লিখিত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের সহযোগিতা কামনা করা হয়।