আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে শোকজ

চৌগাছা (যশোর) সংবাদদাতা : যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনের ধানের শীষের প্রার্থী বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাবিরা সুলতানা মুন্নীকে পৃথক দুটি শোকজ করেছেন নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি। মঙ্গলবার (২৭জানুয়ারী) কমিটির প্রধান গোলাম রসুল স্বাক্ষরিত শোকজে আগামী ২৯ জানুয়ারী স্বশরীরে অথবা উপযুক্ত প্রতিনিধির মাধ্যমে লিখিত জবাব দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। চৌগাছা ও ঝিকরগাছা থানার অফিসার ইনচার্জকে প্রার্থীকে কারন দর্শানোর নোটিশ সত্বর জারিপূর্বক জারির প্রতিবেদন কমিটির কাছে জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া

তিতাস (কুমিল্লা) সংবাদদাতা : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণার প্রথম দিনে কুমিল্লা-২ আসনের হোমনা উপজেলায় বিএনপির মনোনীত প্রার্থী কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সেলিম ভূঁইয়ার সমর্থক ও বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল মতিনের সমর্থকদের ধাওয়া-পালটাধাওয়া ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের ১০ জন আহত হয়েছেন। প্রচারণার প্রথম দিন বিকাল ৫টার দিকে হোমনা ওভার ব্রিজের নিচে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল মতিন ও হোমনা উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক জহিরুল হক জহর কর্মী সমর্থকদের একটি গাড়িবহর নিয়ে শ্রিমদ্দি যাচ্ছিলেন। হোমনা ওভার ব্রিজের নিচে পৌঁছালে বিএনপি নেতাকর্মীরা গাড়ি বহরে হামলা করে। এ সময় উভয় দলের নেতাকর্মীরা সংঘর্ষে জরিয়ে পড়ে এবং অন্তত ১০ জন আহত হন।

পুলিশ ও সেনাবাহিনী খবর পেয়ে ঘটনা স্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে হোমনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে যায়।

হোমনা উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ মহিউদ্দিন বলেন, ঘটনার সময় আমি ৫নং ওয়ার্ডের দক্ষিণপাড়ায় মিটিংয়ে ছিলাম। শুনেছি আমাদের বিএনপির প্রার্থী মো. সেলিম ভূঁইয়াকে নিয়ে উসকানিমূলক স্লোগান দিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীর লোকজন শ্রিমদ্দি গ্রামে যাচ্ছিলেন। এ সময় বিএনপির নেতাকর্মীরা উসকানিমূলক স্লোগান দিতে নিষেধ করলে তারা মারামারি শুরু করে; এতে আমাদের একাধিক কর্মী আহত হয়েছেন।

গণসংযোগে হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

মনোহরগঞ্জ কুমিল্লা সংবাদদাতা : ধানের শীষের স্লোগান দিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীর উপর সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন কুমিল্লা ৯ লাকসাম মনোহরগঞ্জ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী সামিরা আজিম দোলা। সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয় ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের প্রচারণার জন্য স্বতন্ত্র প্রার্থী সামিরা আজিম দোলা শুক্রবার দুপুর ১২টায় উপজেলার উত্তর ঝলম ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামে গেলে রহমত উল্লাহর নেতৃত্বে আলআমিন, হিরন, খোকন, বিল্লাল, ইয়ামিন, সোলেমান, কাউসারসহ একদল যুবক ধানের শীষের স্লোগান দিয়ে অতর্কিত হামলা করে। হামলায় রতন, তানভীর, মহসিন, রফিকুল ইসলামসহ সামিরা আজিম দোলার বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন। পরে আহতদের উদ্ধার করে মনোহরগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

স্বতন্ত্র প্রার্থী সামিরা আজিম দোলা বলেন, আমরা নির্বাচনী প্রচরণায় গেলে প্রতিপক্ষের লোকজন আমার নেতাকর্মীদের উপর হামলা করে তাদের আহত করে। তিনি আরো বলেন আমি বিএনপি থেকে ধানের শীষের মনোনয়ন চেয়েছিলাম, দল আমাকে মনোনয়ন দেয়নি। আমার নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষের ভালোবাসায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে বাধ্য হয়েছি। প্রার্থী হওয়ার পর থেকেই আমি এবং আমার নেতাকর্মীদের বিভিন্নভাবে হুমকি ধামকি দেয়া হচ্ছে। আজ সশস্ত্র হামলা করা হয়েছে, আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ এবং হামলাকারীদের দৃষ্টান্ত শাস্তি দাবি করে থানায় অভিযোগ দেয়া হয়েছে। আশাকরি পুলিশ তদন্ত করে অপরাধীর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবে।

এবিষয়ে মনোহরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ শাহিনুর ইসলাম বলেন হামলার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেয়া হবে।

পিভিসি ব্যানার ও ফেস্টুন ব্যবহার

নাটোর সংবাদদাতা: নাটোর-২ (নাটোর সদর ও নলডাঙ্গা) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। দুলু তার নির্বাচনী এলাকায় নিষিদ্ধ পিভিসি ব্যানার ও ফেস্টুন ব্যবহার করে প্রচার কার্যক্রম চালাচ্ছেন, যা নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত আচরণবিধির পরিপন্থী। স্থানীয় সূত্রে ও সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নাটোর শহরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, সদর ও নলডাঙ্গা উপজেলার বাজার-ঘাট ও জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় দুলুর ছবি সম্বলিত পিভিসি ব্যানার ও ফেস্টুন টানানো হয়েছে। এবং নাটোর এন.এস সরকারি কলেজের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে নাটোর সদর ও নলডাঙ্গা নিয়ে গঠিত নির্বাচন পরিচালনা কমিটির ৩৯ নং সদস্য মোছাঃ আজমিরা সুলতানা ধানের শীষের পক্ষে হ্যান্ড বিল বিতরণ এবং ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে ধানের শীষে ভোট চান এমন একটি ভিডিও এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল। অথচ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ এর আচরণ বিধিমালা ২০২৫ এর 'ধারা ৭ এর খ' এবং '১৫ এর খ' মতে আচরণ বিধি লংঘন হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি অনুযায়ী পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর পিভিসি ব্যানার ও ফেস্টুন ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্বাচনী প্রচারণা চালনো যাইবেনা। এ বিষয়ে সচেতন মহল ও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। তারা বলছেন, একজন প্রার্থী যদি শুরুতেই আচরণবিধি লঙ্ঘন করেন, তাহলে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ প্রশ্নবিদ্ধ হয়। দ্রুত এসব অবৈধ ব্যানার ও ফেস্টুন অপসারণ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মীকে মারপিটের অভিযোগ

রাণীনগর (নওগাঁ) সংবাদদাতা: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নওগাঁ-৬ আসনে ভোটের মাঠের উৎতাপ ছড়াতে শুরু করেছে। গত দুই দিন ধরে রাণীনগর উপজেলার ভোট চাওয়াকে কেন্দ্র করে প্রার্থীদের কর্মী সমর্থকদের মধ্যে বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে পক্ষে-বিপক্ষে উত্তেজনার খবর পাওয়া গেছে। এর ধারাবাহিকতায় সোমবার বিকেলে নওগাঁ-৬ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক চারদলীয় জোট সরকারের প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবিরের মোটরসাইকেল প্রতীকের লিফলেট বিতরণ করার সময় তানসেন নামে এক প্রতিবন্ধী যুবককে মারপিটের ঘটনায় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগে বলা হয় এই ঘটনার সাথে জড়িত ধানের শীষ প্রতীকের বিএনপি প্রার্থী শেখ রেজাউল ইসলামের কর্মী, সমর্থকরা। সোমবার বিকেলে উপজেলার পাকুরিয়া খেলার মাঠে এই ঘটনা ঘটে। তানসেন উপজেলার একডালা ইউনিয়নের পাকুরিয়া গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে। স্থানীয়রা তানসিনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করায়। এই ঘটনায় স্বতন্ত্র প্রার্থী আলমগীর কবিরের নির্বাচনী সহ-সমন্বয়ক উপজেলার চকমনু গ্রামের মকছেদ আলীর ছেলে মো: শামীম হোসেন বাদী হয়ে তানসেনের পক্ষে মঙ্গলবার থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে।

আহত যুবক তানসেন জানান, আমি সাবেক প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবিরের মোটরসাইকেল মার্কার লিফলেট বিতরণ করছিলাম। এসময় পাকুরিয়া খেলার মাঠে আমাকে দেখতে পেয়ে লিটনসহ ৪/৫ জন ধানের শীষের কর্মীরা এসে আলমগীর কবিরের দালাল আখ্যা দিয়ে মারধর শুরু করে। স্থানীয়দের সহযোগিতায় আমি হাসপাতালে ভর্তি হই। এ বিষয়ে লিটন জানান, আমরা একটি খেলার অনুষ্ঠানে মাঠে ছিলাম। মাইকে কথা বলার সময় তানসেন মাইকের লাইন খুলে দেয়। পরবর্তীতে আমরা চলে আসতে লাগলে সে রাস্তায় বাধা দেয়। এসময় কয়েক জন তাকে চড়-থাপ্পর মারলেও আমি তাকে মারধর করিনি।

রাণীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল লতিফ জানান, মারপিটের ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ইতিমধ্যে তদন্ত কাজ চলছে। সত্যতা পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

দ্বিতীয় দফা শোকজ

রাণীনগর (নওগাঁ) সংবাদদাতা: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রানীনগর) আসনে বিএনপি প্রার্থী শেখ মোঃ রেজাউল ইসলামকে নির্বাচনী আচারণ বিধি ভঙ্গের অভিযোগে দ্বিতীয় দফায় শোকজ নোটিশ করা হয়েছে। সোমবার নির্বাচনী অনুসন্ধান বিচারিক কমিটির চেয়ারম্যান এবং নওগাঁর সিভিল জজ আদালতের (ধামইরহাট) বিচারক সাথী ইসলাম এ নোটিশ দেন।

নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, এ বিষয়ে ১ ফেব্রুয়ারি সকাল ১১টায় নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির কার্যালয়ে স্ব-শরীরে হাজির হয়ে তাকে লিখিত বাখ্যা জানাতে বলা হয়েছে।

গত ১১ জানুয়ারি নির্ধারিত সময়ের আগে ভোটের প্রচারের অভিযোগে শেখ মোঃ রেজাউল ইসলামকে প্রথম শোকজ করেছিলো নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি।

জনগণের মুখোমুখি

মোংলা সংবাদদাতা: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত হলে বাগেরহাট-৩ সংসদীয় আসন (মোংলা–রামপাল) এলাকায় ঘের দখল, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদক নির্মূলে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন প্রতিদ্বন্দ্বী চার প্রার্থী। তারা জানান, এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই হবে তাদের প্রধান অগ্রাধিকার। পৌর শহরের শ্রমিক সংঘের মাঠে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) মোংলা কমিটির আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘জনগণের মুখোমুখি’ অনুষ্ঠানে এসব অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন বিএনপির প্রার্থী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম, জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা আব্দুল ওয়াদুদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জিল্লুর রহমান এবং জেএসডির প্রার্থী হাবিব মাস্টার।

অনুষ্ঠানে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। সেখানে প্রার্থীরা সরাসরি সাধারণ মানুষের প্রশ্নের উত্তর দেন এবং তাদের মতামত শোনেন। বক্তারা বলেন, গণতন্ত্রের সুষ্ঠু উত্তরণ নিশ্চিত করতে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অবশ্যই জবাবদিহিতার মধ্যে থাকতে হবে।

‘জনগণের মুখোমুখি’ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সুজন মোংলার সভাপতি ফ্রান্সিস হালদার। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক নূর আলম শেখ। এ সময় প্রার্থীরা জনগণের সামনে নিজ নিজ নির্বাচনী ইশতেহার উপস্থাপন করেন এবং এলাকার উন্নয়ন, সুশাসন ও নাগরিক অধিকার রক্ষায় তাদের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।