আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে রাজশাহী বিভাগের ৩৯টি সংসদীয় আসনে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বিভাগীয় প্রশাসন জানিয়েছে, অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। এজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় দেড় লাখ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
গতকাল বুধবার দুপুরে বিভাগীয় কমিশনারের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ বলেন, নির্বাচন ও গণভোট একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। ভোটাররা যাতে নির্ভয়ে ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন সে লক্ষ্যে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে। কোনো ধরনের সহিংসতা, বিশৃঙ্খলা বা নাশকতার চেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে। রাজশাহী বিভাগে রয়েছে ৮টি জেলা (রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, নাটোর, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও জয়পুরহাট) এবং ৬৭টি উপজেলা, ১টি সিটি কর্পোরেশন, ৬২টি পৌরসভা ও ৫৬৫টি ইউনিয়ন। প্রায় ১৮ হাজার ১৫৪ বর্গকিলোমিটার এলাকায় বসবাস করছেন প্রায় ২ কোটি ৩ লাখ মানুষ। চূড়ান্ত ভোটার সংখ্যা ১ কোটি ৬৩ লাখ ৭৭ হাজার ৯৬ জন। মোট ভোটকেন্দ্র ৫ হাজার ২৮৭টি; এর মধ্যে ১ হাজার ৭৬৭টি কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে এবং সেখানে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
এসময় জানানো হয়, নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে বিভাগে ২১৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ৩৯ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। মোট ১ লাখ ৪ হাজার ৬৬ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে। এর মধ্যে সেনাবাহিনী ১০ হাজার, বিজিবি ৪ হাজার ১২৩, রেঞ্জ পুলিশ ১৩ হাজার ৭৯৬, আরএমপি ২ হাজার ৪০৫, র্যাব ১ হাজার ০০৬ এবং আনসার ৭২ হাজার ৭৩৬ জন। প্রতি আসনে গড়ে ২ হাজার ৬৬৮ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। ৫ হাজার ২৬৬টি কেন্দ্রে সিসিটিভি ও ২ হাজার ৩১৮টি বডি ওর্ন ক্যামেরা স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। আরো জানানো হয়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে জোরদার অভিযান চালানো হয়েছে। গত বছরের ১ জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ৫৬টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশ ৭৪টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৪৩৩টি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে। একই সময়ে বৈধ অস্ত্র জমা পড়েছে ৪ হাজার ৫৯৪টি। নির্বাচনকালীন গোয়েন্দা নজরদারি, টহল ও চেকপোস্ট কার্যক্রম আরো জোরদার করা হয়েছে। এ ছাড়া বিভাগীয় পর্যায়ে কোর কমিটি সক্রিয় রয়েছে এবং জেলা-উপজেলা পর্যায়ে নিয়মিত সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে জয়েন্ট অপারেশন সেল চালু হয়েছে, যা ভোট-পরবর্তী সময় পর্যন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করবে। পাশাপাশি মিডিয়া সেল থেকে নিয়মিত হালনাগাদ তথ্য প্রচার করা হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশা প্রকাশ করা হয়েছে, সকলের সহযোগিতায় রাজশাহী বিভাগের ৩৯টি আসনে শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন এবং গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।